[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



টাইগারদের ঝড়: ঐতিহাসিক জয়!


প্রকাশিত: October 30, 2016 , 6:05 pm | বিভাগ: আন্তর্জাতিক খেলা,আপডেট,স্পোর্টস


Moira+cl

স্পোর্টাস লাইভ: ঐতিহাসিক জয়। উল্লাসের, গৌরবের দিন। আনন্দের বিকেল। এ বিজয়ের ভিন্ন আনন্দ। ভিন্নতার নতুন মাত্রা। ক্রিকেট দুনিয়ায় আবারও মাথা উচুঁ করে দাঁড়ালো বাংলাদেশ। বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। কেবল বীর বাংলাভাষাভাষি নয় এযেন ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে হুংকার। তারা ক্রিকেটের সবচেয়ে আদি দল। তাদের অভিজাত্যের ইতিহাস। সেই ইংল্যান্ডকে আজ টেস্টে হারিয়ে দিল বাংলাদেশ।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডকে ১৬৪ রানে অল আউট করে মিরপুর টেস্ট জিতল ১০৮ রানে। এর আগে জিম্বাবুয়ে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জিতলেও এই জয়ের মাহাত্ম্য অন্য রকম। এ সময়ের অন্যতম সেরা দলকে হারানো বাংলাদেশকে টেস্ট ক্রিকেটেও এনে দেবে নতুন আত্মবিশ্বাস।

মেহেদী মিরাজ শুরুটা করেছিলেন । শেষটা টেনে দিলেন সাকিব আল হাসান। সাবাস সাকিব বাহিনী। এই দুইয়ের ঘূর্ণিতে পড়েই আর দাঁড়াতে পারল না ইংল্যান্ড। ৭৭ রানে ৬ উইকেট মিরাজের। ৪৯ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন সাকিব। বিনা উইকেটে ১০০ রান তুলে ফেলা ইংল্যান্ড শেষ পর্যন্ত আর ৬৪ রান যোগ করতেই অল আউট হয়ে গেল। এক সেশনেই ইংল্যান্ডের ১০ উইকেট তুলে নিল বাংলাদেশ।

অথচ চা বিরতির আগ পর্যন্তও কী অসহায় না লাগছিল বাংলাদেশ দলকে। ‘একটা উইকেট লাগবে, একটা উইকেট’। স্টাম্পের মাইক্রোফোন থেকে বারবার ভেসে আসছিল মুশফিকের আকুতি। একটা উইকেট পড়লেই যে ছন্দটা কেটে যায়। যে ছন্দে অনায়াসে বিনা উইকেটে ১০০ তুলে ফেলল ইংল্যান্ড!

সেই একটা উইকেট যখন পড়ল, শুরু হয়ে গেল উইকেটের বৃষ্টি; যা আর থামাতে পারেনি ইংল্যান্ড। দুই ইংলিশ ওপেনার ফিফটি করেছেন। অ্যালিস্টার কুক ৫৯, বেন ডাকেট ৫৬। এ ছাড়া দুই অঙ্ক ছুঁয়েছেন কেবল বেন স্টোকস (২৫)। বাকি আট ব্যাটসম্যান মিলে যোগ করেছেন মাত্র ১৮ রান!

একটা উইকেট পড়লেই ছন্দ যে কেটে যেত, সেটা বোঝা গেল চা বিরতির পর করা বাংলাদেশের দুই ওভারের প্রথম দুই বলে। প্রথমে মিরাজ, এরপর সাকিব। এই জোড়া আঘাতেই আশা জাগল বাংলাদেশের। কুকের সঙ্গে ওপেনিংয়ে ১০০ রান এনে দেওয়া ডাকেট ফিরলেন, খানিক পরে জো রুটও (১)। এরপর নিজের ১৫তম ওভারে মিরাজ একাই জোড়া আঘাত হানলেন। গ্যারি ব্যালেন্স (৫) ও মঈন আলী (০) ফিরলেন পরপর। মিরাজের পরে ওভারে আবারও উইকেট! এবার ফিরলেন একপ্রান্ত আগলে রাখা কুক।

miraj

শুরুতে কুক আর ডাকেট মিলে কিন্তু বেশ ভোগাচ্ছিলেন। ২৭৩ রানের কঠিন লক্ষ্যটা তখন মনে হচ্ছিল কী সহজ! বিশেষ করে ডাকেট সুইপ ও রিভার্স সুইপে বাংলাদেশি স্পিনারদের লাইন-লেংথ এলোমেলো করে দিয়েছেন। তাঁর কারণেই থিতু হতে পারেনি স্পিনাররা। মাহমুদউল্লাহ তখন হাত কামড়াচ্ছিলেন ইনিংসের পঞ্চম ওভারেই ডাকেটের সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন বলে।

কিন্তু ওই ‘একটা উইকেটে’র আঘাতই ডমিনো এফেক্ট এনে দিল। বিনা উইকেটে ১০০ থেকে ৫ উইকেটে ১২৭। মাত্র ২৭ রানের মধ্যে প্রথম ৫ ব্যাটসম্যানকে হারাল ইংল্যান্ড।
বারবার উদ্ধার করা ইংলিশ লোয়ার-মিডল অর্ডার এবারও ভোগানোর ইঙ্গিত দিচ্ছিল। স্টোকস আর বেয়ারস্টো মিলে যখন ২২ রান তুলে ফেললেন সপ্তম উইকেট জুটিতে। বেয়ারস্টোকে ফিরিয়ে চার ইনিংসে তৃতীয়বারের মতো পাঁচ উইকেট পূর্ণ করলেন।

এখান থেকেই শুরু সাকিবের জাদু। সাকিবের এক ওভারেই ফিরলেন স্টোকস, আদিল রশিদ ও আনসারি। মিরাজ শেষটা টেনে দিলেন স্টিভেন ফিনকে এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে। উৎ​সবে মাতোয়ারা বাংলাদেশ!

চট্টগ্রাম টেস্টের ২২ রানের আক্ষেপ কি ঘুচল? ১৩ বছর ধরে পুষে রাখা মুলতানের সেই কষ্টও? চট্টগ্রামে ২৩ রানের দূরত্বটা ঘুচিয়ে দিতে পারলে কিন্তু সিরিজের ফলটা ২-০ হতো!

ঢাকা, ৩০ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এএম