[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



জাবিতে যৌন হয়রানির অভিযোগের বিচার দাবী, ছাত্রী চুপ!


প্রকাশিত: November 1, 2016 , 9:29 am | বিভাগ: আপডেট,ক্যাম্পাস,খবর,ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


JU

জাবি লাইভ: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) যৌন হয়রানির পাল্টপাল্টি অভিযোগ চলছে। ছাত্র বলেছে ওই ছাত্রীর অভিযোগ মিথ্যা। আমার জীবন নিয়ে সে খেলছে। আমি এর সুষ্টু বিচার চাই। আবার ছাত্রী বলেছে, আমার ইজ্জত সম্মান নষ্ট করেছে ওই ছাত্র। তবে পরবর্তিতে যদিও তা সে উঠিয়ে নিয়েছিল। সংশ্লিস্টরা বলছেন, কে সত্য কে মিথ্যা এনিয়ে একদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পড়েছে বেকায়দায়।

অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে চলছে তোলপাড়,হৈচৈ। তবে ক্রমেই দুটি পক্ষ হতে শুরু করেছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। এ বিষয়ে প্রশাসন জোড় তদন্ত শুরু করেছে।

মিথ্যা অভিযোগ তুলে জীবন বিপর্যস্ত করা হয়েছে দাবি করে যৌন হয়রানির অভিযোগকারী ছাত্রীর বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ দিয়ে বিচার দাবি করেছেন জাহাঙ্গীরনহগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০ ব্যাচের এক ছাত্র। ঘটনাটিকে মিথ্যা ও সাজানো নাটক দাবি করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে ভিসি প্রফেসর ড. ফারজানা ইসলামের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এস এম আশিক আহমেদ নামের ওই ছাত্র।

সংশ্লিস্টরা জানান, গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইতিহাস বিভাগের এক ছাত্রী এই ছাত্রের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলে। সে সময় বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। পরবর্তীতে ওই ছাত্রী তার অভিযোগ তুলে নেন। আশিকের দাবি, বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ায় তার সম্মানহানি হয়েছে। বিভাগের শিক্ষক থেকে শুরু করে, সহপাঠীসহ ক্যাম্পাসের বন্ধুবান্ধবরাও করছে দুর্ব্যবহার।

এদিকে এমন অভিযোগের খবর শুনে পরিবার থেকেও আসছে নানান চাপ। সব মিলিয়ে মানসিক দুশ্চিন্তা আর চরম দুরবস্থায় দিন যাচ্ছে তার। সার্বিক অবস্থা থেকে পুনরুদ্ধারের জন্য হয়রানির বিচার দাবি করছেন তিনি। এ জন্য তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর বিচার দাবি করেন। এ বিষয়ে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের প্রধান প্রফেসর ড. রাশেদা আখতার ক্যাম্পাসলাইভকে জানান, নিজেদের মধ্যে সমঝোতা সাপেক্ষে দু’জনই তাদের অভিযোগপত্র তুলে নিয়েছে।

তাই সেল থেকে আর তদন্ত করা হয়নি। পরবর্তীতে আবার ওই ছেলেটি অভিযোগ দিয়েছে। বিষয়টি নিপীড়ন বিরোধী সেলে আলোচনা সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে ওই ছাত্রের পক্ষে ক্রমেই সংগঠিত হওয়ার দানা বাধঁছে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়। কেন তাকে হয়রানি করা হলো, কেন তাকে পরিবার ও সমাজের চোখে দোষী করা হলো এর হিসাব ও বিচার চান আশিক। তার সাফ কথা আমি আমার দাবী নিয়ে এগিয়ে যাব। বিচার দাবী করে যাব। বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমার কাজ আমি চালিয়ে যাব।

জানাগেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশ আশিককে সহযোগিতা আশ্বাস দিয়েছে।

যে অভিযোগ তুলে নেয়েছিল:
ওই ছাত্রীর ভাষ্য, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের (৪০ তম ব্যাচের) মাস্টার্সে অধ্যয়নরত আশিক আহমেদ সিজার আমাকে নানা সময়ে ফোন ও ফেসবুকে বিরক্ত করে আসছিল। অতঃপর একদিন চা খাওয়ার আমন্ত্রণ জানালে আমি সেখানে উপস্থিত হলে তিনি আমার সাথে অনৈতিক আচরণ করেন। আমি তাকে বাধা দিলে তিনি আমাকে জোরে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন।

আমি চিৎকার করার চেষ্টা করলে তিনি আমার মুখ চেপে ধরেন। আমি নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি বারবার আমাকে ফোনে বিরক্ত করে চলছিলেন।’

অভিযোগপত্রে ওই ছাত্রী আরও বলেন, আমি তাকে ফোন করে ডেকে আমার হলের সামনে আসতে বলি ঘটনার মীমাংসা করতে। তিনি আমাকে হাঁটতে হাঁটতে সামনে এগিয়ে নিয়ে পুনরায় যৌন হয়রানির চেষ্টা করেন। আমার ওড়না ধরে টানাটানি করেন। এ পর্যায়ে আমার সহপাঠীরা উপস্থিত হলে তিনি পালিয়ে যান। এরপর আমার সহপাঠীরা আমাকে হলে ফিরিয়ে দিয়ে আসেন।’

এছাড়া লিখিত অভিযোগে ওই ছাত্রী নিজের নিরাপত্তা ও এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ঢাকা, ০১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএসটি