[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



মেডিকেলে ভর্তি: অল্প সময়ে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি…


প্রকাশিত: September 5, 2014 , 9:59 pm | বিভাগ: এডমিশন,ক্যাম্পাস,মেডিকেল কলেজ


আশরাফুল আহসান শান্ত: আগামী ২৪ অক্টোবর মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা। প্রতি বছরের মত এবারো ডাক্তার হবার স্বপ্ন নিয়ে পরীক্ষা দিবে বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী। অল্প সময়ের মধ্যে বিশাল সিলেবাস শেষ করা যেমন কষ্টসাধ্য ঠিক তেমনি ভাগ্যও অনেকটা ভূমিকা রাখে এই ভর্তি পরীক্ষার ক্ষেত্রে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সহায়ক কিছু অতি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ নিয়েই আজকের আলোচনা।

মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় হলে যে বিষয়টি প্রথমেই মাথায় রাখতে হবে তা হল নার্ভাস না হওয়া। অনেকেই প্রশ্নপত্র হাতে পেয়েই উত্তেজিত হয়ে পড়ে যার কারণে অতি সহজ জিনিসও ভুল করে বসে। মনে রাখবে, তোমার জন্য প্রশ্ন কঠিন হওয়া মানে সবার জন্য প্রশ্ন কঠিন হওয়া। তাই ঘাবড়ে না গিয়ে একদম সঠিক উত্তর জানা প্রশ্নগুলোর উত্তর আগে ভরাট কর। প্রশ্ন যদি অনেক বেশি কঠিন হয় তাহলে কখনই না জানা প্রশ্নের উত্তর বেশি দাগাবে না। এতে উল্টো নেগেটিভ মার্কিং হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

এবার আসা যাক বিষয়ভিত্তিক সাজেশনে:

জীববিজ্ঞান: উদ্ভিদবিজ্ঞান এবং প্রাণীবিজ্ঞান মিলে মোট থাকবে ৩০ নম্বর। কখনই তুমি নির্দিষ্ট করে বলতে পারবে না কোন অংশ থেকে কয়টি প্রশ্ন থাকবে। কিন্তু এক্ষেত্রে তুমি অনুসরণ করতে পার মজার কিছু বুদ্ধি। অনেকেই বলে থাকে যে না বুঝে মুখস্ত করাই কাজ এক্ষেত্রে। কিন্তু তুমি মনে রাখার জন্য নিজে নিজেই তৈরি করতে পার মজার কিছু সূত্রের। যেমন,আম,পেয়ারা,লিচু মনে রাখার জন্য তুমি শুধু মনে রাখবে ‘আপেল’ । আ দিয়ে আম,পে দিয়ে পেয়ারা, ল দিয়ে লিচু। এক কথায় তোমার যেভাবে মনে রাখা সহজ। উদ্ভিদবিজ্ঞানের ক্ষেত্রে প্রথম পাচ অধ্যায় খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আর জীববিজ্ঞানের ক্ষেত্রে মানবদেহের উপর থাকতে হবে অসাধারণ দখল।

রসায়ন: ২৫ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে রসায়নে। এক্ষেত্রেও ১ম ও ২য় পত্র মিলে হবে প্রশ্ন। পর্যায় সারণী থাকতে হবে নখদর্পণে। বিভিন্ন রাসায়নিক সংকেত, আকরিক,বিক্রিয়া আর পরীক্ষা প্রণালীর নাম। এই যা! গাণিতিক সমস্যাবলি নিয়ে একদমই মাথা ঘামাবে না। সবচেয়ে সহজ গাণিতিক সমস্যাই দেয়া হবে তোমাকে প্রশ্নে। সবশেষে, বিভিন্ন পার্থক্য।

পদার্থবিজ্ঞান: সূত্র! সূত্র! সূত্র! বিভিন্ন সূত্র আত্মস্থ করতে হবে তোমাকে। এক্ষেত্রেও গাণিতিক সমস্যা আসবে একদম সাদামাটা। বইয়ের আনাচে কানাচে মোটা অক্ষরে লিখা কোন কিছুই বাদ দেয়া যাবে না। বিভিন্ন টেবিল আর পার্থক্য পড়তে ভুলবে না একদমই।

ইংরেজি: ক্লাস ১ থেকে ১২ পর্যন্ত তুমি যা পড়েছ তাই আবার চোখ বুলাবে অবসর সময়ে। শব্দভান্ডার এর উপর তোমার দক্ষতা যত বেশি থাকবে ততই ভর্তি পরীক্ষার ইংরেজিতে তোমার নাম্বার লুফে আনার সম্ভাবনা বাড়বে। কিন্তু আগে উপরের তিন বিষয়, তারপর ইংরেজিতে গুরুত্ব। নাম্বার মাত্র ১০।

সাধারণ জ্ঞান: নাম্বার ১৫। এই বিষয়ে তোমার যা জ্ঞান তাই যথেষ্ট। সাধারণ জ্ঞানে অসাধারণভাবে সময় নষ্ট করার কোন মানে নেই। প্রতিদিনের পত্রিকা পড়বে। মনে রাখবে এই বিষয়টার উপর পরীক্ষায় যে প্রশ্নগুলো হয় তার উত্তরই বের করতে কয়েকঘন্টা সময় লাগে। সুতরাং তোমার লক্ষ্য থাকবে বিষয়ভিত্তিক ৭৫ নম্বর। ওইখানে ভাল মার্ক পেলেই মনে করবে বাজিমাত করে ফেলেছ।

সবশেষে, গত ১০ বছরের প্রশ্নের সমাধান করতে ভুলো না যেন। পরীক্ষার আগের দিন পর্যন্ত সময়টাকে কাজে লাগাও। মা বাবা আর পরিবারের অন্যান্য মানুষগুলোর কাছ থেকে চাও বেশি বেশি দোয়া। পরীক্ষার আগের রাতে নিশ্চিন্তে ঘুম দাও। হলের উদ্দেশ্যে সকালে ১ ঘন্টা আগে রওনা দেবে। টেনশন নেবার কোন কারণ নেই। তোমার সাথে তোমার স্রষ্টা আছেন, আছে তোমার অদম্য সাহস আর ইচ্ছা যা তোমাকে নিয়ে যাবে তোমার স্বপ্নের ঠিকানায়।

“বেস্ট অব উইশেস ফর ইউ”

আশরাফুল আহসান শান্ত

শিক্ষার্থী, ঢাকা মেডিকেল কলেজ। 

 

ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এসএনটি