[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বুয়েটে ভর্তি : জানতে হবে যা


প্রকাশিত: October 2, 2014 , 7:35 pm | বিভাগ: এডমিশন,ক্যাম্পাস,ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


BUET_2 (2)আতিকুর রহমান : সারা দেশের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের জায়গা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। আর এজন্যে শিক্ষার্থীদের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের জন্য  প্রথমেই দিতে হয় পরীক্ষা। সারা দেশ থেকে এইচএসসি ফলাফলের উপর ভিত্তি করে মাত্র ৮৫০০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে পারে। তাই এই ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে সকল শিক্ষার্থীরা অন্যরকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়।

অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা মেডিক্যাল কলেজের ভর্তি পরীক্ষা থেকে বুয়েট ভর্তি পরীক্ষার ধরন একেবারেই আলাদা। যারা কলেজে দুই বছর ঠিকঠাক পড়াশোনা না করে এইচএসসি পরীক্ষার আগে গৎবাঁধা কিছু সাজেশন মুখস্থ করে জিপিএ ৫ পেয়েছে, তাদের জন্য বুয়েট ভর্তি পরীক্ষা বিভীষিকার মতো। কিন্তু যারা প্রকৃত অর্থেই এ সময়টাতে অনেক পরিশ্রম করেছে, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়েছে বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়, তাদের জন্য এ পরীক্ষা যোগ্যতা প্রমাণের খুব ভালো মাধ্যম।

বর্তমানে এ+ খুব সহজেই অর্জন করা যায়। কিন্তু বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় দেখা যায় বহু গোল্ডেন এ+ধারী ভর্তির সুযোগ পায় না কেবল মৌলিক জ্ঞান না থাকার কারণে। বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পূর্বশর্ত হচ্ছে কঠোর অধ্যবসায় আর পরিশ্রম।

হিসাব করে দেখা গেছে, প্রতিটি রচনামূলক প্রশ্নের জন্য গড়ে প্রায় ৩ মিনিট সময় পাওয়া যায়। এই অল্প সময়ের মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর করা প্রায় অসম্ভব। তাই যেসব প্রশ্নের সমাধান জানা আছে অথবা সমাধান করতে পারা যাবে বলে মনে হয় সেগুলোর আগে উত্তর করা উচিত।

আর বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ১০০ ভাগ উত্তর করে আসা কঠিন। ৬০০ নম্বরের মধ্যে ৪০-৫০ নম্বরের উত্তর না করেও বুয়েটে চান্স পাওয়া সম্ভব। তাই সব প্রশ্নের উত্তর করে আসব- এই টার্গেট নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাওয়া একধরনের বোকামি। বরং এই টার্গেট রাখা উচিত, আমি যা পারি তা সঠিকভাবে দিয়ে আসব।

ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় হচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষার পরের কয়েকটি মাস। এই সময়ের সঠিক প্রস্তুতি আর দিকনির্দেশনাই বয়ে আনতে পারে কাঙ্ক্ষিত ফল। দিন-রাত প্রচুর পড়াশোনা হয়তো অনেকেই করে, কিন্তু দেখা যায় সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবে আশানুরূপ ফল আসে না।

ভর্তি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত এই তিনটি বিষয়ের ওপরই প্রশ্ন করা হয়। এর মধ্যে পদার্থ আর গণিতের প্রশ্নগুলো তুলনামূলক কঠিন হয়। এই বছর পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও গণিত প্রতিটি বিষয়ে ২০০ নম্বরের প্রশ্ন থাকবে। মনে রাখতে হবে কোন ধরনের এমসিকিউ প্রশ্ন থাকবে না।

পদার্থ বিজ্ঞানের প্রস্তুতি
পদার্থবিজ্ঞানের প্রস্তুতির জন্য অন্তত দুজন লেখকের বইয়ের সব গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা উচিত। কোন লেখকের বই পড়বে সেটা মোটেই গুরুত্বপূর্ণ নয়। তবে শাজাহান-তপন স্যারের বইয়ের সকল গাণিতিক সমস্যার সমাধান করে যায়। আবু ইসহাক-তোফাজ্জল হোসেন স্যারের বইটাও গুরুত্বপূর্ণ। পদার্থবিজ্ঞানের প্রথম পত্রে গতিবিদ্যাসহ প্রতিটি অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ। আর দ্বিতীয় পত্রে চুম্বক, তড়িৎশক্তি, আলো এসব অধ্যায় থেকে প্রায় প্রতিবছরই রচনামূলক প্রশ্ন থাকে। বইয়ের প্রতিটি অধ্যায়ের খুঁটিনাটি বিষয় মনোযোগ সহকারে এবং অবশ্যই বুঝে পড়তে হবে। থিওরিগুলো সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকতে হবে।তাহলে সহজেই মনে থাকবে।

গণিতের প্রস্তুতি
গণিতের অনেক প্রশ্নই টেক্সট বই থেকে সরাসরি তুলে দেওয়া হয়। আবার এমনও দেখা যায়, কিছু প্রশ্ন একটু ঘুরিয়ে দেয়া হয়। সুতরাং মূল বই ভালোভাবে পড়া থাকলে গণিতে খুব বেশি সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কোন লেখকের বই পড়ব এটা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগে। ভালোভাবে বুঝে পড়লে যে কারো বই পড়লেই চলবে। তবে গণিতের জন্য আফসার উজ্জামান, হারুনুর রশীদ কিংবা এস ইউ আহমদের বইটা কাজে দেবে। বলবিদ্যার অঙ্কগুলো বুঝে করতে হবে পাশাপাশি ক্যালকুলাসের সূত্রগুলো মনে রাখতে হবে। গণিতে ভালো করার জন্য বেশি বেশি অনুশীলনের কোনো বিকল্প নেই।

রসায়নের প্রস্তুতি
রসায়নের প্রশ্ন যদিও গণিত বা পদার্থবিজ্ঞানের মতো এতটা কঠিন হয় না। তবুও এ বিষয়টাতে অনেক সময় দিতে হবে, বিশেষ করে জৈব রসায়নে। রসায়ন যত বেশি চর্চা করবে, তত ভালো করা সম্ভব। বিক্রিয়াগুলো বারবার লিখে চর্চা করতে হবে এবং ভাল করে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হয় সব বিক্রিয়া, সংকেত আলাদা খাতায় লিখে নোট করে রাখলে। তাহলে পরীক্ষার দু-এক দিন আগে সেগুলো একপলক চোখ বুলিয়ে নেওয়া যাবে। রসায়নের জন্য হাজারী স্যারের বইটা দেখা যায়। বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায় রসায়ন দ্বিতীয় পত্র থেকে রচনামূলক প্রশ্ন তেমন একটা আসে না। তবে দ্বিতীয় পত্রে প্রচুর বিক্রিয়া, পরীক্ষাগার প্রস্তুতি, শিল্পোৎপাদন, সংকেত, রূপান্তর পড়তে হবে। লক্ষ্য করে দেখা গেছে বেশির ভাগ প্রশ্নই করা হয় প্রথম পত্রের প্রথম দিককার অধ্যায়গুলো থেকে। তাই এসব অধ্যায় গুরুত্ব সহকারে দেখতে হবে।

বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে। এতে যেমন পরীক্ষার প্রশ্ন সম্বন্ধে ধারণা তৈরি হয়, তেমনি আত্মবিশ্বাস বাড়ে। বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে মডেল টেস্ট দেয়া যেতে পারে। এতে নিজেকে যাচাই করে নেয়া যায়। তবে কোচিং এ না গিয়েও নিজেকে যাচাই করা সম্ভব। সাজেশনভিত্তিক পড়াশোনা করা যাবে না। যারা মনে করছে, শেষ মুহূর্তে সাজেশন ধরে প্রস্তুতি নেবে, তাদের বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দেওয়াটাই বৃথা হবে। অনেকেই বিভিন্ন গাইড বইয়ের ওপর নির্ভর করে প্রস্তুতি নেয়। এটা আদতে কোনো সুফলই বয়ে আনবে বলে মনে হয় না। মূল বইয়ের কোনো বিকল্প নেই এ কথাটি অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।

একটা বিষয় মাথায় রাখা জরুরি, কারোরই শতভাগ প্রস্তুতি থাকে না। আর বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় অনেকের খারাপ করার প্রধান কারণ খুব বেশি দুশ্চিন্তা বা আতঙ্কে থাকা। পরীক্ষায় দেখা যায়, অনেক শিক্ষার্থী এত দিন যা পড়ে এসেছে এর বেশির ভাগই হলে গিয়ে ভুলে যায় এবং কঠিন বিষয়গুলো নিয়ে খুব বেশি সময় নষ্ট করে ফেলে। ফলে সহজ প্রশ্নগুলো সমাধান করে আসতে পারে না। আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

মাথায় রাখতে হবে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো পরীক্ষার হলের পারফরম্যান্স। প্রশ্ন যত কঠিনই হোক না কেন, কোনোমতেই ঘাবড়ানো যাবে না। পরীক্ষা শুরুতেই ঘাবড়ে গেলে ফল খারাপ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। মোটেই হতাশ হওয়া চলবে না, নিজের ওপর আস্থা থাকা চাই। আর ঠাণ্ডা মাথায় পরীক্ষা দিতে পারলে বুয়েটে চান্স পাওয়া কঠিন কোনো ব্যাপার নয়।

ঢাকা, ২ অক্টোবর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম) // এমএ