[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বাংলাদেশে এই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীর গরুর খামার!


প্রকাশিত: November 4, 2016 , 11:49 am | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


pirganj-live

হাসিনুর রহমান, রংপুর : বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী সুমনা বেগম। স্বপ্ন দেখেন স্বনির্ভর বাংলাদেশের। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হয়েও বেছে নিয়েছেন ব্যতিক্রমী পেশা। গড়ে তুলেছেন গরুর খামার। সম্ভবত তিনিই বাংলাদেশের প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী যার গরুর খামার রয়েছে। তার খামারে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের ১৮টি বিদেশী জাতের গরু রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আত্মপ্রত্যয়ী ওই ছাত্রী পীরগঞ্জ উপজেলা সদরের ওসমানপুরের জসিম উদ্দিন মণ্ডলের মেয়ে।
পড়াশোনা করা অবস্থায় তার বিয়ে হয়। তবুও দমে যাননি। বিয়ের পর সুমনা বিগত ২০১২ সালে রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হন। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি গরুর খামার করার ইচ্ছা পোষণ করেন। এক সময় তার বাবা ও স্বামীর কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে ২০১২ সালেই বিদেশী জাতের ২টি বকনা বাছুর দিয়ে খামার গড়ার স্বপ্নের বীজ বুনেন। বকনা বাছুর ২টি বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সুমনার স্বপ্নও বড় হতে থাকে। একপর্যায়ে বাছুর ২টিও বাচ্চা প্রসব করে। গরুর সংখ্যা হয় ৪টি। এভাবে গরুর সংখ্যা বাড়তে থাকে।

পড়াশোনার ফাঁকে ফাঁকে চলে তার গরুর লালন-পালন। পীরগঞ্জ থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করেন আত্মপ্রত্যয়ী ওই ছাত্রী। গরুর দুধ বিক্রি করে গরুর খাবার আর বাড়তি কিছু আয় জমা হতে থাকে। এভাবে কিছুদিন চলার পর সুমনা দুধ উৎপাদন থেকে গরু মোটাতাজাকরণের জন্য উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। স্বামীর উৎসাহে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি পান ওই ছাত্রী।

একপর্যায়ে উপজেলা সদরে খামারের জায়গা না পেয়ে স্বামীর মামার বাড়ি উপজেলার সুকানচৌকিতে গরুর খামারটি স্থানান্তর করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সুমনা গরু লালন-পালনের জন্য ২ জনকে নিয়োগ দেন। তার খামারে বর্তমানে ১৮টি বিদেশী জাতের গরু মোটাতাজাকরণ করা হচ্ছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

সুমনা বলেন, পত্রিকায় খামারের খবর পড়ে আমি উৎসাহিত হয়েছি। যদি বাবা এবং স্বামী টাকা না দিতেন তাহলে আমি এই খামার করতে পারতাম না। আগে কিছুদিন দুধ উৎপাদন করেছি। এতে দুধ দোহন ও বিক্রি করা খুবই সমস্যা হতো। তাই এখন মোটাতাজাকরণ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকেছি। বিদেশী জাতের গরুর অনেক দাম। দেশে মাংসের চাহিদাও যথেষ্ট রয়েছে। সরকারিভাবে ঋণ পেলে খামারটি আরও বড় করতে পারতাম।

ঢাকা, ০৪ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন