[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



প্লিজ নাসিরনগরের হিন্দু পরিবারগুলোকে বাঁচান


প্রকাশিত: November 5, 2016 , 8:00 pm | বিভাগ: ন্যাশনাল


Na

ব্রাহ্মণবাড়িয়া লাইভ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িঘর, মন্দির ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনা সুপরিকল্পিত। চিহ্নিত একটি গোষ্ঠী এ ঘটনা ঘটিয়েছে। প্রশাসনের দূরদর্শিতার অভাব ও উদাসীনতা এ হামলার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে।

কেমনে বাঁচুম আমরা? পুলাপান নিয়া ক্যামনে বাঁচুম? ঘরের প্রতিটি আসবাব ভেঙে দেওয়া হয়েছে!’ কান্না আর বিলাপে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন মালা রাণী সূত্রধর। আর মাটির কাজ করা সরস্বতী দাস জানালেন, নটরডেম কলেজ পড়ুয়া সংকর দাসের জন্যে জমানো চার হাজার টাকাও লুণ্ঠন করেছে সেদিনের হামলাকারীরা।

Nasir

তারা আরো বলেন, ‘সেদিন ওদের (হামলাকারীদের) বলেছি, বাবারে ভাঙিস না। আমি মাটির কাজ করে ছেলেকে পড়াচ্ছি। ছেলের লেখাপড়ায় এলাকার লোকেরাও আর্থিকভাবে সাহায্য করে। চেয়ারম্যান, মেম্বাররা টাকা দিচ্ছে, সেই টাকা দিয়ে পড়াচ্ছি। তারপরও জমানো চার হাজার টাকা নিয়ে গেছে ওরা।’

আক্রমণের শিকার প্রতিটি পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেল এমন চিত্র। সেদিনের ওই নৃশংসতা হার মানিয়েছে যে কোন অতীত। এমন পরিস্থিতিতে ঘটনার ৬ষ্ঠ দিনে এসেও নিরাপত্তাহীনতায় ভূগছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর এলাকার কয়েকটি হিন্দুপাড়ার বাসিন্দারা। এলাকায় বাড়ানো হয়েছে পুলিশ, র‍্যাব ও বিজিবি সদস্য। তারপরেও শঙ্কা কাটছে না তাদের।

নাসিরনগরের ঘোষপাড়া, সেনপাড়া, মিস্ত্রীপাড়া, নমশূদ্রপাড়া, পশ্চিমপাড়াসহ কয়েকটি পাড়ার অন্তত ত্রিশটি পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নিরাপত্তাহীনতায় প্রতিটি পরিবার। তাদের অনেকে ক্ষতিপূরণ দাবি করলেও কেউ কেউ শুধুই চাইছে নিরাপত্তা। আবার কেউ বলছেন, নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব না হলে তারা দেশত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।

Nasir1

ঘোষপাড়ার বিমল বিহারী চৌধুরী বলেন, আমার দুইটা মেয়ে বিবাহযোগ্য। বিয়ে ঠিক ছিল। সিলেটের পাত্র। ওদের বিয়ের জন্যে ২ লাখ টাকা ঘরে জমানো ছিল। ছিল কয়েক ভরি সোনা। টাকা পয়সা নিয়ে গেছে। এখন এই টাকা ছাড়া বিয়ে হবে না, তাই বিয়েও এখন ভেঙে গেছে।

তিনি আরও জানান, অন্য একটি বাড়িতে ফ্রেমে বাঁধানো জাতির পিতার ছবি ভেঙে দেয়া হয়েছে! ভেঙে দেয়া হয়েছে ঘরটিতে রাখা বাদ্যযন্ত্রও! আর প্রতিটি মন্দিরের চিত্র প্রায় একই! আঘাত লেগেছে প্রায় সব কটি মন্দিরে, কোথাও প্রতিমার হাত নেই, কোথাও চুরি গেছে মূর্তি। গৌর মন্দিরের ক্যাশবাক্স ভেঙে লুট করা হয়েছে টাকা। আঘাত করা হয়েছে পুরোহিতকে।

Nasir2

এই মন্দিরের রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সাথে জড়িত ছিল এমন একজন তপন সূত্রধর। তিনি বলেন, সেদিন ৮০০ থেকে ১ হাজার লোক এক সাথে মন্দিরে হামলা করে। রাধা মাধবের প্রতিমা, পিতল ও স্বর্ণের দুটি বিগ্রহ ও মূর্তি নিয়ে গেছে ওরা। মন্দিরের ক্যাশবাক্স ভেঙে অন্তত ৫০ হাজার টাকা।

ওইদিন এভাবেই এলাকার প্রত্যেকটি মন্দির ও বাড়িঘরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। লুটে নিয়ে যায় এসব পরিবারের শেষ সম্বলটুকু। এত সবকিছু করেও তারা থামেনি শুক্রবার ভোরে আবার আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয় উপজেলা শহরের মধ্যপাড়া ও দক্ষিণপাড়ার হিন্দুদের ৪টি বাড়ির ৭টি ঘর।

ঢাকা, ৫, নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// আইএইচ