[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



নগরীতে বিক্ষোভ, সড়ক অবরোধ তোপের মুখে হানিফ


প্রকাশিত: November 5, 2016 , 9:54 pm | বিভাগ: পলিটিক্স


hanif al+cl

লাইভ প্রতিবেদক: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ি-ঘরে হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের প্রতিবাদে রাজধানীতে সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ করেন সনাতন ধর্মাবলম্বী বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

একইভাবে শাহবাগে বিক্ষোভ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে নির্বাচিত এমপি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগের দাবি করেছেন। অন্যদিকে শাহবাগে বিক্ষোভকারীদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। পরে তিনি আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার পাল এ ঘটনায় মন্ত্রী ছায়েদুল হক জড়িত দাবি করে বলেন, ঘটনা ঘটার কয়েক দিন পরে মন্ত্রী ছায়েদুল হক এলাকায় গিয়েছেন। তিনি যাওয়ার পরেও সেখানে আবার হামলা হয়েছে।

এতেই বোঝা যায় তিনি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত। এই ঘটনায় তিনি মন্ত্রী ছায়েদুল হকের পদত্যাগ দাবি করে বলেন, অবিলম্বে আপনি পদত্যাগ করুন। এ সময় উপস্থিত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ‘পদত্যাগ চাই, পদত্যাগ চাই’ বলে স্লোগান দেন। একইভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অপসারণ দাবি করে তাপস বলেন, নাসিরনগরের ইউএনও মোয়াজ্জেম ও ওসি আবদুল কাদেরের উপস্থিতিতে সমাবেশে উসকানিমূলক বক্তব্যের পর ওই হামলা হয়।

নাসিরনগরের ইউএনও চৌধুরী মোয়াজ্জেম ওইদিন সমাবেশের অনুমতি না দিলে এই হামলার ঘটনা ঘটত না। আমরা ইউএনও’র অপসারণেরও দাবি জানাচ্ছি। তিনি বলেন, মন্দিরে হামলার পাঁচ দিন না যেতেই আবারও হিন্দুদের বাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। প্রশাসন কি নিরাপত্তা দিয়েছে? সকাল ১০টা থেকে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন পেশার লোকজন এতে অংশ নেন। সকাল ১১টায় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করে করেন তারা। পরে দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রেস ক্লাবের সামনের সড়ক অবরোধ করেন তারা।

এতে অংশ নেয় বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটি, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্যপরিষদ, বাংলাদেশ ছাত্র-যুব ঐক্যপরিষদ, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্যপরিষদ, জাতীয় হিন্দু ছাত্র মহাজোট, জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি, বাংলাদেশ মাইনরিটি সংগ্রাম পরিষদ, জাগো হিন্দু পরিষদসহ আরো বিভিন্ন সংগঠনের নেতাকর্মীবৃন্দ।

দুপুরে শাহবাগ মোড় অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষুব্ধদের তোপের মুখে পড়েন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর সি মজুমদার মিলনায়তনে এক আলোচনা অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে বিক্ষোভে আটকা পড়েন ক্ষমতাসীন দলের এই নেতা।

সড়ক অবরোধের কারণে দীর্ঘ সময় মাহবুব আলম হানিফের গাড়িটি সেখানে আটকা পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হানিফের গাড়ি থেকে এক ব্যক্তি নেমে বিক্ষোভকারীদের গাড়িটি মাহবুব আলম হানিফের জানিয়ে তা ছেড়ে দিতে বলেন। এ নিয়ে ওই ব্যক্তির সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় মাহবুব-উল আলম হানিফের গাড়িতে লাথি মারতে দেখা গেছে কিছু শিক্ষার্থীকে। তাৎক্ষণিকভাবে হানিফ গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। পরে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

বিক্ষোভকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বেলা ১টা পর্যন্ত শাহবাগ মোড়ে অবরোধ করেন। এ সময় ‘আমার ঘরে হামলা কেন, প্রশাসন জবাব চাই, আমার মন্দির ভাঙলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই- বলে স্লোগান দেন। অবরোধ চলাকালে মাহবুব-উল আলম হানিফ আটকা পড়েছিলেন জানিয়ে শাহবাগ থানার ওসি আবু বকর সিদ্দিকী বলেন, পরে তিনি গাড়ি থেকে নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললে পরিস্থিতি শান্ত হয়। তিনি বক্তব্য দিয়ে চলে যান।

 

ঢাকা, ৫, নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এএম