[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ছাত্রলীগ কর্মীদের বহিষ্কারেই কুমেক প্রিন্সিপালের পদত্যাগ!


প্রকাশিত: November 16, 2014 , 10:40 pm | বিভাগ: চট্টগ্রামের ক্যাম্পাস,মেডিকেল কলেজ


comilla-medical-college2কুমিল্লা লাইভ : কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ছাত্রলীগের ৩ কর্মীকে বহিষ্কারের জের ধরে আন্দোলনের মুখে কলেজ প্রিন্সিপাল পদত্যাগ করেন। এ ধারাবাহিকতায় শনিবার ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন কলেজটির ভাইস প্রিন্সিপাল। পরে আবার রোববার পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন ভাইস প্রিন্সিপাল।

এদিকে কলেজের মেডিসিন ক্লাবের আধিপত্য বিস্তারসহ বিভিন্ন ঘটনায় শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে। এ নিয়ে অধিকাংশ শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও অসন্তুষ্ট।

জানা যায়, ২৮ অক্টোবর কলেজের শাহ আলম বীর উত্তম ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে ছাত্রলীগের ৩ কর্মী মীর তানভীর আহমেদ, তানভীর আহমেদ ও জয় জগন্নাথকে ৬ মাসের জন্য বহিষ্কার করে একাডেমিক কাউন্সিল।

এরপরই বুধবার থেকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে প্রিন্সিপালের পদত্যাগ দাবি করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা।

পরদিন বৃহস্পতিবার অধ্যক্ষের পদ থেকে পদত্যাগ করেন প্রফেসর ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।

এ ঘটনার ২দিনের মধ্যে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক অসুবিধার কারণ উল্লেখ করে গত শনিবার দুপুরে পদত্যাগপত্র প্রেরণ করেন কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. কে এ মান্নান।

সূত্র জানায়, এ কলেজে মেডিসিন ক্লাব, সন্ধানী ও আধুনিক নামের ৩টি সংগঠন রয়েছে। এর মধ্যে মেডিসিন ক্লাব সাংগঠনিকভাবে সক্রিয় থাকলেও বিএনপিপন্থী সন্ধানী ও জামায়াতপন্থী আধুনিকের কার্যক্রম নেই বললেই চলে।

জানা যায়, কলেজ ছাত্রলীগ মেডিসিন ক্লাবের মাধ্যমে এ কলেজে আধিপত্য বিস্তার করে আসছে। অধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে মূলত: তারাই নেতৃত্বে ছিল। হঠাৎ করে আন্দোলনের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়ে।

এতে কলেজটির একাডেমিক ও প্রশাসনিক কাজে দেখা দেয় চরম অচলাবস্থা। এ অবস্থায় রোববার দুপুরে পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করে নেন ভাইস প্রিন্সিপাল ডা. কে এ মান্নান।

প্রফেসর ডা. মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ জানান, এ কলেজের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে আমি আছি। আমি ছাত্রলীগ নামধারীদের কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করার সুযোগ দিতে পারি না। তাই পদত্যাগ করেছি। একইসঙ্গে তিনি চক্রান্তকারীদের ষড়যন্ত্র থেকে সতর্ক থেকে সুষ্ঠু পরিবশ অক্ষুন্ন রাখার জন্য  সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহবান জানান।

এদিকে জেলা বিএমএ’র সাধারণ সম্পাদক ও জেলার ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী কলেজ প্রিন্সিপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, কলেজ প্রিন্সিপাল দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন করে আসছিলেন। এতে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

তবে কলেজের অধিকাংশ শিক্ষক, সাধারণ শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, তুচ্ছ কারণে একটি কুচক্রীমহল ইন্ধন দিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে নামিয়ে পদত্যাগের পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে।

কুমিল্লা, ১৬ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// টিটি