[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



রাবি ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডে উত্তপ্ত ক্যাম্পাস, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত: August 15, 2014 , 6:33 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


মনিরুল ইসলাম নাঈম, রাবি : হলে সিট দখল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের বেধড়ক পিটানো, ছাত্রীদের উত্যক্ত করা ও জোর পূর্বক মিছিলে নেয়া এখন নিত্য দিনের ঘটনা। এছাড়া অবৈধ নানা কর্মকাণ্ডসহ অসংখ্য অভিযোগ উঠেছে রাবি শাখা ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে। প্রশাসন বিষয়টি দেখেও না দেখার ভান করছে। এসব ঘটনায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে এক অজানা আতঙ্ক বিরাজ করছে। তারা বলছেন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলসহ নানা ঘটনায় শান্ত ক্যাম্পাস ক্রমেই অশান্ত হতে চলছে। যেকোন সময় ঘটতে পারে বড় কোন দুর্ঘটনা। তবে ছাত্রলীগ বলেছে তাদের বিরুদ্ধে আনিত এসব অভিযোগ সঠিক নয়। তারা সবসময়ই ক্যাম্পাস শান্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

জানা যায়, ঈদের ছুটি শেষে ক্যাম্পাস খোলার পর থেকেই নানারকম অনৈতিক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধরে মারধর করাই বেশী লক্ষ্য করা গেছে।

সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ইফতেখার শাহরিয়ার নামে শিক্ষার্থী ক্লাস শেষে বান্ধবীদের সাথে টুকিটাকি সামনে রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। এসময় তাকে একা দেখে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের মানব সম্পদ উন্নয়ন বিষয় সম্পাদক সাবরুন জামিল সুষ্ময় ও ছাত্রলীগ কর্মী আবু খায়ের মোস্তফা ওরফে রিনেট এবং হিরোক সবাই মিলে বান্ধবীদের সাথে খারাপ ভাষায় কথা বলতে থাকে।

ইফতেখার এর প্রতিবাদ করলে তারা সবাই মিলে তাকে বেধড়ক ভাবে মারধর করে। পরে সেখানে তার সহ-পাঠিরা উপস্থিত হয়ে তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করে।

তবে তার বাবা আব্দুস সালেক সিরাজগঞ্জের জেলা জজ হওয়ায় এই ঘটনায় ছাত্রলীগকর্মী রিনেট ও হিরোককে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ আটক করে মতিহার থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এর আগে গত ৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের টুকিটাকি চত্বরে কামরুল হাসান নামে অর্থনীতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী টুকিটাকি চত্বরে নাস্তা করছিল। এসময় পাশে বসে থাকা ছাত্রলীগের কৃষি উন্নয়ন বিষয়ক সম্পাদক রাসেল মাহমুদ ও ছাত্রলীগ কর্মী বনির শরীরে ব্যাগ লাগে। এতে ঐ শিক্ষার্থী ‘সরি’ বলার পরেও তাকে ব্যাপকভাবে মারধর করে। পরে তার অবস্থা বেগতিক হওয়ার কারণে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল ভর্তি করানো হয়।

এর তিনদিন পরে ১২ আগস্ট ছাত্রলীগের হাতে মারধরের শিকার হন সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রধান ফটকের সামনে ব্যক্তিগত শত্রুতার জেড় ধরে তাকে মারধর করেন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ক্রিড়া সম্পাদক কাজী আমিনুল ইসলাম লিঙ্কনসহ কয়েকজন নেতাকর্মী।

এদিকে ছাত্রদের জন্য বরাদ্দকৃত আবাসিক হলের প্রায় সবগুলোরই একই চিত্র। ছাত্রদের ১১টি হলে প্রায় চার শতাধিক সিট অবৈধভাবে নিজেদের দখলে রেখেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। দলীয়কর্মী সংকটের কারণে ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণে থাকা অধিকাংশ কক্ষ এখন শূণ্য পড়ে আছে।

কয়েকটি কক্ষে ছাত্রলীগের বেশকিছু বহিরাগত নেতাকর্মী থাকছেন বলে জানা গেছে। হল গুলোতে নতুন করে শুরু হয়েছে সিট বাণিজ্য। এতে করে চরম দূর্ভোগে পড়তে হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের।

শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সময় হল ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে এসব ব্যাপারে অভিযোগ করলেও অপারগতা প্রকাশ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তপক্ষ।

বৈধভাবে বরাদ্দ না নিয়ে সিট দখলে রাখার কারণে প্রতিমাসে অন্তত ৪০ হাজার টাকা সিট ভাড়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে হল প্রশাসন। এদিকে প্রশাসন থেকে হলে সিট বরাদ্দ দিতে চাইলেও ছাত্রলীগের চাহিদা মতো কক্ষ দিতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

হল সূত্রে আরো জানা গেছে, শহীদ হবিবুর রহমান আবাসিক হলে কোন প্রকার সিট বরাদ্দ ছাড়াই অবৈধ ভাবে ১০৪টি সিট নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রেখেছে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। ওই হলের দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্লকে ৮টি কক্ষে অবৈধ ভাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দখল করে আছেন। চার সিট বিশিষ্ট এসব কক্ষে ছাত্রলীগের ২/৩ জনের বেশী নেতাকর্মী থাকেন না।

গত জুন মাসে হলের প্রথম ব্লকের দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার কাজ সম্পূর্ণ হয়। সদ্য নির্মিত ওই ব্লগের দুই তলার ২০১ থেকে ২১৮ এবং তিন তলার ৩০১ থেকে ৩১৮ পর্যন্ত মোট ৩৬টি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে দলীয়কর্মীরা। ছাত্রলীগ কর্মী মামুনের নেতৃত্বে গত রোববার এবং সোমবার রাতে কক্ষগুলোতে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। এরই মধ্যে দুই তলার ৭টি কক্ষে ছাত্রলীগের কর্মীরা উঠেছেন। আর দলীয় কর্মী সংকটের কারণে অন্যান্য কক্ষগুলোতে কাউকে উঠাতে না পেরে তালা ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে ওই হলের নির্ভযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে শহীদ হবিবুর রহমান হল প্রভোষ্ট ড. এস এম এক্রাম উল্যাহ ক্যাম্পাসেলাইভ২৪.কমকে বলেন, কয়েকেজন ছাত্র হলের কয়েকটি কক্ষে নিজেদের পছন্দমতো তালা লাগিয়েছে। তারা যেন কক্ষের তারা খুলে দেয় এব্যাপারে নেটিশ দেয়া হয়েছে। তবে কয়েকদিনের মধ্যে কক্ষ না ছাড়লে তাদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি আয়াতুল্লাহ খোমেনী ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন হওয়ার কারণে তারা ক্যাম্পাসে বারবার অনৈতিক কর্মকান্ড করেই যাচ্ছে। ছাত্রীদের অকথ্য ভাষায় গালি-গালজ করা, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ধরে মারধর করা। এমনকি হলের সিট বাণিজ্য চালাচ্ছে রমরমাভাবে। কিন্তু এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে যাচ্ছে। যদি অচিরেই প্রশাসন তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা হুমকির মুখে পতিত হবে।

এ ব্যাপারে রাবি ছাত্র উপদেষ্টা প্রফেসর ড. সাদেকুল আরেফিন মাতিন ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে যদি কেউ ক্যাম্পাসে অনৈতিক কর্মকান্ড করে তাহলে তার ব্যাপারে প্রশাসন অবশ্যই ব্যবস্থা নিবে।

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগ সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে জানান, ছাত্রলীগের সাথে সংশ্লিষ্ট কেউ যদি কোন অপরাধ করে থাকে তাহলে ছাত্রলীগ সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে। পূর্বেও এ বিষয়ে অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে।

এছাড়া হলের অবৈধভাবে কক্ষ দখল করে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, হল বাণিজ্যের সাথে ছাত্রলীগ কোনভাবেই জড়িত নয়। আর ক্যাম্পাসে এ ধরনের কোন ঘটনার ব্যাপারে আমার জানা নেই।

রাবি//আরএম, ১৫ আগষ্ট(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরজে