[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষার নামে চলছে হরিরলুট


প্রকাশিত: September 7, 2014 , 7:14 pm | বিভাগ: ন্যাশনাল



লাইভ প্রতিবেদক :
দেশে শিক্ষার উন্নয়নের নামে চলছে লুটতরাজ। দুর্নীতির বিস্তার ঘটেছে স্কুলের মাঠ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস পর্যন্ত। দীর্ঘদিন বিষয়গুলো ওপেন সিক্রেট থাকলেও এখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হচ্ছে প্রশাসন।

জাতীয় সংসদ ভবনে রোববার অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে জমা দেয়া প্রতিবেদনে এসকল দুর্নীতির চিত্র উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে এগুলোর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করা হয়।

প্রতিবেদনের তথ্য মতে কর্মচারীদের টিফিন, স্কুল-কলেজের খেলার মাঠ উন্নয়ন, খেলার সামগ্রী ক্রয় ও প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন ব্যায়, সুবিধার বিনিময়ে কম্পিউটার সরবরাহকারীদের থেকে ভ্যাট আদায় না করা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, শিক্ষকদের বিদেশে গিয়ে টাকা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন পন্থায় শিক্ষা বিষয়ে চলছে হরিরলুট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাপ্য না হওয়া সত্ত্বেও ঢাকা বোর্ডের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের অতিরিক্ত সময়ের কাজ দেখিয়ে টিফিন ও পারিশ্রমিক বাবদ ১০ লাখ ৩৯ হাজার ৫শ’ ৪৯ টাকা পরিশোধ দেখানো হয়েছে। বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের খেলার সামগ্রী ও মাঠ ভরাট কাজে ২০ লাখ ৫৬ হাজার টাকা ব্যয় এবং ঢাকা শিক্ষা বোর্ড কম্পিউটার কেন্দ্রে ঠিকাদার ও সরবরাহকারীদের নিকট হতে নির্ধারিত হারে ভ্যাট ও আয়কর আদায় না করায় সরকারের ৩৯ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ টাকা ক্ষতি হয়েছে।

প্রতিবেদনে বিশ্ববিদ্যালয়ের লুটপাটের তথ্যও উঠে এসেছে। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, হাজী দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের আওতাধীন বাসায় বসবাসকারীদের বাসা ভাড়া কর্তন করা দেখিয়ে ৬৮ লাখ ৩৫ হাজার ৪৩০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক ভবনে বসবাসকারীদের নিকট হতে কম হারে বিদ্যুৎ বিল আদায় করায় কিংবা আদায় না করায় আরও ৯১ লাখ ৫৯ হাজার ৫ টাকা আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকার হাজারীবাগে অবস্থিত বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার টেকনোলজির দু’জন প্রভাষক চুক্তি মোতাবেক প্রশিক্ষণ শেষে দেশে প্রত্যাবর্তন না করায় এবং তাদের নিকট থেকে মুচলেকা বাবদ টাকা আদায় না করায় ৫৪ লাখ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কমিটি অনাদায়ী টাকা আদায় করে সরকারি কোষাগারে জমাদান, টাকা ফেরত দিতে অস্বীকার করলে গণদাবী আইন-১৯১৩ প্রয়োগ করে টাকা আদায়ের ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে। একইসঙ্গে আদায়ের প্রমানক জমা দিয়ে আগামী একমাসের মধ্যে যথাযথ নিয়মে কমিটিতে প্রতিবেদন দাখিল করার সুপারিশ করা হয়েছে।

কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীরের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. আব্দুস শহীদ, মোহাম্মদ আমান উল্লাহ, পঞ্চানন বিশ্বাস, আ.ফ.ম রুহুল হক, রেবেকা মমিন, শামসুল হক টুকু, মঈন উদ্দীন খান বাদল, রুস্তম আলী ফরাজী ও বেগম ওয়াসিকা আয়েশা খান অংশ নেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ সাদিক, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন আব্দুল্লাহসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, অডিট বিভাগের কর্মকর্তা এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।

সিএন্ডএজি অফিস শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড এবং বিশ্ববিদ্যালয়, শিক্ষা বোর্ড কম্পিউটার কেন্দ্র, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ও বাংলাদেশ কলেজ অব লেদার টেকনোলজির ২০০১-২০০৯ অর্থ বছরের হিসাব সম্পর্কিত অডিট আপত্তিগুলোর বিষয়ে দাখিলকৃত প্রতিবেদনে এসকল তথ্য উঠে এসেছে ।

ঢাকা, ৭ সেপ্টেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// টিটি