[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বাকৃবিতে ইস্যু পলিটিক্যাল, দায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের!


প্রকাশিত: November 19, 2014 , 2:34 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,ঢাকার ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


লাইভ প্রতিবেদক : বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে জেলা ছাত্রলীগের দ্বন্দ্বের দায়ভার চাপানো হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর। শত্রুতা তৈরি করেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা আর এর মাশুল দিচ্ছেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। রাজনৈতিকসহ নানা ইস্যুতে জেলা ছাত্রলীগের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে সেখানে সাধারণ শিক্ষার্থীদের কৌশলে মাঠে নামানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

পলিটিক্যাল ইস্যুকে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইস্যু হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আর এ কাজটি সুকৌশলে করছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ও ছাত্র সমিতির নেতাকর্মীরা। ক্যাম্পাসে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের ঠেকানোর নাম করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ইমোশনকে কাজে লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে এ আন্দোলনের পেছনে ছাত্রলীগের সম্পৃক্ততা থাকায় কর্মসূচিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নেই বললেই চলে। অান্দোলনে ছাত্রীদেরও উপস্থিতি নেই। সাধারণ শিক্ষার্থীদের হলে তালা লাগিয়ে আন্দোলনে নিয়ে আসা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদেরকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আন্দোলনে নিয়ে আসা হচ্ছে।  অনেকটা জোর করেই শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনে বাধ্য করা হচ্ছে। এনিয়ে অনেক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম-এর কাছে অভিযোগ করেছেন।

bau-live

ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন, বহিরাগত ঠেকাতে মানববন্ধন কর্মসূচির ব্যানারে লেখা আয়োজনে ‘সর্বস্তরের ছাত্র জনতা’ আর বক্তব্য রাখছেন বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুর্শেদুজ্জামান খান বাবু, পাশে সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল ইসলামসহ অন্য নেতাকর্মীরা। কর্মসূচিতে কোন ছাত্রী নেই। এই ছবিটি কিসের ইঙ্গিত করে…? (মঙ্গলবারের ছবি)

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা বহিরাগতদের দ্বারা প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়ছি। কিন্তু এখন যাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়েছে তাদের সঙ্গে আমাদের কোন বিরোধ নেই। এটা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সমস্যা। সেটা আমাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। তারা আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাসীদের দ্বারাও আমরা অতিষ্ট। আগে তাদের এ সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধ করা উচিত।

জানা গেছে, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে একসময় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুর্শেদুজ্জামান খান বাবুর সখ্যতা ছিল। জসিম উদ্দিন বেশির ভাগ সময় হলেই অবস্থান করতেন। কিন্তু নানা কারণে তাদের মধ্যে সেই সখ্যতা টেকেনি। ধীরে ধীরে সেটা শত্রুতার দিকে গড়ায়। টেন্ডার, মনস্তাত্বিক দ্বন্দ্ব, অধিপত্য বিস্তার, মাদক বাণিজ্যসহ নানা ইস্যুতে মূলত  তাদের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়।

এ দ্বন্দ্ব এখন সহিংসতায় রূপ নিয়েছে। গত সপ্তাহে বাকৃবি ক্যাম্পাসে গভীর রাতে গোলাগুলি ও হট্টগোলের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিন ও তার অনুসারীরা জড়িত উল্লেখ করে তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়। বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের চাপের মুখে ওই অভিযোগ দায়ের করা হয়। এনিয়ে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দিনের সঙ্গে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নেয়।

সর্বশেষ গত সোমবার রাতে আবারো বহিরাগত সন্ত্রাসীরা বাকৃবি ক্যাম্পাসে মহড়া ও ককটেল ফুটিয়ে আতংক তৈরি করে। এর পেছনেও জসিম উদ্দিনের ইন্দন রয়েছে বলে দাবি করেছেন বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

বিষয়টি নিয়ে রাতেই বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে তারা ভিসির বাসভবন ঘেরাও কর্মসূচিও পালন করেন। রাতে ছাত্র সমিতির নেতাকর্মীদের মঙ্গলবার ক্লাস-পরীক্ষা ঘোষণা দেয়ার নির্দেশ দেয় ছাত্রলীগ। রাতেই ফেসবুকসহ অনেক শিক্ষার্থীকে মৌখিভাবে জানানো হয় বহিরাগত সন্ত্রাসী ঠেকাতে মঙ্গলবার বাকৃবিতে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন। সে অনুযায়ী ওই কর্মসূচি পালন করা হয় মঙ্গলবার। এ আন্দোলনে সমর্থন দেয় বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন। তবে প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ব্যানারে আলাদা কর্মসূচি পালিত হয়েছে।

এনিয়ে ফেসবুকেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন বাকৃবিতে বহিরাগতদের উৎপাত নতুন কিছু নয়। এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাই বহিরাগতদের ইন্দন দিয়েছে। তারাই তাদের এ সাহস জুগিয়েছে। তাদের সম্মিলিত অত্যাচারে অতিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আর এখন ছাত্রলীগের উপর আঘাত আসায় বিষয়টি নিয়ে ইস্যু তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের তেমন একটা সম্পৃক্ততা নেই।

যারা আন্দোলনে আসছেন তাদেরকে জোড় করে আনা হচ্ছে। আন্দোলনে ছাত্রীদের অনুপস্থিতিই প্রমাণ করে এটা সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয়। একটি বিশেষ দলের স্বার্থ হাসিলের জন্যই এ আন্দোলন করা হচ্ছে। নিজেরা আড়ালে থেকে ছাত্রদের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। স্বার্থ উদ্ধার হলে ওই বিশেষ সংগঠনটি কেটে পড়বে। আর বিপাকে পড়বে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এমন অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অনেক শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীরা বলেন, বহিরাগতদের উৎপাত বন্ধ হোক সেটা আমরা চাই। তবে বিশেষ কোন দলের স্বার্থ হাসিলে আমাদের ব্যবহার করা হোক সেটা আমরা চাই না।

এব্যাপারে বাকৃবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মুর্শেদুজ্জামান খান বাবুকে বারবার ফোন করেও পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মো: জসিম উদ্দিন ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, আমরা বহিরাগত না। এখানেই আমাদের জন্ম এখানেই আমাদের বড় হওয়া। বাকৃবি ক্যাম্পাসকে আমরা নিজেদের ক্যাম্পাস মনে করি। বাকৃবির শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। আমরা অনেক সময় এগুলোর প্রতিবাদ করায় তাদের প্রতিপক্ষ হয়েছি।

নিজেরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম করে তারা আমাদের বহিরাগত সন্ত্রাসী আখ্যা দিচ্ছে। সন্ত্রাসী কারা এটা সবাই জানে। তিনি মুর্শেদুজ্জামান বাবুকে উদ্দেশ্য করে বলেন, তার ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড কি, তার আত্মীয় স্বজন কোন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত! সেটা বলতে চাই না তবে তার মতো এমন সুযোগ সন্ধানী নেতার কারণেই বাকৃবিতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম হয়েছে।

 

ঢাকা, ১৯ নভেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন