[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ফ্রেন্ডশীপ ডে : অব্যক্ত বেদনা, যা আজও হয়নি বলা….


প্রকাশিত: August 3, 2014 , 9:10 pm | বিভাগ: আর্টস এন্ড লিটারেচার


একটা তারিখকে সামনে রেখে তারা স্পেশাল করতে চায়। সেই জন্য ১ আগস্ট মিটিং
বসেছে,কি ভাবে স্পেশাল করা যায় দিনটাকে।রণি বলে- চল সবাই নৌকা নিয়ে
নদীতে ঘুরি।নিলয় বলে- নৌকা নিয়ে নদীতে ঘুরে কি হবে,নৌকা নিয়ে ঘুরতে
হবে মতিঝিলে।তা না হলে বৈচিত্র কিসে? সবাই জোরে হেসে উঠে।পিয়াল সব সময়
সিরিয়াস ধরনের ছেলে।মিটিং এর বেশীর ভাগ ছেলেরই সে
সিনিয়ার।ইউনিভার্সিটির পড়া তার শেষ,কিন্তু ক্যাম্পাস ছাড়েনি।চাকরির
চেষ্টা করছে।একটু বেশী কথা বলে বলে সবাই বলে এই জন্যই তার প্রেম হযনি।এটা
নিয়ে সে তেমন ভাবে না।অবশ্য কোন বিষয়েই তার হতাশা নেই।সে ভাবে, জীবনে
যা ঘটবে,তা স্বাভাবিক নিয়মেই ঘটবে।এত ভাবাভাবির কি আছে।এত নিশ্চিন্ত সে
থাকতে পারে কারণ বাবা তাকে খুব ভালোবাসে।কোন কিছুতেই বাবার তাড়াহুড়া
নেই।করুক না ছেলেটা ধীরে সেুস্থ্যে যা করার।
আগস্টের প্রথম রবিবার ফ্রেন্ডশীপ ডে তে কিছু একটা স্পেশাল কবতে
চায়।উদ্যোগটা প্রথমে সেই নিয়েছে।এখন আসরে বসে কোন সিদ্ধান্ত নিতে
পারছেনা কেউই। কোথাও গিয়ে ঘুরে বেড়াবে, নিজেরা রান্না করে খাবে- না
পুরানো পিকনিক পিকনিক ভাব। রবিবার  বেলা ৩টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত
আলোচনা করেও পিয়াল ছেলে গুলোকে একটা সিরিয়াস মুডে আনতে পারলোনা।শুধু
হালকা হাসি ঠাট্রায় মগ্ন তারা।কেউ দিনটার গুরুত্ব বুঝলো না।এক ধরনের
নিরুৎসাহ লাগছে তাকে। শনিবার  অন্যরাই পিয়ালকে জিজ্ঞাসা করছে- পিয়াল
ভাই কিছু ভাবছেন,কি করবেন ফ্রেন্ডশীপ ডে তে।
– না তোমরা কেউ ব্যাপারটা সিরিয়াসলি নাও না। আমি সিরিয়াস হইলে তোমরা মজা কর।
– মজা কোথায় করলাম ভাই।আর তা ছাড়া সবাই একসাথ হইলে একটু হাসি ঠাট্রা তো হইবোই।
পিয়াল যেন আবার উৎসাহ পেল।সবাইকে নিয়ে গোল হয়ে দাড়াল।আলোচনা শুরু
হলো।ওরা সবাই ইউল্যাব এর ছাত্র।ধানমন্ডি ৪এ প্রধান সড়কের উপরেই তাদের
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি। এলাকাটা জুড়েই ইউনিভার্সিটি ছাত্র-ছাত্রীদের
মেলা। একদিন পর ফ্রেন্ডশীপ ডে তে।
অনেকে হয়ত জানেই না বিশেষ একটা তারিখ আসছে তা ফিরে আসবে আবার একশ বছর
পর।পিয়ালকে ঘিরে কিছু ছেলে.দু’একজন মেয়েও আছে।পিয়ালের অতি উৎসাহ হয়ত
অনেককে মজা করার উপকরণ দিচ্ছে।কিন্তু পিয়াল সত্যি আগত দিনটাকে স্বরণীয়
করে রাখতে চায়। সেদিনও পিয়ালের মনের মত অথবা সবাই সম্মতি দেয় এমন কোন
প্রস্তাব উত্থাপিত হয়নি।কিছু প্রস্তাব আছে যা বেশী দুঃসাহসিক হয়ে
যায়,আবার কিছু প্রস্তাব আছে যা সফল করতে অনেক টাকার প্রয়োজন।কিছুই হলো
না ফ্রেন্ডশীপ ডে তে। সোমবার  বিকালে নিস্তেজ ভাবে সিদ্ধান্ত হলো- সকালে
সবাই ইউল্যাব এর সামনে আসবে,তখন যেদিকে ইচ্ছা সেদিকে পায়ে হেঁটে ঘুরে
বেড়াবে।
শেষমেষ-
Friendship_Day
পিয়ালের ঘুম ভাঙ্গলো যথারীতি প্রতিদিনের মত বেলা ১২টা বাজে।পিয়াল তার
রুমমেট বড় ভাইকে বিষন্ন হয়ে বললো- ফ্রেন্ডশীপ ডে তে  আমি ঘুম থেকে
উঠলাম ১২টা বাজে ?
– ছোট ভাই এটাইতো স্পেশাল।
– কি বলেন ভাই।প্রতিদিনইতো ১২টা বাজে উঠি।ওফফ্ খুবই মন খারাপ লাগছে ভাই।
আমি আরও সবাইকে অস্থির করে ফেললাম স্পেশাল স্পেশাল করে।ইউনিভার্সিটির
মোড়ে আমাকে নিয়ে হয়ত খুব হাসাহাসি করছে সবাই।
কি আর করবে পিয়াল।ধীরে সুস্থে গোসল করে দুপুরের খাওয়ার খেয়ে স্বাভাবিক
দিনের মত ইউনিভার্সিটির মোড়ে এসে এক কাপ চা খাচ্ছিল।কিছুক্ষন পর সেখানে
এসে দাড়ালো বিপ্র,তার ইয়ারমেট।পিয়ালের কাছে এসে বিপ্র বলল- কিরে তুই
এখনো ক্যাম্পাস ছাড়িসনি? সহজ ভাবেই পিয়ালের জবাব- না,ছাড়তে পারিনি।কোন
জবে ঢুকতে পারিনি,সময় কাটাবো কোথায়।তুই কি করছিস? শুনেছি জব করিস?
– ঠিকই শুনেছিস। আপাতত একটা করছি।
– আমার জন্য কিছু একটা দেখিস। যদিও বাবার কোন অভিযোগ এখনো নেই,তবুও কিছু
একটা ছাড়া ভাল লাগছে না।
– অবশ্যই দেখবো দোস্ত। কোথায় আছিস আগের বাসাই।
– হুম।এক বড় ভাইয়ের সাথে রুম শেয়ার করে। উনি জব করেন।তুই কোথায়
থাকিস।বিয়ে করবি না? এখনতো মোটামুটি একটা জব করিস।
– হুমমম- অনেক প্রশ্ন করে ফেলেছিস।থাকিতো রামপুরা।বিয়ের জন্য বউ
খুজছি।তাই ধানমন্ডি আসা।
– মানে?
– চল লেকের ধারে যাই।
– লেকের ধারে কি বউ খুজবি নাকি,হ্যা?
– চলনা পেয়েও যেতে পারি।যদি শালী থাকে তোকে দিয়ে দেব যা।
– তাই নাকি।লেকের ধারে কি কি পাওয়া যায় তুই জানিস না।এখন আরও ডিজিটাল
হয়েছে।ভাই আমি যাব না।
– আরে ভয় পাচ্ছিস কেন? আমরা কি ওগুলো দেখবো নাকি? ভদ্র দেখে দেখবো।
– ভদ্র যারা আসে তারা হাঁটতে আসে।এবং বয়স্ক, শ্রদ্বেয়।বেয়াদপি করবি নাকি।
– ওরে আমার সোনা।এই জন্যইতো তোর জীবনে কিছু হলো না।বাবার টাকা খরচ করে
প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে শুধু পড়লিই।শোন,জাহাঙ্গির নগর ইউনিভার্সিটির
বৈশিষ্ট হচ্ছে সেখান থেকে বের হয়ে যাবার সময় পেছনের পকেটে থাকে
সার্টিফিকেট,আর বোগলের নিছে থাকে বউ। এখনকার প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির
বৈশিষ্ট হচ্ছে প্রথমেই ভিডিও ক্লিপ মোবাইলে মোবাইলে প্রকাশ হতে হয়।তারপর
গার্লফ্রেন্ড বয়ফ্রেন্ড।আর সেই প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির ছাত্র হয়ে তুই
কিনা প্রাইমারী স্কুলের মাষ্টারের ছেলেই রয়ে গেলি।চল চল।
বলে পিয়ালকে টেনে লেকের পাড়ে নিয়ে আসলো।ওরা হাঁটছে।পিয়াল এবার
বন্ধুকে সঙ্গ দেবার জন্যই কথা বলে যাচ্ছে।আসলে ওর তো কোন কাজ নেই।পিয়াল
বলছে – তো তুই হঠাৎ রামপুরা থেকে ধানমন্ডি?
– সত্যি বলছি।মেয়ে মানুষ দেখতে।
– কি বলছিস তুই বিপ্র ?
– আরে ব্যাটা আজকে ফ্রেন্ডশীপ ডে না? দিনটাকে স্পেশাল করার জন্য ভাবছি
আজকেই কাউকে ফাইনাল প্রোপোজ করবো।
– কেউ আসার কথা আছে নাকি?
– না
– তাহলে ?
– এভাবে হাঁটতে থাকবো,কাউকে পছন্দ হলে তাকে প্রপোজ করবো।
– আমার পিঠে কিন্তু ছালা বাঁধা নাই বন্ধু।তোমার পিঠে কি আছে?
– কেন ছালা বাঁধতে হবে কেন?
– মাইর খাওয়া নিশ্চিত জেনেও কোন কাজ করতে গেলে পিঠে ছালা বাঁধা উচিত না?
– দেখ,আজকের দিনটা একটা বিশেষ দিন।এইদিন আবার পাবি একশ বছর পর।
– নিজের হাঁড্ডিরে রিস্কের মধ্যে রাইখা আমার বিশেষ দিন পালন করার কোন
দরকার নাই।আমি যাই বন্ধু।
ছুটে প্রায় পালাতে সক্ষম হয়েও ধরা খেয়ে গেল বিপ্রর কাছে।দু’জন
কিছুক্ষন ধস্তাধস্তির কারনে হাঁফাতে থাকে।তারপর কোন রকম ইয়ার্কি ফাজলামি
না করার শর্তে দু’জন আবার পাশাপাশি হাঁটছে।হয়তো খুব সুন্দর একটা মেয়ে
একা হেঁটে আসছে,বিপ্র বলছে,দেখ দেখ মেয়েটা খুব সুন্দর না? পিয়াল বলে-
আমি উনাকে চিনি।
– চিনো,তো আপনি করে বলার কি আছে?
– বলার কারণ আছে এক্ষনি বুঝবা।
বিপ্র তাচ্ছিল্যের সাথে মেয়েটার দিকে দেখে।মেয়েটির পেছন থেকে সূদর্শন
এক পুরুষ দৌড়ে এসে পাশাপাশি হাঁটছে এবং কথা বলছে।বিপ্র বলে- উনি কে? তুই
ওদের ছিনিস।
– হ্যা,প্রায় প্রতিদিনই উনারা এখানে হাঁটতে আসে।
– ও ও।
মেয়েরা ওদের পাশ দিয়ে হেঁটে চলে গেলে বিপ্র আবার এদিক সেদিক কি যেন
খুঁজতে থাকে।পিয়াল খেয়াল করে।সে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেয়,যে কোন উপায়ে
হোক বিপ্রর কাছ থেকে সরে পড়তে হবে।সে দেখে লেকের পাড়ে বেঞ্চে বসে আছে
শাড়ী পরা একজন একা।ব্যাক প্লাস প্রোফাইল ভালোই লাগছে।পিয়াল ইশারায়
বিপ্রকে দেখায়।খুশি হয় বিপ্র,যেন পছন্দ হয়েছে।পিয়াল বলে- চেষ্টা করে
দেখবি? তাহলে যা,আমি এখানে দাঁড়ালাম।
– না তুইও চল।
– দেখ সে যদি রাজিও হয়,তাহলে কি দু’জনের সামনে রাজি হবে? দেবরের সামনে
ভাবি কি ভাইকে কিছু করে?
– না করে না।
– তাহলে,যা,আমি এখানে আছি।
– চলে যাসনা যেন আবার?
– না না যাব না তুই যা।

friendship_day_2014
বিপ্র এগিয়ে যায় সেদিকে।কাছে গিয়ে দাড়ায়।পিয়াল দূর থেকে দেখে
মেয়েটি বিপ্রর দিকে তাকিয়েছে।কি জানি হয,একবার ভাবে সটকে পড়বে,আবার
ভাবে শত হলেও বন্ধুতো।যদি কোন বিপদ হয়।কিন্তু পিয়াল দেখে মেয়েটি কেমন
মায়া মায়া করে বিপ্রর দিকে তাকিয়ে হাসছে। বিপ্রও গদগদ হয়ে
হাসে।পিয়াল মনে মনে বলে এ যেন পূর্ব জনমের সাথি,এ জনমে দেখা হওযাটাই ছিল
বাকি।কি করবে সে এখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে আঙ্গুল চুসবে? তার ভাগ্য ভাল
বিপ্র সাহেব দয়া করে একবার এদিকে তাকিয়েছেন।সে ইশারায় বলে- আমি চলে
গেলাম।বিপ্র চোখের ইশারায় বলে-ঠিক আছে।যেন জানে বাঁচলো পিয়াল।সোজা চলে
আসলো ইউল্যাব এর সামনে।তার সাথে ঘনিষ্টতা আছে এমন কাউকেই চোখে
পড়ছেনা।সন্ধ্যার আর বেশী দেরী নাই।আবার সেই চা ওয়ালা মামা’র দোকানে
গিয়ে চায়ের অর্ডার দিল। ফ্রেন্ডশীপ ডে নিয়ে ভাবনাটা একটু উঁকি
মারলো।বিপ্র তার মত করে স্পেশাল করে ফেললো তার দিনটাকে।বিপ্রর এই রকম
সফলতা নিজ চোখে দেখেছে এটাই কি পিয়ালের আজকের স্পেশাল? নিজে নিজে মুচকি
হাসলো সে।এমন যদি হয়,বিপ্র যে রকম একজনের পাশে গিয়ে দাড়ালো অমনি সে
মিস্টি হেসে পাশে বসার ইশারা করলো।পিয়ালের যদি উল্টোটা ঘটতো? কেউ যদি
পাশে এসে দাড়ায়,সে কি পারবে মিস্টি করে হাসতে? ইশারায় চা খেতে বলতে?
ভেবে মেয়েদের মত লজ্জা লাগছে তার।এমন কখনোই হবে না।
খুব জোরে একটি বাইক এসে থামে ইউল্যাব এর সামনে।পিয়াল চা খেতে খেতে
সেদিকে তাকায়।বাইক থেকে মেয়েটা নেমে দাড়াতেই বাইকটা ছুটে যে দিক থেকে
এসেছিল সেদিকে চলে যায়।মেয়েটা মন খারাপ করে কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে চলে
যাওয়া বাইকটার দিকে।তারপর একা একা গিয়ে সিঁড়িতে বসে।পুরো ব্যাপারটা
পিয়াল খেয়াল করে।পিয়াল জানে মেয়েটার নাম সীমানা,যে চলে গেল সে তার
বয় ফ্রেন্ড,ওরা তার পরিচিত। চায়ের বিল দিয়ে পিয়াল দৃষ্টি আকর্ষন করতে
চায় সীমানার।আসল উদ্দেশ্য অন্তত পরিচিত একজন সামনে আছে কথাতো বলা
যাবে।সীমানার চোখ পড়ে পিয়ালের দিকে,ম্লান হেসে জিজ্ঞাসা করে কেমন আছেন
পিয়াল ভাই? ভালো,তুমি কেমন আছ?
– পিয়াল ভাই,একচুয়ালি ভালো নেই মিথ্যা বলবোনা।
– আজ এমন একটা স্পেশাল ডে তুমি ভালো নেই, মন খারাপ।তোমার পাশে বসি?
– বসেন।
– কথা বলতে বিরক্ত লাগছে নাতো?
– না,আমি কথাই বলতে চাই।তাহলে যদি একটু ভালো লাগে।
– কি হয়েছে বলোতো।স্পেশাল ডে কেমন কাটালে।
– (মৃদু হেসে) আজ আমার ব্রেকআপ হয়েছে।এ রকম স্পেশাল পৃথিবীর কারো হয়নি
আমার বিশ্বাস।
সীমানার চোখে পানি টলমল করছে।পিয়াল একদৃষ্টে দেখে সে পানি।খুব কষ্ট হয়
তার।সেও মৃদু হাসে,চোখ নামিয়ে নেয় নিচের দিকে।কিছুক্ষন দু’জন চুপচাপ
বসে থাকে।পিয়াল নিরবতা ভাঙ্গে-
– চা খাবে?
– আপনি খাওয়াবেন? চাকরী-বাকরীতো কিছূ করেন না।
সীমানার কথায় কেমন যেন রোমাঞ্চিত বোধ করলো পিয়াল।মোবাইলে ঘড়ি দেখলো
৬টা বাজে।হেসে বলে-
– আরে আজ একটা বিশেষ দিন,আমার দিনটাকে না হয় তোমাকে এক কাপ চা খাইয়ে স্পেশাল করি।
মৃতরা হাসলে বোধহয় এমন লাগতো যেমন করে হাসলো সীমানা।অনিচ্ছা সত্যেও উঠে
এলো সে।পিয়ালকে সে যতটুকু জানে খুবই সহজ সরল একটা মানুষ।আজকে এখন
পর্যন্ত যে কয়টা কথা হয়েছে,কোনদিনই মনে হয় এত কথা হয়নি তাদের।চায়ের
কাপ পিয়াল এনে হাতে দেয়ার পর চুপচাপ দাড়িয়ে চুমুক দিচ্ছে শুধু।কোন
কথা বলছে না।কিন্তু পিয়ালের কথা বলতে ইচ্ছা করছে।সে আর একটু কাছ ঘেঁষে
দাড়িয়ে বলল-
– মনটা খুব খারাপ?
– হু
– আমিতো জীবনে কোনদিন প্রেম করিনি,তাই বুঝিনা ব্রেকআপ হলে কেমন লাগে।
চুপ করে থাকে সীমানা।
– জান সীমানা
সীমানা ছোট্র করে তাকায় পিয়ালের দিকে।
– ফ্রেন্ডশীপ ডে কে স্পেশাল করবো বলে ১ আগষ্ট  থেকে কত যে পরিকল্পনা
করলাম কিছুই হলনা।
– কেন?
– কোন পরিকল্পনাই পছন্দ হয়নি।শেষে কয়েকজন মিলে ঠিক হলো,শুধু রাস্তায়
রাস্তায় হাঁটবো।কিন্তু মজার বিষয় হলো তাও আমার ভাগ্যে জুটলোনা।
– কেন?
– আমার ঘুমই ভাঙ্গলো বেলা ১২টা বাজে।এসে দেখি কেউ নেই।হা হা হা……
অন্ধকার হয়ে গেছে। চা শেষ করে দাড়িয়ে আছে সীমানা।পিয়াল মামাকে টাকা
দিয়ে কাছে এসে দাড়ায়।সীমানার গলার শব্দ যেন বের হয় না,এমন নীচু শব্দে
বলে- আপনি কি এখন চলে যাবেন পিয়াল ভাই?
– না- কোথায় যাবো?
– চলেন ওদিকটায় হাঁটি।
– চলো
বলে পিয়াল সীমানাকে অনুসরন করে।খুব ধীরে ধীরে হাঁটছে সীমানা।
পিয়াল কথা বলতে চায়।কিন্তু সীমানার বোধহয় চুপচাপ থাকতেই ভালো
লাগছে।পিয়াল তাকে স্বাভাবিক করতে চায়।বলে-
– কি হয়েছে বলতো?
চুপ করে আছে সীমানা।
– আমাকে বলা যায়না? নাকি কথা বলতে ইচ্ছে করছে না।
একটা দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছাড়ে।ওর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে পিয়ালও কথা না বলে
হাটতে থাকে।অনেক কষ্টে যেন কন্ঠে শব্দ বের হয় সীমানার।
– পিয়াল ভাই
– বল
– মেয়েদের আপনার কি মনে হয়?
– হুম- মা,বোন,ভাবী,খালা,ফুফু,মামী,চা

চী,নানী,দাদী এত কিছুর পর একজন
হয়তো আছে যে আমার বউ হবে,প্রেয়সী হবে।
– পৃথিবীতে এত মেয়ের ভেতর আপনার ভোগের জন্য শুধু একজন মেয়ে?
– হা হা হা ভোগের জন্য বলছ কেন? আর তা যদি বলও,আমিও তো তার ভোগের
সামগ্রী। দু’জন দু’জনকে ভোগ করা।
– আর একজন যদি অনেক জনকে ভোগের জন্য রাখে?
– সেটা বিকৃতি। আমি মনে করি ঘু খাওয়ার মত বিকৃতি।
– যে ঘু খায় তার সঙ্গে কি মানুষের সম্পর্ক চলে?
– অবশ্যই না।
– আমি ঘু খাওয়া মানুষকে মন থেকে মুছে ফেলতে চাই।
– রাসেল কি ঘু খায়?
– শুধু খায় না, ঘুয়ের মধ্যে লুটোপুঠি খায়।
– ঘুয়ের মধ্যে কি তা হলে অনেক মজা?
– ওয়াক থুহ্ …
– ওয়াক থুহ্ …
– আপনি কি ফান করছেন ?স্পেশাল ডেতে আমি একটা সুন্দরী মেয়ের সাথে হেটে হেটে ঘু বিষয়ে আলোচনা
করছি।সত্যি খুবই স্পেশাল হলো বিষয়টা।
– সত্যি পিয়াল ভাই আজকে আমার এই দিনটা খুবই অপমানের হয়ে গেল।এই তারিখটা
আমার জীবনে আর ফিরে আসবেনা ভেবে ভাল লাগছে।একশ বছরতো আর আমি বাঁচবোনা।আমি
কত স্বপ্ন দেখেছি আজকের এই দিনটা নিয়ে।আমিই নিজেকে আজ সমর্পণ করবো
রাসেলের কাছে ভেবেছিলাম ।প্রয়োজনে বিয়েও করে ফেলবো হয়ত।মাঝে মাঝে সে
আমাকে চাপ দিত বিছানায় যাওয়ার জন্য,বলত এখন নাকি বিয়ের আগে এসব কোন
বিষয়ই না।আমি বোঝাতে চেয়েছি ওকে।শেষমেষ ভাবলাম ওকেইতো একদিন বিয়ে করবো
তাই আজ একটা বিশেষ দিন আজই হোকনা আমাদের বিয়েটা।আমি তার বাসায় গিয়ে
দেখি-
কাঁদতে থাকে সীমানা। পিয়াল কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। তারপর
দাড়ায়।কিছুদুর গিয়ে সীমানাও রাস্তার পাশে খালি জায়গায়
দাড়ায়।পিয়াল পাশে আসে,বলে-
– বলতে যখন শুরু করেছো শেষ করে নিজেকে হালকা করে নাও।
– এসব কথা কি বলা যায় পিয়াল ভাই।নিজের অপমানের কথা? ও আমাকে ছোট করলো
কেন? আমারই পরিচিত একজনের সাথে।আমি যখন তার ইচ্ছায় সম্মতি দিচ্ছিলাম না
আমাকে ছেড়ে দিলেই পারতো।আমি কেন তার খেলার পাত্র হলাম।জানেন, আমি তার
দরজায় নক করার পর সে যখন দরজা খুলছিলনা,আমার খুব ভয় হচ্ছিল,কোন বিপদ
হলো কিনা আমার প্রিয়ার? আমি রক্ত শূন্য হয়ে যাচ্ছিলাম।যখন সে দরজা
খুলল,অন্ধকার ঘরে অনিলা কি করছিল বলেনতো রাসেলের সাথে? আমার দিকে যেন
বিজয়ীনির মতো তাকিয়ে আছে।আমি ওদের কারো কোন ক্ষতি করিনি।রাসেল বলে, ওর
বিশেষ দিনের বিশেষ আনন্দ নাকি আমি নষ্ট করে দিয়েছি।আমাকে যে ফেলে দিয়ে
গেল,আমি নিশ্চিত এখনও তারা বিশেষ দিন উদযাপন করছে।
দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে পিয়াল।সমবেদনার হাসি হাসে।কিছুটা আক্ষেপও আছে যেন
হাসিতে।গলা খাঁকারি দিয়ে বলে পিয়াল- আচ্ছা একটা কথা বলবো?
– হুম, বলেন।
– আমার দিনটা তো কোন ভাবেই স্পেশাল হলোনা।মনে কর,এটা আমার একটা চেষ্টা
দিনটাকে স্পেশাল করার জন্য।
চুপ হয়ে আছে সীমানা।নিজেতে নেই যেন পুরোপুরি।পিয়াল থেমে থেমে বলছে-
তোমার তো ব্রেকআপ হয়ে গেছে।চলোনা,আমরা দু’জন ফ্রেন্ডশীফ করি,তুমি আমার
গার্লফ্রেন্ড আমি তোমার বয়ফ্রেন্ড?
সংবিৎ ফিরে পেয়ে তাকায় সীমানা।
– তুমি চাইলে আমি তোমাকে ফরমালি প্রপোজ করি?
তাকিয়ে আছে সীমানা।
– হয়ত অদৃষ্টের এমনই ইচ্ছা ছিল? তোমার একটা জায়গা থেকে আঘাত আসবে,তারপর
আমার মত একটা সামান্য মানুষ তোমার কাছে আশ্রয় পাবে। অথবা আশ্রয় খুজবো
দু’জন দু’জনের কাছে।
– এটা কি খেলা পিয়াল ভাই।
– না খেলা না।আমার দিক থেকে আমি সিরিয়াস।আমি সম্ভব মত তোমার মনের অবস্থা
বোঝার চেষ্টা করছি। যেটুকু বুঝতে পারছি তাতে আমার এই মূহুর্তে তোমাকে এসব
কথা বলা উচিত নয়,কিন্তু সমস্যা হয়েছে আজ যে ফ্রেন্ডশীপ ডে ।
আমি আজই তোমাকে ফরমালি প্রপোজ করবো।অবশ্যই রাত ১২টার আগে,এখনো অনেক সময়
আছে।তুমি এক্সেপ্ট করতে পার, নাও পার। আমার কোন জোরাজুরি নেই।আমি ১ তারিখ
থেকে ফ্রেন্ডশীপ ডে  নিয়ে অনেক চেষ্টা করেছি কিভাবে বিশেষ হবে দিনটি।কোন
কিছুই হলো না। আজ এই মূহুর্তে আমার মনে একটা উপলব্ধি হলো।বিশেষ সময় কেউ
তৈরী করতে পারে না,তৈরী হয়ে যায়।আজকে দিনটা আমার জন্য খুবই স্পেশাল
অলরেডী হয়ে গেল সীমানা।বিচিত্র সব গঠনা আজ ঘটেছে।থ্যাংক্স গড।তার মধ্যে
তোমার সঙ্গে আমার কোন সময়কি এত কথা হবে ভেবেছ? এক সাথে চা খাব,রাস্তায়
পাশাপাশি হাটবো,তুমি তোমার অনেক গুরুত্বপূর্ণ একান্ত ব্যক্তিগত কথা আমাকে
বলবে,সেই শেয়ারিং থেকে আমার একটা সাহস হবে,তোমাকে আমি প্রপোজ করতে
চাচ্ছি।ইটস্ এ মোমেন্ট সীমানা।এটা তুমি আমি তৈরী করিনি,হয়ে গেছে।
রাত ৮টা বেজে ২০মিনিট।মোবাইলে ঘড়ি দেখে পিয়াল। পিয়াল বলে- বাসায় কখন যাবে ?
– ভালো লাগছে না। এই তো যাব।
– তাহলে চলো আর একবার চা খাই।
বলে এগিয়ে গিয়ে চা দোকানের বেঞ্চে বসে,ধীরে ধীরে সীমানাও গিয়ে পাশে
বসে।চা খাওয়ার সময় দু’জনই চুপচাপ।চা শেষ করে পিয়াল দৃষ্টিতে প্রশ্ন
রেখে তাকায়।সীমানা বুঝতে পারে অনেক রাত হয়ে গেছে বাসায় যাওয়া
দরকার।কিন্তু তার ভাল লাগছে না।ধানমন্ডি এলাকায় ইউনিভার্সিটির মেয়েরা
অনেক রাত পর্যন্ত ক্যাম্পাসে আড্ডা দেয়।ক্যাম্পাস বলতে তো ফুটপাত।আর
সীমানা একটা ফ্যামিলি বাসায় একরুমে সাবলেট থাকে।রাসেলের সাথে যখন ঘুরতো
তখন মাঝে মধ্যে রাত হতো ফিরতে,অসুবিধা হয়নি।আজতো ফিরতেই ইচ্ছে করছে
না।সীমানাকে চুপচাপ ভাবতে দেখে পিয়াল বলে- সীমানা চুপচাপ থেকো না।কিছু
বলো।
– চলেন আমাদের ইউনিভার্সিটির সিঁড়িতে বসি।
– চলো।
১৫ মিনিটের মত হেঁটে এসে তারা বসলো।এসময় পিয়ালই বেশী কথা বলেছে।প্রোপোজ
করতে তো আর বেশী সময় লাগবে না।তিনটি শব্দ-
আই লাভ ইউ। কতক্ষন? ১২টা বাজতে আরো অনেক বাকি।কিন্তু ও কত রাত পর্যন্ত
থাকতে পারবে।আর শুনবনা।শুনলে যদি এখনই চলে যায়।সীমানার কথায় তাকায়
পিয়াল- আপনারা ভাই-বোন কতজন?
– হ্যাঁ- এই আলাপ গুলোই হওয়া দরকার।
অনেকক্ষন পর হাসলো সীমানা।আলো আঁধারের মধ্যে ভালো লাগলো পিয়ালের।সে বলে-
– আমরা এক ভাই এক বোন।বাবা-মা দু’জনই শিক্ষক।বাবার সাথে আমার সবচাইতে ভাল
সম্পর্ক।কথা বলবে আমার বাবার সাথে?
– কে, আমি?
খানিক চঞ্চলতা যেন ফিরে আসছে সীমানার মাঝে
– পাগল হয়েছেন? জিজ্ঞেস করবেনা এত রাতে কোন মেয়েরে আমার ছেলের সাথে?
– জিজ্ঞেস করলে আমি সব বুঝিয়ে বলবো।
– হা হা হা ( অনেক শব্দ করে হাসে সীমানা ) কি বলবেন?
– বলবো বাবা আজ রাত ১২টার আগে এই মেয়েটিকে আমি প্রপোজ করবো।
– হা হা হা। আপনি অনেক মজার মানুষ শুনেছি,আজ সরাসরি দেখলাম।
– তাহলে অনুমতি দাও প্রপোজ করি?
অনেকক্ষন ধরে গুমোট হয়ে থাকতে থাকতে বাঁধ ভেঙ্গে যেন হাসি আসছে
সীমানার।মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে দেখে পিয়াল।যখন হাসি থামে পিয়াল বলে –
আচ্ছা প্রোপোজ করতে তো লাল গোলাপ লাগে,লাল গোলাপ তো নাই।কি করবো এখন?
এক দৃষ্টে তাকিয়ে আছে সীমানা পিয়ালের দিকে। এতটা সরল,সহজ ছিলনা রাসেল।
সে ছিল একটু রাফ।এখনতো পুরোই রাফ,নোংরা,আবর্জনা। পিয়াল হঠাৎ দৌড় মারে
রাস্তার অপর পাশ লক্ষ করে। অবাক সীমানাফিরে যখন আসে সে হাতে দুটো মুরির
মোয়া।সে হাঁটু গেড়ে বসে বলে-
– পৃথিবীতে এই প্রথম কোন প্রেমিক মুরির মোয়া দিয়ে প্রপোজ করবে।
দুটো মোয়া পিয়ালের দুই হাতে।ডান হাতের মোয়াটা সীমানার দিকে
বাড়ানো।পিয়াল ডান হাঁটু গেড়ে বসে বলছে- আই লাভ ইউ।
কিছুক্ষন নিরবতা।হঠাৎ সীমানা দুটো মোয়াই কেড়ে নেয় পিয়ালের হাত
থেকে।তারপর বলে- দুটো মোয়া এনেছেন কেন?
– একটা তোমাকে দিব একটা আমি খাব।
– একটাও আপনি পাবেন না। দুটোই আমি খাব।
– মরজ্বালা।
– জ্বী।এবার চলেন। আমাকে বাসার সামনে নামিয়ে দিয়ে আসবেন।
বলে সীমানা রিক্সা ডেকে উঠে বসে।পিয়ালের দিকে তাকায়,দৃষ্টি দিয়ে
বোঝাতে চায় সে তার জন্য অপেক্ষা করছে।পিয়াল রিক্সায় সীমানার পাশে
বসে।রিক্সা সীমানার বাসার সামনে থামে।পিয়াল ভাড়া মিটিয়ে রিক্সা বিদায়
হওয়ার আগ পর্যন্ত চুপ করে তাকিয়ে থাকে সীমানা পিয়ালের দিকে।যখন দেখে
পিয়াল দাড়িয়ে আছে জিজ্ঞাসু দৃষ্টি দিয়ে তখন মুখ খোলে সীমানা।
– দাড়িয়ে আছেন কেন ? রিক্সাটা খালি গেল,ওটাতে তো চলে যেতে পারতেন।
– ও হ্যা তাইতো ।ঠিক আছে আমি হেঁটেও চলে যেতে পারবো।
– তাহলে যান?
– ঠিক আছে যাচ্ছি, বাই।
পিয়ালের গলাটি কি একটু ভিজে এলো? যখন পা বাড়াতে যাবে অপ্রতিরোদ্ধ হাসি
হাসতে শুরু করলো সীমানা।পিয়াল থেমে মুখোমুখি দাড়ায়। হাসি থামিয়ে
সীমানা বলে- আজ আমার মনের উপর যা হলো তা আমি ভুলে গেছি পিয়াল ভাই।আপনি
আমাকে ভুলিয়ে দিয়েছেন,আমাকে এটুকু সময় দিয়ে।কথায় কথায় একবার আপনি
বলেছেন আপনি খুব সামান্য মানুষ।আপনি সামান্য কি অসামান্য এটা বিচার করার
দ্বায়িত্ব কি আপনার? আমি আজ যে মানুষটাকে পেলাম তাকে অন্য কেউ স্পর্শ
করতে না পারুক আমি তাকে কোনদিন ছেড়ে যাবনা।
পিয়ালের চোখটা যেন একটু ভিজে আসে।কোন মেয়ের তাকে নিয়ে এরকম ধারনা
জীবনে প্রথম।সীমানা বলছে- আজতো প্রথম দিন।আমাদের দেখা হবে প্রতিদিন।আমি
অন্তত আপনাকে ইগনোর করবোনা কোনদিন।হলো? রাত অনেক হয়েছে,বাসায় যান।
– আমি যে —
– আর কোন কথা নয় পিয়াল ভাই।সম্পর্ক মানুষে মানুষে হয়,মনুষত্ব দিয়ে
হয়,আবেগে হয়,বিশ্বাস দিয়ে হয়,পশুতে মানুষে কোন বিশ্বাসও
হয়না,ভালবাসা-সম্পর্কও হয়না।
– মানে বলতে চাচ্ছিলাম
-পিয়াল ভাই – রাগি চোখে তাকায় সীমানা।
– মানে…
– আচ্ছা বলেন, কি বলবেন।
– মানে মোয়া দুটোকি তুমি একাই খাবে না দু’জন দুটো খাবো।
বিস্মিত সীমানা হাসতে হাসতে পিয়ালের গায়ে যেন লুটোপুটি খায়।
তখন, যাদের ঘড়ি ঠিক সময় দেয়,তাদের ঘড়িতে রাত ১২টা বাজে।

মুহাম্মাদ নোমান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী

ঢাকা, ৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এমআর

ঢাকা, ৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ
ঢাকা, ৩ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ