[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



হকার উচ্ছেদে গুলি: দুই ছাত্রলীগ নেতার আমলনামা


প্রকাশিত: October 31, 2016 , 9:56 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


dcc south

তামিম চৌধুরী: হকার উচ্ছেদে গুলি। গ্রেপ্তারে উদ্যোগ নেই। কোন মামলাও নেয়নি পুলিশ। তবে ছাত্রলীগের ওই দুই নেতার ব্যাপারে অনুসন্ধানে মিলেছে তাদের আমল নামা। কিভাবে এরা ছাত্রলীগে এসেছে এ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকার নেতা-কর্মীরা। এনিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। দেশ-বিদেশে তোলপাড় চলছে। তবে পুলিশ ও ছাত্রলীগ দোষী হলে তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

গুলিস্তানে অবৈধ দোকান উচ্ছেদের সময় মহানগর ছাত্রলীগের দুই নেতা অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করেছিলেন। তাঁদের গ্রেপ্তারের ব্যাপারে পুলিশ তেমন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ বিষয়ে কোনো মামলা বা জিডিও হয়নি। শুধু হকার উচ্ছেদের বিষয়ে জিডি করেই বসে আছে পুলিশ।

মহানগর ছাত্রলীগের দুই নেতার প্রকাশ্যে অস্ত্র ব্যবহারের পর কী ব্যবস্থা নিয়েছেন—জানতে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছি। এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি করা হবে। তদন্তে দোষী প্রমাণ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে পুলিশ জানায়, ছাত্রলীগের নেতা সাব্বির হোসেন ও আশিকুর রহমান কোথায় ওই অস্ত্র পেয়েছিলেন, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

গত বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) ভ্রাম্যমাণ আদালত এই উচ্ছেদ অভিযান চালান। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা সাব্বির ও আশিকুর পিস্তল ও রিভলবার দিয়ে পুলিশ-র‍্যাবের সামনেই হকারদের ধাওয়া করেন। ফাঁকা গুলি ছোড়েন। সাব্বির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও আশিকুর ওয়ারী থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক। উচ্ছেদ অভিযানের সময় হকারদের সঙ্গে ডিএসসিসির কর্মচারী ও একদল যুবকের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

মতিঝিল বিভাগের উপকমিশনারের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত উপকমিশনার তারেক বিন রশিদ বলেন, সাব্বির ও আশিকুরের ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। পুলিশের একাধিক দল এই অস্ত্র ব্যবহারের ব্যাপারে অনুসন্ধান করছে। আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধ হলে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর অস্ত্র বৈধ হলেও অবৈধভাবে ব্যবহারের জন্য তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

জানা গেছে, পুরান ঢাকার সিদ্দিকবাজারে সাব্বিরের বাসা। তিনি স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ধানমন্ডি ক্যাম্পাসের আইন বিভাগের ছাত্র। আর আশিকুর ওয়ারীর র‍্যাঙ্কিন স্ট্রিটে থাকেন। তিনি ওয়ারীর একটি কলেজ থেকে এবার উচ্চমাধ্যমিক পাস করেছেন।

সিদ্দিকবাজার ও র‍্যাঙ্কিন স্ট্রিটে এবিষয়ে জানতে গেলে এলাকাবাসী এবং আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের স্থানীয় কয়েকজন নেতা-কর্মী বলেন, সাব্বির ও আশিকুরের রিভলবার ও পিস্তলের লাইসেন্স নেই। তাঁদের আগ্নেয়াস্ত্র অবৈধ। ছাত্রলীগের নেতা হওয়ার পর তাঁদের হাতে এই অবৈধ অস্ত্র এসেছে। তাঁরা প্রকাশ্যে এসব আগ্নেয়াস্ত্র বহন করেন। তাই এলাকাবাসী ভয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পান না। কথা বলে লাভ কি? মারতে তো আর কেউ চায় না।

এলাকাবাসি জানায়, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেনের ব্যক্তিগত কার্যালয় ১৩১ নম্বর সিদ্দিকবাজারের রোজ মেরিনাস মার্কেটের দ্বিতীয় তলায়। ওই কার্যালয়ে গেলে কার্যালয়টি তালাবদ্ধ দেখা যায়। সিদ্দিকবাজারের স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, এক-দেড় বছর আগেও সাব্বিরকে তাঁরা চিনতেন না।

মহানগর দক্ষিণের নেতা হওয়ার পর তিনি সিদ্দিকবাজার এলাকার মার্কেট থেকে চাঁদাবাজি শুরু করেন। এলাকায় প্রায়ই সঙ্গীদের নিয়ে মোটরসাইকেল মহড়া দেন। তারা ৪০/৫০ জনের একটি গ্রুপ রয়েছে। ওই গ্রুপের সদস্যদের দিয়ে সাব্বির ও আশিকুর বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে চাঁবাজি করে। এছাড়া বিভিন্ন মার্কেট ও ব্যবসায়িদের কাছেও এরা দল বেঁধে চাঁদাবাজি করে বলে এলাকাবাসি জানিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ও যুবলীগের ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের কয়েকজন নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর সাব্বির একটি দোকান দখল করে কার্যালয় নির্মাণ করেন। এখানেই তিনি কর্মী-বাহিনী নিয়ে নিয়মিত আড্ডা দেন। তার সঙ্গে ভয়ে কেউ উচ্চ বাচ্য করেন না।

অস্ত্রের লাইসেন্স না থাকলেও কোথায় অস্ত্র পেলেন—জানতে চাইলে সাব্বির হোসেন কোনো মন্তব্য না করে ফোন কেটে দেন। আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে যোগাযোগ করা হলে সাব্বির বলেছিলেন অস্ত্রের প্রসঙ্গটি এড়ানো যায় কি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বংশাল থানার ওসি নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, সাব্বিরের বিরুদ্ধে থানায় কোনো মামলা নেই। তাঁর অবৈধ অস্ত্রের খোঁজ পাওয়া গেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ওয়ারীর স্থানীয় লোকজন জানান, ওয়ারীসংলগ্ন কাপ্তানবাজার এলাকায় আশিকুর তাঁর সহযোগীদের দিয়ে চাঁদাবাজি করান। তবেএখন তাঁকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তাঁর বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।

ওয়ারী থানার ওসি তদন্ত সেলিম আহমেদ বলেন, আশিকুরের বিরুদ্ধে খোঁজখবর করা শুরু হয়েছে। থানায় তাঁর বিরুদ্ধে কেউ চাঁদাবাজির অভিযোগ করেননি। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে মামলা থাকার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে জানতে পেরেছি এ ব্যাপারে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে।

অস্ত্র প্রদর্শনকারী ছাত্রলীগের সেই দুই নেতা বহিষ্কার দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাব্বির হোসেন ও ওয়ারী থাকা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আশিকুর রহমানকে বহিষ্কার করা হয়েছে। রোববার ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক সভায় তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. সাইফুর রহমান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, মো. সাব্বির হোসেন (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ) ও মো. আশিকুর রহমানকে (সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ওয়ারী থানা শাখা) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলিস্তানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের হকার উচ্ছেদ অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করেন এই দুই ছাত্রলীগ নেতা। পরদিন গণমাধ্যমে তাদের ছবি প্রকাশ পায়। এরপর তাদের বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় ছাত্রলীগ।

ঢাকা,৩১ , অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএসটি