[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বিলুপ্তির পথে বাঁশ-বেতের শিল্প


প্রকাশিত: November 9, 2014 , 7:24 pm | বিভাগ: বিজনেস


6ফেনী লাইভ: প্লাস্টিক সামগ্রীর সহজলভ্যতা, কাঁচামালের অভাব, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারাতে বসেছে বাঁশ ও বেত শিল্প। ফলে বেকার হয়ে পড়ছেন এ পেশার সঙ্গে জড়িত কারিগররা। অনেকেই আবার লাভবান না হতে পেরে পৈতৃক এ পেশা ছেড়ে জড়িয়ে পড়ছেন অন্য পেশায়। সব মিলিয়ে বিলুপ্তির পথে গ্রামীণ জনপদের এ শিল্প।

জানা গেছে, একসময় ফেনীর বিভিন্ন অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ বাঁশ-বেত দিয়ে নানা ধরনের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তারা বাঁশের আঁইচ দিয়ে খাঁচা, মাচা, কোরা, টুকরি ও গোলা বানাতেন।

এছাড়াও ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী কুলা, চাটাই, হাঁস-মুরগির খাঁচা, সাঁজি, ঢাকনা, চালনি, পলো, মোড়া, ধামা, পাতিল, চেয়ার, টেবিল, দোলনা, খারই, পাখা, র‌্যাক, ঝুড়িসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরি করতেন।

তবে প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাব, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও প্লাস্টিকসামগ্রীর সহজলভ্যতার কারণে দিন দিন এসব পণ্যের কদর কমছে। তাছাড়া বর্তমানে উপকূলীয় অঞ্চলের বাঁশ-বেত বাগান এখন প্রায় বিলুপ্তির পথে। ফলে লাভবান হতে পারছেন না এ পেশার সঙ্গে জড়িতরা। এসব কারণে অনেকেই পৈতৃক এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে জড়িয়ে পড়ছেন। এমনটাই জানালেন ফেনীর পরশুরামের বাঁশ-বেতের তৈরি সামগ্রীর কারিগর মাজহারুল ইসলাম।

প্রবীণ কারিগর আফতত আলী জানান, দাগনভূঞা উপজেলার সিলোনিয়া, সোনাগাজী উপজেলার কুঠির হাট, সদর উপজেলার লেমুয়া ও লস্কর হাটসহ বিভিন্ন বাজারে বাঁশ-বেতের হাট বসত। কিন্তু সে ঐতিহ্যে ভাটা পড়েছে।

সোনাগাজী উপজেলার বাঁশ-বেতপণ্যের কারিগর আবুল হোসেন রিপন জানান, উপকূলীয় অঞ্চল সোনাগাজীর অনেক পরিবার বাঁশ-বেত শিল্পের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু বর্তমানে বাঁশ-বেত নেই বললেই চলে। এছাড়া তৈরি পণ্যের ন্যায্য মজুরিও পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি সরকারি অথবা বেসরকারি পর্যায়ে বাঁশ-বেতের চাষ চালু করার আহবান জানান।

এ বিষয়ে ফেনীর কৃষি অধিদফতরের উপপরিচালক আবদুল মতিন জানান, ‘প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ-বেত শিল্প হয়তো আগামী দিনে এখানে খুঁজে পাওয়া যাবে না। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে মুক্তি পেতে আমাদের জন্য বাঁশ-বেত বাগান টিকিয়ে রাখা জরুরি।’

ঢাকা, ০৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআর