[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



উষ্ণ দিনে ক্যাম্পাসের শীতল স্থানের আড্ডা


প্রকাশিত: April 23, 2014 , 8:57 pm | বিভাগ: ফিচার


সাইমুম সাদ: চলছে বৈশাখ। বৈশাখের নাভিশ্বাস ওঠা গরমে জনজীবন অনেকটাই বিপর্যস্ত। দেশেরবাসীর মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও এই কাঠফাঁটা গরমের তাপদাহে অতিষ্ঠ। চরম অস্বস্তিকর এই সময়ে শিক্ষার্থীরা একটু জিরিয়ে নিতে ক্যাম্পাসের শীতল স্থানগুলোতে ভিড় করছেন। শীতল জায়গা গুলোতেই মেতে উঠছে তাদের প্রানের আড্ডা।

আমাদের ক্যাম্পাস প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শীতলতম স্থানের আড্ডার স্থানগুলো নিয়ে আমাদের এই আয়োজন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বট তলা, আমতলা, ডাকসুর সামনে, ক্যাম্পাস স্যাডো, ব্যবসা অনুষদের সামনে, মল চত্ত্বর,  রোকেয়া হলের সামনে, সামসুন্নাহার হলের সামনে, ফুলার রোড, টিএসসির ভিতরে ও কলা ভবনের সামনে বিকেল থেকেই সন্ধ্যা পর্যন্ত জম্পেশ আড্ডা চলে। শুধু ঢাবির শিক্ষার্থীরাই নয়, এই সকল স্থানের সন্ধ্যার আড্ডায় অনেক বহিরাগতরাও অফিস শেষে যোগ দেন। আর পড়ন্ত বিকেলে ঢাবির যুগলদের এই সকল স্থানে দেখা যাবে না তাকি হয়?

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সবার প্রিয় আড্ডাস্থল বিভিন্ন অনুষদের ঝুপড়ি। শিক্ষার্থীদের আনন্দ-বেদনার কাব্য বলা যায় এগুলোকে। প্রতিদিন বিকেলেই ঝুপড়ি গুলোতে গানের জমজমাট আসরে বসে।

কলা অনুষদ ও চাকসু ভবনের মাঝখানে হলো কলা ঝুপড়ি। নামে কলা ঝুপড়ি হলেও এখানে সব অনুষদের শিক্ষার্থীদের সমান পদচারণা লক্ষ করা যায়। প্রচন্ড গরমের দিনে এই ঝুপড়িগুলোতে একটুখানি শীতল পরশ পাওয়া যায়।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে বলা যায় সবুজের লীলাভূমি। চারদিকে সারি সারি গাছ আর ছোট ছোট লেক ক্যাম্পাসটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে। শিক্ষার্থীরা সারাদিন যে যেখানেই থাকুক না কেন বিকেল হলে মেতে ওঠে প্রাণের আড্ডায়। জাবিতে আড্ডার কিছু নির্দিষ্ট স্পট আছে। বিশেষ করে বটতলার খাবারের দোকান, আলবিরুণী হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হল, শহীদ সালাম বরকত হল, বেগম খালেদা জিয়া হল, জাহানারা ইমাম হল, প্রীতিলতা হল, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরী। তবে কেন্দ্রীয় খেলার মাঠের আড্ডাটা মনে হয় একটু বেশি জমে। এখানকার আড্ডা শুরু বিকেল পাঁচটায় শেষ আটটায়। এরপর সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ফুচকা-চটপটি খেতে খেতে চলে টারজান পয়েন্টের আড্ডা।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা টুকিটাকি চত্বর, পুরাতন ফোকালোর চত্বর, লিচুতলা, কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনেই বেশি আড্ডা দেয়। রাবির ছাত্রীরাও আড্ডায় পিছিয়ে নেই। তারা রোকেয়া হল ও রহমতুন্নেসা হলের মাঝখানে মাঠে আড্ডা জমায়।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

শাবির শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও একাডেমিক কাজের ফাঁকে ফাঁকে বা বিকেল পড়লেই ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবন ‘বি’ ও ‘ই’ এর টং, ক্যাফেটেরিয়া, ফুডকোর্ট, মুক্তমঞ্চের পিছনে, একাডেমিক ভবন ‘ডি’ এর পিছনে বা ইউসি ভবনের দিকে আড্ডা জমায়। এছাড়া অর্জুন তলা, কদমতলা, ব্রাশ ফুল গাছের ছায়ায় বা লাইব্রেরি ভবনের নীচে চলে দু’দন্ড জিরিয়ে নেয়ার কাজ আর চটপটি ফুচকার পার্টি। আর পড়ন্ত বিকেলে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে প্রিয় এবং সুশীতল স্থান এক কিলো রাস্তা ধরে হেঁটে গিয়ে শিক্ষার্থীরা জমান প্রধান ফটকের টংয়ের আড্ডা। ছায়া শোভিত এই ক্যাম্পাসের স্থানগুলোতে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে আড্ডার ফুলঝুড়ি। বিভিন্ন প্রোগ্রামে শহীদ মিনারেও চলে আড্ডা।

ঢাকা, ২৩ এপ্রিল (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)/এমএইচ