[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ছাত্রী হোস্টেলের নামে এসব কি হচ্ছে…!


প্রকাশিত: November 7, 2014 , 2:59 am | বিভাগ: আদার ইন্সটিটিউট,ক্যাম্পাস,ঢাকার ক্যাম্পাস


লাইভ প্রতিবেদক: এখানে তিনবেলা খাবারের সুব্যবস্থা আছে। পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের কোন সমস্যা নেই। মনোরম পরিবেশে পড়াশোনা করা যায়। এমন চটকদার টু-লেট টানিয়ে ছাত্রী হোস্টেলে থাকার আকর্ষণ বাড়ানো হয়।

টু-লেটের সঙ্গে বাস্তবের কোন মিল নেই। খোপ খোপ ঘর, নোংরা পরিবেশ, ছারপোকার বাসস্থানের সঙ্গে আপোশ করে থাকতে হয় ছাত্রীদের।

রাজধানীর ফামর্গেট, খামারবাড়ি, মিরপুর, আজিমপুর, কমলাপুরের ছাত্রী হোস্টেলগুলোতে এমন বেহাল অবস্থা বিরাজ করছে। হোস্টেলগুলোতে ভর্তির সময় স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, স্বাস্থ্যসম্মত খাবার ও শতভাগ নিরাপত্তার গালভরা বুলিতে আকৃষ্ট করা হলেও ভর্তির পর বাস্তবে কোনো সুযোগ-সুবিধাই ঠিকমতো পাচ্ছেন না সেখানে বসবাসরত ছাত্রীরা।

হাডবোর্ডের তৈরি করা ছোট ছোট খোপগুলোকে আলাদা রুম বলে চালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ফলে হোস্টেল অনেকের কাছে হয়ে গেছে চিড়িয়াখানা।নিরুপায় হয়ে এমন গিঞ্জি পরিবেশেই তাকতে হচ্ছে ছাত্রীদের।

ঢাকা শহরে যত্রতত্র গজিয়ে ওঠা ছাত্রী হোস্টেলগুলোর মধ্যে একটির নাম নিবেদিকা ছাত্রী হোস্টেল। কিন্তু নাম এবং হোস্টেলের শাখা বাড়ার সাথে দিন দিন হোস্টেলের গুণগত মান কমছে। এমনই অভিযোগ ফামর্গেটের জাহানারা গাডের্নে অবস্থিত ১৩২/এ তে বসবাসরত ছাত্রীদের।

নিবেদিকা হোস্টেলে বাইরের বারান্দাগুলোতে হাডবোর্ড লাগিয়ে চৌকি বসিয়ে আরেকটি সেটিকেও রুম বানানো হয়েছে। চারদিকে হার্ডবোডের বেড়া থাকায় রুমে আলো প্রবেশের কোন উপায় নেই। ফলে দিনের সবটুকু সময় লাইট জালিয়ে পড়াশোনা করতে হয়।

হোস্টেলের বাসিন্দা ভিক্টোরিয়া ইউনিভার্সিটির ছাত্রী ফারিয়া জান্নাত অভিযোগ করেন চটকদার টু-লেট দেখে হোস্টেলে উঠেছিলাম। আর এখন নোংরা পরিবেশে হাঁপিয়ে উঠেছি। অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ নেই। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে এখানেই ইঁদুর, বিড়ালের সঙ্গে আপোস করে থাকতে হচ্ছে।

ছাত্রীদের অভিযোগ, হোস্টেলের পাহারাদার এবং ইনচার্জ দুজনেই অনেক ছাত্রীর কাছ থেকে অতিরিক্ত ভতি-ফি আদায় করেন। এছাড়াও ভাড়া নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

হোস্টেল ভাড়া সম্পর্কে জানতে চাইলে হোস্টেল ইনচার্জ নীলা আক্তার জানান, বতমানে হোস্টেলে মেয়ের সংখ্যা ৮০ জন। ভর্তির সময় প্রতিজনের কাছ থেকে ভর্তি ফি নেওয়া হয় ২০০০ টাকা করে।

তিনি জানান, একজনের জন্য এক বেডের রুম ৪২৫০ টাকা, দুই জনের জন্য দুই বেডের বড় রুম (থাকার বিশেষ সুবিধাসহ) জনপ্রতি ৬০০০ টাকা এবং তিন জনের জন্য তিন বেডের রুম ভাড়া জনপ্রতি ৪০০০ টাকা করে রাখা হয়।

খামারবাড়ির ২ নং গেট সংলগ্ন একটি নতুন হোস্টেলের নাম মাই হোম। হোস্টেলের ভিতরে দেখলে বোঝার উপায় নেই বাইরে সূর্য উঠেছে কিনা! তুবও এখানে মাসিক চার্জ আকাশছোঁয়া। এক রুমের ভেতরে পাটিশন দেওয়া হার্ডবোর্ডের তৈরি দরজাগুলোর বেশির ভাগই ছিটকিনি নেই। ফলে মেয়েদের বসবাসের জন্য হোস্টেলটি কতখানি নিরাপদ তা অবিভাবকের জন্য চিন্তার বিষয় বটে।

একই অবস্থা রাজধানীর অধিকাংশ ছাত্রী হোস্টেলের। শুধুমাত্র নিরাপত্তার কথা ভেবে এসব ছাত্রী হোস্টেলে মানবেতর জীবন যাপন করছে ছাত্রীরা।

ঢাকা, ০৭ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন