[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ঈদে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের বাজেট, কেনাকাটা, প্রাপ্তি…


প্রকাশিত: August 3, 2014 , 11:49 pm | বিভাগ: ইভেন্ট,এক্সক্লুসিভ


লাইভ প্রতিবেদক : ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাড়ি ফিরছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। আবার অনেকেই পরিবারের সঙ্গে আনন্দ উপভোগ করছেন। পরিবারের প্রতি ভালেবাসার টানতো আছেই। এর মাঝে তাদের মনে উৎফুল্লতা মূলত ঈদের কেনা-কাটাকে ঘিরেই। কেনাকাটায় এক এক শিক্ষার্থীর বাজেট এক এক রকম। চলুন জেনে নেয়া যাক শিক্ষার্থীদের ঈদ বাজেট। পাশাপাশি জেনে নিন, কে কোন ধরনের পোশাক কিনলেন…

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃত বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সাথী আক্তার বলেন, ঈদের চার পাঁচ দিন হাতে থাকতেই কেনা-কাটা শেষ করেছি। পরিবার থেকে দেয়া হয়েছিল ৬০০০ টাকা তার থেকে আমি বয়ফ্রেন্ড এর জন্য রেখেছি ২০০০ টাকা। আবার বয়ফ্রেন্ডও আমাকে একটি ‘পাখি ড্রেস’ কিনে দিয়েছে।

ইসলামি স্টাডিজ বিভাগের ১ম বর্ষের ছাত্র রুবেল হোসেন বলেন, আমার বাজেট ছিল ৮০০০ টাকা। ২০ রোজার পরেই নিজের জন্য পাঞ্জাবি, পরিবার পরিজনের জন্য কিছু কিনেছি আর গার্ল ফ্রেন্ডকে একটি ‘পাখি ড্রেস’ কিনে দিয়েছি।

সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র তাজমীরুল ইসলাম বলেন, পরিবার থেকে আমার জন্য বাজেট ছিল ১০০০০ টাকা। এর থেকে পরিবার ও নিজের জন্য কিছু কিনেছি। এছাড়া এলাকার গরীব দুস্থদের জন্য কিছু কেনাকাটা করেছি।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, ফিলিস্তিনে ইসরাইলি গণহত্যা দেখে নিজের কি আর ঈদ আনন্দ থাকে? তবুও কেনাকাটা করেছি। পরিবার থেকে কেনাকাটার জন্য ৮০০০ টাকা পেয়েছি।

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় : বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ( ৪০ ব্যাচ) ছাত্রী শাকিলা তাসনিম তুর্ণা বলেন, এবার ঈদের দুইটি ড্রেস পেয়েছি। একটা আব্বু কিনে দিয়েছেন। আর একটা মামা। জুতো কিনেছি। ড্রেসের সঙ্গে ম্যাচিং করে জুয়েলারি কিনেছি। মেহেদী ছাড়াতো ঈদ সম্পূর্ণ হয়না তাই মেহেদীও কিনেছি। টুকটাক কসমেটিকস কিনেছি। ঈদের কেনাকাটা করার জন্য ছোট আন্টি বেশ কিছু টাকা পাঠিয়েছেন। ঈদ উপলক্ষ্যে পার্সোনা থেকে হেয়ার কাটিং করেছি।

এ্যাকাউন্টিং এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস ২য় বর্ষের (৪২ ব্যাচ) ছাত্র মো: হাছনাইন বলেন, ছোট ভাইয়ের জন্য পায়জামা-পাঞ্জাবি কিনেছি। যদিও নিজের টাকায় নয় বাবার টাকায়। তবুও ছোট ভাইকে দিতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে। নিজের জন্যও কিছু কিনেছি। ভবিষ্যতে নিজের উপার্জনের টাকা দিয়ে বাবা-মা ও ভাইকে পোশাক কিনে দেয়ার ইচ্ছা পোষন করেন তিনি।

আব্দুল কাদের মার্জুক (সরকার ও রাজনীতি বিভাগ) জুতো ও শর্ট পাঞ্জাবি কিনেছেন। বাবার জন্য পাঞ্জাবি, বোন ও মায়ের জন্য কিনেছেন শাড়ী। ছোট ভাগ্নের জন্য কিনেছেন পায়জামা, পাঞ্জাবি ও জুতো। নানী ও দাদীকে শাড়ি উপহার দিয়েছেন।
পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ বর্ষের ছাত্র ইউসুফ আলী বলেন, শেষ বর্ষে এসে এখন আর আগের মত কেনাকাটার ফিলিংস নাই।

তৃতীয় বর্ষ পঞ্চম সেমিস্টারের ছাত্র নাঈম আখতার বলেন, দুই বড় আপুর কাছ থেকে পেয়েছি ৬০০০ টাকা, তাই এবার পরিবারের ওপর খুব একটা চাপ পড়েনি। এরকম বড় বোন আরো কয়েকটা থাকলে মন্দ হতোনা।

হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় : কৃষি অনুষদের তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শারমিন স্মৃতি বলেন, ঈদ বাজেটে ৬০০০ টাকা পেয়েছি পরিবারের সবার জন্য কিনেছি। ভাইয়ের জন্য পাঞ্জাবি, বোনের জন্য একটি ‘পাখি ড্রেস’ কিনেছি। আর পথশিশুদের জন্যও কিছু কেনাকাটা করেছি।

প্রথম বর্ষের ছাত্রী নাহিদা খাতুন বলেন, এবার ঈদে আামার বাজেট ছিল ১২০০০ থেকে ১৪০০০ টাকা। এর মধ্যে একটি সিম্ফনি-ডব্লিউ৬৯ এনড্রয়েড মোবাইল কিনেছি। এছাড়া ড্রেস ও কসমেটিক্সও কিনেছি।

রুহুল আমিন মিঠু নামে সদ্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বের হওয়া এক ছাত্র যিনি চাকরির পাশাপাশি এখন হাবিপ্রবিতে এমএস করছেন। তিনি জানান, সবার জন্য প্রথম বেতন থেকে এবার কেনাকাটা করেছি। নিজের জন্য কিছুই কেনা হয়নি।

বগুড়া সরকারি আজিজুল হক কলেজ : কলেজের অনার্স তৃতীয় বর্ষের ছাত্রী শানজিদা শারমিনকে হাজবেন্ড সমেত দেখা মিললো বগুড়ার অভিজাত এলাকা জলেশ্বরীতলায়। তিনি বলেন, ২৩ জুলাই পরীক্ষা শেষ। তাই ২৪ জুলাই ঈদের শপিং করতে এলাম। বিয়ের পরে এটাই শ্বশুর বাড়িতে আমার প্রথম ঈদ। নিজের জন্য ও শাশুড়ির জন্য জামদানি শাড়ি নিয়েছি।

রোকেয়া হলের মাষ্টার্সের ছাত্রী শানিলা বলেন, ঈদের কেনা কাটা রমযানের প্রথম দিকেই করেছি। ঈদে বাড়ি যাবো হলের সবাইকে খুব মিস করব।

মনোবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আমিনুল ইসলাম টিউশনির টাকায় বাবা, মা ও ছোট ভাইয়ের জন্য ঈদের শপিং করেছেন। তিনি বলেন, বাবা-মা ও ছোট ভাইয়ের জন্য শপিং করলাম । নিজের জন্য হয়ত কিছু কেনা হবে না…

ঢাকা, ২৭ জুলাই (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন//এসএস