[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



দশ মিনিটে ৫০ কোচিং সেন্টার!


প্রকাশিত: May 1, 2014 , 12:04 pm | বিভাগ: ন্যাশনাল


অাবু রায়হান: রাজধানীতে ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠেছে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার। এসব কোচিং সেন্টারে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হলেও মানসম্মত শিক্ষা প্রদান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা নিজেরাই বুঝে উঠতে পারছেন না আদৌ প্রকৃত শিক্ষা প্রদানে কোচিং সেন্টার গুলো অবদান রাখছে কিনা।

রাজধানীর কোচিং পাড়া হিসেবে ফার্মগেট এলাকাটি পরিচিত। এখানে মাত্র দশ মিনিটের হাটা পথে দেখা মিলে পঞ্চাশটিরও বেশি কোচিং সেন্টার।

শিক্ষার্থীদের এসব কোচিং সেন্টারে ৫ম শ্রেণি হতে শুরু করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি এবং চাকুরী সম্পর্কিত প্রস্তুতি কোচিং করানো হয়।

তবে প্রতিষ্ঠানগুলোতে মানসম্মত শিক্ষা প্রদান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভাল শিক্ষক নিয়োগ এবং মানসম্মত শিক্ষা প্রদানের তুলনায় প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর ব্যবসায়ের দিকেই বেশি।

এসব প্রতিষ্ঠানে নিজেই পরিচালক ও শিক্ষক সেজে বসে আছেন অনেকেই। প্রতিষ্ঠানগুলোতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ না থাকলেও রয়েছে মোটা অংকের ফি। আবার শিক্ষার্থী ধরার জন্য (ভর্তি করার জন্য) ব্যবহার করা হয় ছাড়ের ফাঁদ। নির্দিষ্ট সময়ে ভর্তি হলে প্রতিষ্ঠানগুলো দেয় বিভিন্ন ধরনের ডিসকাউন্ট।

ফার্মগেট এলাকার কনকর্ড টাওয়ার ও গ্রীণ রোডের বিভিন্ন ভবনে এসব কোচিং সেন্টারগুলোর কার্যক্রম দেখে শিক্ষা বাণিজ্যের চিত্রই স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বিভিন্ন প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় এসব প্রতিষ্ঠান ব্যবসায় পরিচলনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ফার্মগেট এলাকার কনকর্ড টাওয়ারে গড়ে উঠেছে বেশ কিছু কোচিং সেন্টার। এর মধ্যে রয়েছে সানরাইজ, ক্যারিয়ার এইড, মেডিব্রাইড, অবজার্ভার, রেটিনা, কনফার্ম, ফোকাস কোচিং সেন্টার ইত্যাদি।

এছাড়া ফার্মগেট বাসস্ট্যান্ডের পাশে গ্রীণ রোডে দেখা মেলে নামী-দামী বেশ কিছু বিশ্ববিদ্যালয় কোচিং সেন্টারের। এসবের মধ্যে রয়েছে ইউসিসি, ইউনিএইড, সংশপ্তক, প্রাইমেট, আওয়াপ, ইউনিটি, আইকন, এভিস, মবিডিক, প্রাজমা, ভয়েজ, থ্রি ডক্টরস, স্ট্যান্ডার্স কমার্স এডুকেশন, আইকন, প্যারগন, বিইউপি, কমাকা, বিসিএস ক্যারিয়ার বিল্ডার্স, দূর্বার, ফেইম, একমি উল্লেখযোগ্য।

এসব কোচিং সেন্টারে ইঞ্জিনিয়ারিং, মেডিক্যাল, মেরিন, আর্মি, টেক্সটাইল, সহকারী জজ নিয়োগ পরিক্ষা, বিসিএস প্রস্তুতি ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ স্কুল কলেজে ভর্তির কোচিং করানো হয়।

প্রতিষ্ঠানগুলো শহরের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি গ্রাম থেকে উচ্চ শিক্ষার জন্য আসা সাধারণ শিক্ষার্থীদের টার্গেট করে ব্যবসায় পরিচালনা করেন। বিভিন্ন চটকদার বিজ্ঞাপনের দ্বারা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আকৃষ্ট করলেও মানসম্মত শিক্ষা প্রদানে তাদের অনীহা রয়েছে বলে অভিযোগ করেন অনেক অভিভাবক এবং শিক্ষার্থী।

ময়মনসিংহ থেকে আসা সাগর নামের এক শিক্ষার্থী জানায়, আমি উদ্ভাস কোচিং এ ভর্তি হতে এসেছি। জানা যায়, আজকের মধ্যে ভর্তি হলে দুই হাজার টাকা ছাড় পাওয়া যাবে।

ফার্মগেটের কনফার্ম স্কুল কোচিং সেন্টারের শিক্ষার্থী স্কুল ছাত্র সাব্বির, ইব্রাহিম ও ইকরাম এসেছে কোচিংয়ের ক্লাস করতে। তারা জানায়, আমরা পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ালেখা করছি। এখানে সব বিষয়ে পড়ানো হয়।

প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক ও শিক্ষক এজিএম মোস্তফা পাটোয়ারীর সঙ্গে শিক্ষাদান সম্পর্কে কথা বলতে চাইলে তিনি জানান, আমি ক্লাস নিয়ে ব্যস্ত আছি এখন কথা বলতে পারবো না।

এদিকে ফার্মগেটে নিজ সন্তানকে কোচিংয়ে নিয়ে আসা অভিভাবক আসমা জানান, এতো কোচিং সেন্টারের মধ্যে কোনটা ভাল কোনটা মন্দ তা বেছে নেওয়াই বর্তমানে কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, আমাদেরকে অসহায় হয়ে কোচিং সেন্টারগুলোর দ্বারস্থ হতে হয়। কারণ, সবাই এখন কোচিংয়ের সাহায্যেই সন্তানদের পড়ালেখা করাচ্ছেন। পঞ্চম শ্রেণির একজন ছাত্রের জন্য ৫ হাজার টাকা ফি প্রদাণ করা হয় বলে তিনি জানান। এটা অবশ্যই অনেক উচ্চ মূল্যের ফি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নজরুল ইসলাম নামের অপর এক অভিভাবক জানান, কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা এসব কোচিং সেন্টার শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। তবে শিক্ষা প্রদানে তাদের কোন আগ্রহ নেই বলে তিনি জানান। শিক্ষা নয় অর্থ উপার্জনই তাদের উদ্দেশ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উপরোক্ত বিষয়ে কথা হয় ইউসিসি, সানরাইজ, রেটিনা, উদ্ভাস, লিডার সহ বেশ কয়েকটি কোচিং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে। তারা জানায়, ব্যবসা তো বটেই, তবে শিক্ষার্থীদের সেবার দিকটিও আমরা দেখি। তারা জানান অনেক শিক্ষার্থীরাই ভর্তির সময় বিভিন্ন অজুহাতে টাকা কম দিতে চায় আমরা তাদের মানবিক দিক বিবেচনা করে টাকা কম নেই। 

কিন্তু অভিভাবক এবং শিক্ষার্থীদের দাবি একটি সুষ্ঠু নিয়মের মাধ্যমে এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সার্বিক নজরদারিতে যদি কোচিং সেন্টারগুলো পরিচালিত হয় তাহলে শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা প্রতারিত হবেন না। মোটা অঙ্কের টাকা দিয়েও শিক্ষা গ্রহণ নিশ্চিত না হলে তার ব্যর্থতার দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে বলে তারা মন্তব্য করেন।

ঢাকা, এআর// ১ মে(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এসএস