[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



শাবির প্রক্টরকে আর চান না ভিসি, শিক্ষক নেতাও অখুশি (অডিও)


প্রকাশিত: December 6, 2014 , 8:23 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ


লাইভ প্রতিবেদক : শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায়ের মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ২৩ নভেম্বর। তবে মেয়াদ শেষ হলেও এখনো অদৃশ্য ক্ষমতাবলে তিনিই রয়ে গেছেন নিজ দায়িত্বে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর আমিনুল হক ভূইয়া জানান, এখনো প্রক্টর পদে পরিবর্তন আনা হয়নি। তাই তিনিই দায়িত্বে রয়ে গেছেন।

ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম কে তিনি আরো বলেন, তবে উনাকে আর প্রক্টরের দায়িত্বেও চাই না।

তবে জনশ্রুতি রয়েছে ভিসির কাছের মানুষ হওয়ার কারণেই প্রক্টরের পদে মেয়াদ শেষ হলেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।

sust-vc_photo

ছবি : (বাম থেকে) শাবি ভিসি প্রফেসর আমিনুল হক ভুইয়া, প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায়, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফারুক উদ্দিন।

জানা যায়, ২০১৩ সালের মাঝামাঝি সময়ে শাবিতে যোগ দেন ভিসি প্রফেসর আমিনুল হক ভুইয়া। এর পর থেকেই প্রক্টর হিমাদ্রি শেখরকে তিনি ডান হাত হিসেবে নেন। আর প্রক্টরও তাকে বিভিন্ন সময় ভুল তথ্য দিয়ে ক্যাম্পাস পরিস্থিতি নিজের মতো করে রাখেন।

ভিসিকে সঠিক তথ্য না দিয়ে নিজের মতো ক্যাম্পাস পরিচালনা করতে গিয়ে নানা অপকর্মের জন্ম দেন প্রক্টর হিমাদ্রি।

এরই ফলশ্রুতিতে সম্প্রতি শাবিতে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপে ঘটে গেছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। প্রক্টরের মদদে বহিরাগতদের অভয়ারণ্যে পরিণত হওয়া ক্যাম্পাসে প্রাণ হারিয়েছে এক বহিরাগত ছাত্রলীগ কর্মী। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে ক্যাম্পাসে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি বজায় রাখতে প্রক্টর ছাত্রলীগের মূল কমিটির নেতাকর্মীদের দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেননি। বরং ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত ও শাবি ছাত্রলীগের কমিটিতে কাঙ্ক্ষিত পদ বঞ্চিত দুই নেতার সমর্থিত নেতাকর্মীদের তিনি ক্যাম্পাসে অবাধ বিচরণের সুযোগ করে দেন।

প্রক্টরের আস্কারা পেয়েই ওই দুই নেতার অনুসারীরা ক্যাম্পাসে ছিনতাই, মোবাইল চুরি, শিক্ষার্থীদের মারধর, শিক্ষক লাঞ্ছিত করা, সাংস্কৃতিক কর্মীদের মারধর, সাংবাদিক রুম লুটপাটসহ নানা অপকর্মের জন্ম দেন।

তবে কোন ঘটনার জন্যই তাদের জবাবদিহি করতে হয়নি। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ তো দূরের কথা, দোষীদের কাউকেই দেয়া হয়নি কোন শোকজ নোটিশ। ছাত্রলীগ নেতাদের সঙ্গে প্রক্টরের কথোপকথনের মাধ্যমেও এসকল তথ্য উঠে এসেছে বিভিন্ন সময়।

এক সময় ওই ছাত্রলীগ কর্মীদের দ্বারা একজন এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর লাঞ্ছিত হলে ৩ জনকে আইওয়াশ বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে প্রক্টরই বিষয়টি মীমাংসা করে বহিষ্কারাদেশ তুলে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শাবি ভিসিকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি প্রক্টরের সঙ্গে দহরম মহরমের কথা অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় চালাতে প্রক্টরের সঙ্গে যতটুকু সম্পর্ক রাখা দরকার ততটুকুই ছিলো। এটা অন্যভাবে নেয়ার কিছু নেই।

ক্যাম্পাসে বিভিন্ন সূত্র থেকে আরো জানা যায়, হিমাদ্রি শেখর রায় দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে ক্যাম্পাস হয়ে ওঠে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আখড়া। মহানগরের এক আওয়ামীলীগ নেতার শেল্টারে শাবির ছাত্র উপদেশ ও নির্দেশনা পরিচালক, এক এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর ও এসএমপির জালালাবাদ শাখার এক পুলিশ কর্মকর্তার সহায়তায় তিনি  ক্যাম্পাসকে পরিণত করেন ভীতিকর জনপদে।

এসব অভিযোগ ছাড়াও প্রশ্নপত্র জালিয়াতি, টাকা আত্মসাৎ, অনিয়ম, দূর্নীতি, উচ্চ শিক্ষার ডিগ্রি প্রাপ্তির আগেই নিজেকে ডক্টরেট বলে পরিচয় প্রদান, শাবি প্রেসক্লাব বন্ধ করে দেয়াসহ নানা অপকর্মে তিনি নিজেকে করে তুলেন সিদ্ধহস্ত।

এর পরেও এতো এতো ঘটনার খলনায়ক শাবি প্রক্টর মেয়াদ পার করেও রয়ে গেছেন নিজ দায়িত্বে।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সকল ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেন শাবি প্রক্টর হিমাদ্রি শেখর রায়। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জন অভিযোগ তুলেছে। তবে সে সকল অভিযোগের কোন ভিত্তি নেই।

প্রক্টরের এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে শাবির শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক এসিস্ট্যান্ট প্রক্টর এসোসিয়েট প্রফেসর ফারুক উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরোক্ষভাবে অভিযোগগুলো স্বীকার করে নেন। তিনি বলেন, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠা খুবই অনভিপ্রেত বিষয়। তিনি ক্যাম্পাসের সার্বিক অবস্থার জন্য প্রক্টরীয়াল বডি ও প্রশাসনকেই দায়ী করেন।

তিনি বলেন, গুড গভর্ন্যান্সের অনুপস্থিতির কারণেই বিশ্ববিদ্যালয়ে গত কয়েক বছরে অনেকগুলো মারামারির ঘটনা ঘটেছে। ঘটেছে বিভিন্ন অপকর্ম। আর এর দায়ভার কোনভাবেই প্রক্টরীয়াল বডি এড়াতে পারে না।

নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরীয়াল বডি বিভিন্ন অনাহূত ঘটনার আগেই কিছু না কিছু তথ্য পায়। আমাদের সময়ে তথ্যের সঠিকতা অনুযায়ী আমরা সংগঠনগুলোকে ডিল করেছি। এক্ষেত্রে বর্তমান প্রক্টরীয়াল বডি অকৃতকার্য।

শাবিতে সংঘর্ষে প্রশাসনের পক্ষপাতমূলক আচরণ ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শাবির এ শিক্ষক নেতা প্রক্টর হিমাদ্রি শেখরের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটি এবং তাদের কাজের পূন:তদন্তও দাবি করেন।

এর আগে শাবি ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় শাবির শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মো. ইউনুস প্রক্টরকে দায়ী করেন। প্রশাসনের মদদেই বহিরাগত প্রবেশ ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের দায় মাথায় নিয়ে পদ থেকে ইস্তফা দেয়ার জন্যও প্রক্টরকে বলেন তিনি।

ছাত্রলীগ ও প্রক্টরের মধ্যে কথোপকথনের অডিও :

ঢাকা, ৬ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// টিটি