[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



নাটকীয়তা : অস্ত্রের মুখে প্রকৌশলীর বিয়ে!


প্রকাশিত: October 29, 2016 , 1:41 am | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


বিয়ে-8-592x350

মৃদৃল ব্যানার্জি, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি : প্রেম প্রেম খেলা। নানা ধরণের তেলেসমাতি। ভয় আর ভীতির হুমকি। কখনও গরম। আবার কখনও নরম। দিনভর নাটকীয়তা। প্রেমিককে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে মারধর। এক থানা থেকে অন্য থানায় টানাহেঁচড়া। অবশেষে অস্ত্রের মুখে বিয়ে।

প্রেমিক সওজ লালমনিরহাটের বিভাগীয় প্রকৌশলী। নাম সুলতান মাহমুদ। প্রেমিকা এলজিইডির প্রধান কার্যালয় ইউজিআইআইপি’র কলসালটেন্ট তাহেরা খাতুন।

তাদের বিয়ে নিয়ে ঘটে গেছে লঙ্কাকাণ্ড। এলাকা জুড়ে তুলকালাম। দলে দলে ওই এলাকায় মানুষের ঢল। তাদের বিয়ের দেনমোহর ২০ লাখ টাকা।

ভাড়াটে সন্ত্রাসীর অস্ত্রের মুখে অসহায় হয়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন প্রকৌশলী। জানা গেছে, রংপুর শহরের সাতগাঁও মিন্ত্রিপাড়ার মৃত আব্দুল লতিফের কন্যা তাহেরা খাতুন। চাকরি করেন এলজিইডিইর প্রধান তত্ত্বাবধায়ক কার্যালয়ের ইউজিআইআইপি-৩ প্রকল্পের কনসাল্টটেন্ট পদে।

তাহেরার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে সুলতানের। একপর্যায়ে প্রেম গড়ায় শারীরিক সম্পর্কে। তাহেরার নানা কার্যকলাপের কারণে দূরত্ব তৈরি হয় তাদের। তাহেরা বিয়ের প্রস্তাব দেয় মাহমুদকে। ব্যস্ততার কারণে সময় চায় মাহমুদ।

কিন্তু রাজি নন তাহেরা। কৌশল খুঁজতে থাকেন কিভাবে মাহমুদকে বশে আনা যায়। গত ২৬শে অক্টোবর সন্ত্রাসী ভাড়া করেন তাহেরা। লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়কের কাকিনা এলাকায় এলে তাহেরার ভাড়া করা সন্ত্রাসীরা মাহমুদের ওপর হামলা করে। বেধড়ক মারধর করে তাকে।

পরে কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ সাজ্জাত হোসেন তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসেন। কালীগঞ্জ থানায় পুলিশের সহায়তায় মামলার ভয় দেখিয়ে বিয়ের চাপ দেয়া হয়। সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত কোন সমাধান না হওয়ায় তাদের লালমনিরহাট সদর থানায় পাঠানো হয়। শুরু হয় নানা নাটকীয়তা।

পুলিশের সামনে মাহমুদকে মারধর করে সন্ত্রাসীরা। তাহেরা মামলার ভয় দেখিয়ে বিয়ে করতে বাধ্য করে। পুলিশের চাপে বিয়েতে রাজি হলেও দেনমোহর নিয়ে বিপত্তি বাধে। ওই প্রকৌশলী বিয়েতে ১ লাখ টাকা দেনমোহরানায় রাজি হলেও তাহেরা খাতুন এক কোটি টাকা দাবি করেন।

এ নিয়ে বাধে হট্টগোল। সন্ত্রাসীরা পুলিশের সামনে প্রকৌশলীকে জোর করে ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরানা করতে বলে। এতেও রাজি না হলে পরে সাংবাদিকদের হস্তক্ষেপে ২০ লাখ টাকা ধার্য হয়। বিয়ে হয় কাজী অফিসে।

পুলিশ প্রহরায় মাহমুদকে কাজী অফিসে নিয়ে অপদস্থ করা হয়। সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. শফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য নয়। তবে উভয় মধ্যে সমোঝতার সুযোগ দেয়া হয়েছে।

হামলার শিকার প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান,
আমাকে সন্ত্রাসী দিয়ে হামলা করে ব্ল্যাকমেইল করা হয়েছে। আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে অস্ত্র দেখিয়ে বিয়েতে রাজি করানো হয়েছে।

এদিকে তাহেরা খাতুন জানান, ওই প্রকৌশলীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক ছিল। বিয়ে করতে বললে টালবাহানা শুরু করে। অনেক দিন ধরেই সে আমাকে নিয়ে ইনিয়ে বিনিয়ে নানা অপকর্ম করেছে।

ঢাকা, ২৯, অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএম