[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



মিরাজের জীবনের যে কথা কেউ জানে না! (ভিডিও)


প্রকাশিত: November 2, 2016 , 5:07 am | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,স্পোর্টস


miraj4
শান্তনা চৌধুরী, বিশেষ প্রতিনিধি: মিরাজ। একটি নাম। একটি সুক্ষ্ণ প্রতিভা। সাদা মাটা পরিবার। কোন ভাবে দিন যায়। রাত আসে। টানাটানির সংসার। সমাজে মাথা উচু করে দাড়াঁবার সাহস একেবারেই ছিলনা। তবুও জীবন থেমে থাকেনি। গাড়িচালক বাবা চাইতেন ছেলে পড়ালেখা করুক। বড় হোক। কিন্তু রূপসাপাড়ের তরুণের জীবনের চিন্তা ছিল অন্য। একেবারেই পিচ্চি বেলাতে বল-ব্যাট হাতে তুলে নিয়েছিল সে। তার স্বপ্ন ছিল একদিন লোকে তাকে চিনবে। কেউ হয়তো আর নাম বিকৃতি করে ডাকবে না।

জীবনের শুরুটা তার রূপকথার মতো হয়নি। পরতে পরতে ছিল না কোনো রোমাঞ্চ। গল্পটা হয়তো বাংলাদেশের আর আট-দশটা পরিবারের মতোই। । বাবার পছন্দ ছিল না ক্রিকেট বিলাসিতা। কখনও কখনও বেদম মারধরও করেছেন ছেলেকে। কিন্তু এখন কি বলছেন জালাল হোসেন। ম্যাজিক বয় মেহেদী হাসান মিরাজ।

মিরাজের বাবা বললেন, প্রথম থেকেই আমি তার ক্রিকেট খেলাকে সমর্থন করতাম না। আমি গরিব মানুষ, আর সবার মতো আমিও চাইতাম ছেলে ভালো পড়ালেখা করে সরকারি চাকরি করুক। ক্রিকেট খেলে যে সে এতদূর আসবে এটাতো আমার কল্পনাতেও ছিল না। তিনি বলেন, মিরাজের বাবা। দুই সপ্তাহের টেস্ট ক্যারিয়ার মিরাজের জীবনটা এখন অনেকটাই বদলে দিয়েছে। ক্রিকেট তার জীবনে এসেছে আশীর্বাদ হয়ে। তবে ১৯ বছর বয়সী এই তরুণের পরিবর্তনের সূচনা বহু আগে। যখন তিনি নজরে পড়েন স্থানীয় কোচ আল মাহমুদের। বাবার রুদ্রমূর্তির কথা বলতেই কোচ বল-কেডস কিনে দেন মিরাজকে। শুরু হয়ে যায় এক বিস্ময় বালকের অন্য জীবনের যাত্রা।

মেহেদী হাসান মিরাজের উত্থান অবশ্য একেবারে নাটকীয় নয়। অনূর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন তিনি। ব্যাটে-বলে নৈপুণ্য দেখিয়ে হন টুর্নামেন্ট সেরা। তবে টেস্ট অভিষেকের পর দুই টেস্টে ১৯ উইকেট। কোনো কিছুর সঙ্গেই তুলনা চলে না এর। ইংল্যান্ড দলের জন্য এক সারপ্রাইজ প্যাকেজ হয়েই ধরা দেন মিরাজ। জন্ম বরিশালে হলেও মিরাজের পরিবার ১৬ বছর ধরে বাস করছেন খুলনায়।

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের তার বাসা এখন যেন এক আনন্দবাড়ি। বিআইডিসি সড়কের নর্থ জোনের ৭ নং প্লটে বৃহত্তর বরিশাল কল্যাণ সমিতির অফিসের পেছনে সামান্য একটু জায়গা নিয়ে তৈরি করা টিনের ভাড়া বাসা মিরাজদের। ঘরের সামনে বাঁশের চাটাই দিয়ে বেড়া দেয়া এবং দুই পাশ ও পেছনের দিকে টিন দিয়ে বেড়া দেয়া। ঘরের চালও তৈরি করা টিন দিয়ে। ছোট ছোট দু’টি রুম রয়েছে তাদের।

miraj3

একটি রুমের শোকেসের ওপরে এবং ভেতরে মিরাজের পাওয়া বিভিন্ন ট্রফি ও মেডেল রাখা। জায়গার অভাবে অনেক ট্রফি ও মেডেল অগোছালোভাবে শোকেসের মধ্যে একটি তাকে রাখা রয়েছে। মিরাজরা দুই ভাইবোন। মিরাজের বোনের নাম রুমানা আক্তার মিম্মা। মিম্মা নগরীর দৌলতপুরের সরকারি বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে পড়ছেন। আর মিরাজ এ বছর এইচএসসি পাস করেছে। মিরাজ ছোটবেলা থেকেই ছিল ক্রিকেটপাগল। যখন আসমা সরোয়ার স্কুলে প্রাইমারিতে পড়তো তখন থেকেই ক্রিকেট খেলা শুরু করে।

তারপরে হাজী শরীয়তুল্লাহ মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং সর্বশেষ দৌলতপুর দিবা/নৈশ কলেজে পড়ালেখা করছে। মা মিনারা বেগম একজন গৃহিণী। পিতার বাধা থাকলেও মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল মিরাজের ক্রিকেট জীবনের শক্তি। মা মিনারা বেগম বলেন, ক্রিকেট ভালো না বুঝলেও ছেলেকে দেখার সুযোগ তিনি ছাড়েন না। দিনভর ছেলের খেলা দেখেছেন তিনি। ছেলের ধারাবাহিক সাফল্যে তিনি সব থেকে বেশি খুশি। যা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলে জানান তিনি। সে আরো ভালো করুক, দেশের সেরা খেলোয়াড় হোক, আল্লাহর কাছে এটাই কামনা করেন তিনি।

মিরাজের বাসায় কথা হয় তার পিতা জালাল হোসেনের সঙ্গেও। তিনি বলেন, ‘ছেলের এই সাফল্যে শুধু খুলনা নয়, সারা দেশে আনন্দের বন্যা বইছে। মিরাজ যে স্বপ্ন নিয়ে খেলতে নেমেছে সে স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আল্লাহর কাছে এর জন্য শুকরিয়া জানাই। আমি টিভিতে ছেলের খেলা দেখেছি। এই সাফল্য যেনো ধারাবাহিক হয় সে জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন। তিনি আরো জানান, গরিব গাড়িচালক বাবা সংসারের দৈন্যতাকে খুব ভয় পেতেন।

ছেলের অনিশ্চিত জীবনের শঙ্কায় বার বার ক্রিকেট খেলতে বাধা দিতেন। বললেন, ‘ছোট বেলা থেকে মিরাজ আমাকে ফাঁকি দিয়ে ক্রিকেট খেলতে যেতো। আমাকেই সে বেশি ফাঁকি দিয়েছে। স্কুল থেকে চুপি চুপি ক্রিকেট খেলতে মাঠে চলে যেতো আল মাহমুদের (প্রশিক্ষক) সঙ্গে। কতবার খুঁজে খুঁজে বাড়িতে ধরে আনতে হয়েছে তাকে।’ আজ সেই ছেলের এমন অভাবনীয় সাফল্যে আনন্দে আত্মহারা পিতা জালাল হোসেন।

কৃতজ্ঞতা জানালেন এক সময়ের দারুণ অপছন্দের মিরাজের সেই ক্রিকেট প্রশিক্ষকের প্রতি।
খালিশপুর কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমির প্রশিক্ষক মো. আল মাহমুদের হাত ধরেই মিরাজের ক্রিকেট যাত্রা শুরু। তিনি জানান, মিরাজের মধ্যে ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটে মারকুটে ভাব ছিল। ওর মধ্যে ক্রিকেটের সম্ভাবনা দেখেই তাকে প্রশিক্ষণ দিতে ভালো লাগতো। অসীম ধৈর্য আর চেষ্টায় সেই মিরাজ হয়েছেন আজকের মিরাজ। মিরাজের সাফল্যে অনুপ্রাণিত উল্লসিত সব বয়সী মানুষ।

miraz5

কাশীপুর ক্রিকেট একাডেমির সভাপতি শেখ খালিদ হাসান বলেন, ২০০৭ সালে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা আয়োজিত অনূর্ধ্ব-১৩ খেলায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে প্রথম পুরস্কার ওঠে মিরাজের হাতে। বর্তমানে ওই একাডেমির ক্রিকেট প্রশিক্ষক ও দলের ক্যাপ্টেন মিরাজ। মিরাজের প্রতিভা আছে। সুযোগ পেলে সে একসময় আরো ভালো খেলোয়াড় হয়ে উঠবে। মিরাজের সাবেক আরেক প্রশিক্ষক মো. শাহনেওয়াজ বলেন, মিরাজ ছোটবেলা থেকেই অসম্ভব ভালো খেলতো।

বিভিন্ন সময় তাই ওকে হায়ারে অনেকে খেলতে নিয়ে যেতো। তখনই বুঝেছিলাম মিরাজ একদিন ক্রিকেট বিশ্বে জায়গা করে নেবে। আজ সে স্বপ্ন পূরণ হলো। আমরা গর্বিত মিরাজকে নিয়ে।

মিরাজের বোন রুমানা আক্তার মিম্মা বলেন, ‘ভাইয়া যে বিশ্বরেকর্ড করেছে তার আনন্দ ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না। তিনি বলেন, যুব বিশ্বকাপের খেলার চেয়েও এই টেস্টের গুরুত্ব অনেক বেশি। ঘরে টিভির সামনে বসে খেলা দেখলেও যেন মাঠে বসেই খেলা দেখেছেন বলে মনে হয়েছে তার।’ মিরাজের চাচা মো. ইউসুফ বলেন, ‘মিরাজের টেস্ট অভিষেক উপলক্ষে পুরনো টিভি পাল্টে নতুন টিভি কিনেছেন। দোকানে কেনাবেচার চেয়ে খেলা দেখাতেই তার মনোযোগ বেশি ছিল।’

ছোট মামা রিয়াজ গাজী বলেন, ছুটিতে মালয়েশিয়া থেকে তিনি দেশে এসেছেন এবং খুলনায় মিরাজের বাসায় বোন-দুলাভাইর সঙ্গে অবস্থান করছেন। মিরাজের নানী বরিশাল থেকে খুলনায় এসেছেন। সকলে মিলেই মিরাজের টেস্ট ম্যাচ দেখেছেন। টেস্ট ম্যাচটি মিরাজের জন্য অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তার স্বজনরা।
অন্যরকম ভালোবাসায় সিক্ত মিরাজ।

ফুলেল শুভেচ্ছা আর ভালোবাসায় সিক্ত বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের নতুন নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। সোমবার ঢাকা থেকে বিমানযোগে যশোর, পরে গাড়িতে খুলনার বাড়িতে এসে পৌঁছান তিনি। মাইক্রোবাস থেকে নেমেই ক্যামেরার ঝলকানিতে হাস্যোজ্জ্বল মিরাজ সরলতায় বললেন, মাঠে তো ছবি তুলেছেনই, এখন তো বাসায় এসেছি। এরপরেই বাসায় ছোট্ট গলিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন মিরাজের মা।

দীর্ঘদিন পর ছেলেকে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। নিয়ে যান নিজের ঘরে। ছেলেকে মিষ্টি খাওয়ান। ততক্ষণে এলাকার সব লোকজন বাসায় ভিড় করে ফেলেছে। এ সময় ক্রিকেটপ্রেমীরা ফুল দিয়ে তাকে স্বাগত জানান। কিছুক্ষণ সবার সঙ্গে থেকে মিরাজ বললেন-বাইরে যাবো।

বাইরে এসে খুঁজতে শুরু করলেন, নিজের প্রথম জীবনের কোচ মো. আল মাহমুদকে। খুঁজতে শুরু করেন নিজের বন্ধুদের। রাস্তায় ফিরেও খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়তে হয় মিরাজকে। এলাকার সবাই নিজেদের ঘরের ছেলেকে যাকে এ কয়টা দিন টিভিতে দেখেছে, তাকে কাছে পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠে। মিষ্টি মুখ, ফুলেল শুভেচ্ছা, কোলাকুলি, করমর্দন আর সেলফির অত্যাচারে কাবু হয়ে পড়েন ইংল্যান্ড বধের নায়ক মেহেদি হাসান মিরাজ। ভক্তদের ভালোবাসায় মাঝে মধ্যে বিড়ম্বনায় পড়লেও ক্ষিপ্ত নন তিনি।

সোমবার রাতে নিজ শহর খুলনায় আসার পর থেকে ব্যস্ত সময় পার করেছেন মিরাজ। রাতে গাড়ি থেকে নেমে নিজ ঘরে প্রবেশের পর উৎসুক ভক্তদের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, মঙ্গলবার সবার সঙ্গে দেখা করবো। তার সে কথা রক্ষা করতে ভোর থেকে দিনভর ভক্তদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সেলফির সাথী হতে হাস্যোজ্জ্বল মিরাজ অনেকটা ক্লান্ত। ভক্তদের ভিড়ে রাস্তায় নামলেও খ্যাতির বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে তাকে। এলাকার সবাই ঘরের ছেলেকে কাছে পেয়ে উল্লাসে মেতে ওঠেন।

মিরাজের বাসার সামনে তার সঙ্গে সেলফি তুলে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে হাজী মহসিন কলেজের ছাত্র হৃদয় ইসলাম বলেন, মিরাজ ভাইয়া আগের মতোই আছেন। তিনি আমাদের সময় দিয়েছেন। আমাদের সঙ্গে ছবি তুলেছেন। তিনি বলেন, সেলফির অত্যাচারে কাবু মিরাজ ভাইয়া। তবুও যতটা পারছেন সবাইকে সময় দিচ্ছেন। হালে মোবাইল ফোনে তোলা ছবির বড় অংশই সেলফি।

মিরাজকে ফ্রেমে বন্দি করার বাসনাতে তার বাসার সামনে ভিড় করছেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি বিএল কলেজ এবং মহসিন কলেজসহ বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শত শত শিক্ষার্থী।
দুপুরে একটি দাওয়াতের অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন মিরাজ। এজন্য বাসায় না থাকলেও তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে খুলনার খালিশপুরের হাউ?জিং স্টেটের বিআই?ডি?সি রোডের নর্থ জোন বি ব্লকের ৭নং প্লটের নিজ বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অনেকে।

মিরাজের বাড়িতে শুভেচ্ছা জানাতে ভুল করেননি রাজনীতিবিদ, জনপ্রতিনিধি, জেলা ও বিভাগীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, ক্রীড়া সংগঠকরা। সকালে খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ মিজানুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম, খুলনা সিটি করপোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আনিছুর রহমান বিশ্বাসসহ নানা পেশার প্রতিনিধিরা তার বাড়িতে উপস্থিত হন। এ সময় তাকে ফুল দিয়ে ও মিষ্টিমুখ করে স্বাগত জানানো হয়।
সংবর্ধনার জবাবে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে ভোলেননি মিরাজ। তিনি খুলনাবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

এর আগে রাতে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড টেস্ট সিরিজে সবার সেরা মেহেদী হাসান মিরাজকে ফুল দিয়ে সংবর্ধনা জানান বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কাউন্সিলর, খুলনা জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. সাইফুল ইসলাম। এ সময় উপস্থিত সকলকে মিষ্টি বিতরণ ও মিরাজের পরিবারকে দোয়া করা হয়। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন দিনেই ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। না হলে হয়তো এ সুযোগটা হতো না মিরাজের। আগামী ৪ঠা নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে বিপিএল। এরপর আবার নিউজিল্যান্ড সফর। সব মিলিয়ে ব্যস্ততাই কাটবে মিরাজ-সাকিবদের। এর মধ্যে পারফরমেন্সেই ছুটি তৈরি করে নিয়েছেন মিরাজরা।

ক্রিকেট বিশ্বের আলোচিত তারকা মেহেদী হাসান মিরাজের ক্রীড়া নৈপুণ্যের প্রশংসা চারদিকেই। ৩০শে অক্টোবর সন্ধ্যা থেকেই মিরাজের বাড়িতে প্রশাসনের কর্মকর্তা, আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক, ক্রীড়া সংগঠক, হিতাকাঙ্ক্ষী-শুভাকাঙ্ক্ষী ও মিডিয়াকর্মীদের লাগাতার ভিড়। আতিথীয়তায় বাড়ির ছোট্ট উঠানে পাতানোই রয়েছে চেয়ার। মিষ্টি মুখ ও ফুলেল ভালোবাসায় সিক্ত মিরাজের বাবা-মা ও একমাত্র বোন। আনন্দ-উল্লাসে মিরাজের বাড়ি এখন অন্যরকম উৎসবস্থলে পরিণত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বইছে মিরাজকে ঘিরে স্বপ্নিল আগামীর শুভ কামনা। জেলা প্রশাসন তাদের ব্যবহারের জন্য একটি গাড়ি লিফট দিয়েছে। তাকে যশোর বিমানবন্দরে রিসিভ করেন খুলনা জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি এনডিসি আতিকুল ইসলাম। তার সঙ্গে ছিলেন মিরাজের গর্বিত পিতা মো. জালাল হোসেন তালুকদার ও বোন রুমানা আক্তার মিম্মা।

মিরাজের বন্ধু বাঁধন জানালেন, ‘মিরাজ ক্রিকেটার হিসেবে যত ভালো, মানুষ হিসেবে তার চেয়ে অনেক ভালো। সেই ক্লাস ওয়ান থেকে এক সাথে আমরা। খেলা শেষ করে নিজেই ফোন দিয়ে বলবে, কেমন পারফর্ম করেছে। আমরাও উৎসাহ দিয়ে যাই। ক্রিকেট তার কাছে সব কিছু। ক্রিকেটের জন্য সে সব করতে পারে। তার যতটুকু সামর্থ্য আছে, ক্রিকেটের জন্য তার চেয়ে বেশি দিতে চায়। ক্রিকেটের ব্যাপারে সে খুব কমিটেড।’
আরেক বন্ধু সোহান জানালেন, ‘মিরাজ ক্রিকেটার হওয়ার আগে যেমন ছিল, এখনও তেমন, কোনো পরিবর্তন নেই। মিরাজ ওই টাইপের না। বন্ধু মানে বন্ধু।’

অভিষেকে আলো ছড়ানো মিরাজকে নিয়ে বন্ধু বাঁধন মনে করেন বাংলাদেশকে আরো অনেক কিছু দেয়ার সামর্থ্য আছে মিরাজের। ‘মিরাজকে বিশ্বসেরা অলরাউন্ডারের আসনে দেখতে চাই। সে সাকিব ভাইয়ের টাইপের ক্রিকেটার। আমরা জানি সে ব্যাটসম্যান হিসেবেও কত ভালো। তার দ্বারা এটা সম্ভব। জানি না সাকিব ভাইকে ছাড়িয়ে যেতে পারবে কিনা, তবে তার সমপর্যায়ের ক্রিকেটার হোক মিরাজ।’

মিরাজ আজ বুধবার খুলনা ছাড়বেন বলে তার পরিবার সূত্র জানিয়েছে। এরপর বিপিএলের দল ‘রাজশাহী কিংস’ এ যোগ দিবেন।

 ভিডিও: মিরাজের কন্ঠে গান

 

 

ঢাকা, ১ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএসটি