[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ঘুরে এলাম দার্জিলিং


প্রকাশিত: August 12, 2014 , 9:18 pm | বিভাগ: ট্যুরিজম এন্ড এনভায়রনমেন্ট


রিয়েল মাহমুদ: বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ানো আর প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে কার না ভাল লাগে ! আমার কাছে সমুদ্র ও পাহাড়ের আকর্ষণ অন্যরকম। তবে পাহাড়ই আমাকে খুব কাছে টানে। বান্দরবন, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি ভালভাবে ঘুরে দেখার সুযোগ হয়েছে।

এ ছাড়া দেশের ভেতরে অনেক ঘোরাঘুরি হলেও দেশের বাইরে তেমন ঘোরা হয়নি। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম এবার আর নিজের দেশ নয় , রমজানের ঈদের ছুটি কাটাবো অন্য অন্য কোন দেশে।

ছোটবেলা থেকে জেনে আসছি দাজির্লিং সম্পর্কে। কত উপন্যাস, সিনেমাতে দেখেছি, এবার কাছ থেকে  দেখব। বসে পড়লাম অনলাইনে, দার্জিলিং সম্পর্কে জানা দরকার। কিভাবে যাব? কোথায় থাকবো? একমাত্র উপায় গুগল মামা আর ফেসবুক। আমার ফেসবুকে writerশিলিগুড়ির এক বন্ধু রয়েছে। তার সাথে একটু যোগাযোগ করলাম। তার কাছ থেকে একটু তথ্য নিয়ে বেড়িয়ে পড়লাম।

দার্জিলিং নামটিতেও বৈচিত্র্য আছে। দোজের্ অর্থাৎ বজ্র থেকেই দোরজি লিং বা বজ্রপাতের দেশ (land of thunder bolt) থেকেই দার্জিলিং নামের উৎপত্তি। ১৯ শতকে সিকিম রাজ্যের অধীন ছিল দার্জিলিং । ১৭৮০ তে নেপাল থেকে গোর্খারা এসে দখল নেয় দার্জিলিং। ১৮১৭ এ অ্যাংলো-নেপাল যুদ্ধে হেরে দার্জিলিং ছাড়ে নেপাল।

আর ১৮২৮ -এ আগমন ঘটে Lloyd ও Grant নামে দুই ব্রিটিশের, তারা সিকিম রাজার সাহায্য নিয়ে দখল নেয় দার্জিলিং। ১৮৪০ সালে চোরাপথে চীন থেকে চায়ের বীজ আনে, নেপাল  থেকে শ্রমিক, শুরু হয় চা চাষ। যা আজ পৃথিবী বিখ্যাত দার্জিলিং চা। ব্রিটিশরাই চা আনা-নেয়ার সুবিধার জন্য চালু করেন ট্রেন, যা আজ পর্যটকদের প্রধান আকর্ষন।

যাই হোক কলকাতা থেকে রাতে দার্জিলিং মেইল (ট্darjiling..রেন) এ করে শিলিগুড়ির উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলাম। সকালে পৌঁছে গেলাম শিলিগুড়ি। এবার এখান থেকে জীপ গাড়িতে দার্জিলিং। দুরত্ব ৭৯ কিঃমিঃ।
গাড়ী এগুচ্ছে দার্জিলিং এর দিকে,  ধীরে ধীরে সমতল থেকে পাহাড়ে উঠতে লাগলাম আর আমাদের উত্তেজনা বাড়তে লাগলো।

দার্জিলিং এ যাবার দুটি প্রধান পথ আছে।  প্রধান সড়কটি মোটামুটি প্রশস্থ এবং অনেক দুর ঘুরে (সময় বেশী লাগে) দার্জিলিং যেতে হয়। তবে রাস্তাটি বৈচিত্র্যে ভরা এবং অন্য রাস্তা থেকে আশপাশ দেখতে খুব সুন্দর। মন মুগ্ধকর রাস্তার দু’পাশ। গাছগাছালি গুলোও আমাদের দেশ থেকে ভিন্ন, লম্বা লম্বা ক্রিসমাস ট্রির মত। সবুজ পাহাড়, পাথর গুলো ঢেকে আছে ঘাসে। আবার ঘাস গুলোতে ছোট ফুল, লাল, সাদা, নিল। রাস্তা দিয়ে এগুচ্ছি, দেখি অনেক উপর দিয়ে পাহাড়ের গা বেয়ে গাড়ী চলছে। খেয়াল করতে লাগলাম আমি যেখানে আছি তার নিচেও রাস্তা দেখা যাচ্ছে এবং উপরেdarjiling..2ও রাস্তা দেখা যাচ্ছে। তার মানে আমরা এঁকেবেঁকে পাহড়ের গা বেয়ে পাহড়ের চূড়ার দেশ দার্জিলিং যাচ্ছি! শুরু থেকেই দেখলাম রাস্তার পাশ দিয়ে একটি ট্রেন লাইন চলে গেছে কিন্তু কোন ট্রেন দেখতে পেলাম না। লাইন দেখে বোঝা যাচ্ছে লাইনটি এখনো সচল। পরে জানতে পারলাম বৃটিশ আমলে নির্মিত এই লাইন। ট্রেন আছে তবে সিট সহজে পাওয়া যায় না। হঠাৎ করেই পথের বাঁকে আমরা একটি চলন্ত ট্রেন দেখতে পেলাম। আমি ট্রেন দেখে একে বারে  থ’ বনে গেলাম কারণ ট্রেন গুলো আমাদের দেশের শিশু পার্কের ট্রেনের মত তবে একটু বড় ও বেশী লোক টানে।
ধীরে ধীরে আমাদের গাড়ি উপরের দিকে উঠছে আর তাপমাত্রা কমতে শুরু করেছে। এক পর্যায়ে গায়ে এক প্রকার ঠাণ্ডা অনুভুতির সৃষ্টি হল,  মনে হল শীতল পরশ। দেখে অবাক হলাম যে মেঘ আমায় ছুঁয়ে যাচ্ছে।

পথ কিছুটা যেতে না যেতেই দেখলাম চারদিক কেমন যেন অন্ধকার মনে হচ্ছে। অর্থাৎ কুয়াশা দেখা যাচ্ছে। কুয়াশা ভেদ করে আমাদের গাড়ি সামনের দিকে এগোতে লাগলো। একটু যেতে না যেতেই শুরু হল বৃষ্টি।
darjiling..1এক সময় আমরা দার্জিলিং গিয়ে পৌছলাম। দার্জিলিং শহরটি ভূ-পৃষ্ঠ থেকে প্রায় সাত হাজার ফুট উপরে। বছরের নয় মাসই থাকে ঠাণ্ডা। মনে হবে মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশে নিজ হাতে ছোঁয়া যাবে মেঘমালাকে। বাকি তিন মাস পুরোপুরি নিজেকে মেলে ধরতে পারে সূর্য। বস্তুত দার্জিলিং শহরটি ব্রিটিশ আমলেই বিশ্ব পর্যটকদের নজরে আসে। শহরে উঠেই দেখতে পাবেন সব জায়গায় ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের চিহ্ন। রেলস্টেশন, বাসস্টেশন, রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে স্কুল-কলেজ এমনকি চিড়িয়াখানাসহ সব স্থানেই ব্রিটিশ ঐতিহ্যের ছোঁয়া। মূলত ব্রিটিশরা এ শহরকে তাদের নিজের মতো করে সাজিয়েছিল। কারণ একটাই- এর নির্মল আবহাওয়া আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
এছাড়া পাহাড়ের আনাচে-কানাচে বয়ে চলছে ঝরনার নির্মল বারিধারা। ছোটছোট ফাটল বেয়ে পানি গড়িয়ে পড়ছে। এরকম আরও অনেক কিছু রয়েছে, যা আপনার মনকে নাড়া দিতে পারে। ভুলে যেতে পারেন যান্ত্রিক জীবনের দৌড়ঝাঁপ। সত্যিই তখন মনে হবে প্রকৃতিই পারে মানুষকে নির্মল আনন্দ দিতে।

দেখতে দেখতে ঘরে ফেরার সময় চলে আসলো। শেষ পর্যন্ত কলকাতা থেকে ঈদের কেনাকাটা সেরে ঈদের ২ দিন আগে দেশের মাটিতে পা রাখতে পারলাম । প্রিয় দেশ, বাংলাদেশ, যার কোনো তুলনা হয় না । নতুন দেশ দেখার আনন্দ নিয়ে ফুরফুরে মেজাজে ঘরে ফিরলাম ।
শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

ঢাকা/এমএল, ১২ আগস্ট (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//এমএইচ