[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



নিরব হল প্রশাসন, সিট পাচ্ছে না সাধারণ শিক্ষার্থীরা


প্রকাশিত: August 17, 2014 , 8:47 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,পাবলিক ইউনিভার্সিটি,রাজশাহীর ক্যাম্পাস


মনিরুল ইসলাম নাঈম, রাবি লাইভ : রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শহীদ হবিবুর রহমান আবসিক হলে ছাত্রলীগের সিট বানিজ্যে অসহায় হয়ে পড়েছে হল প্রশাসন। ছাত্রলীগের অবৈদ্ধভাবে দখলে রাখা হলটির সদ্য নির্মিত প্রথম ব্লকের দ্বিতীয়, তৃতীয় এবং চতুর্থ তলার দুই সিটের কক্ষগুলো খালি না করেই নতুন আবাসিকতার বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে হল প্রশাসন।

ছাত্রলীগের দখলে থাকা কক্ষগুলো দখলমুক্ত না করেই সেগুলোতে আবাসিকতার বিজ্ঞপ্তি দেওয়ায় সিট না পাওয়ার শঙ্কা বিরাজ করছে শিক্ষার্থীদের মাঝে। ফলে কক্ষ বরাদ্দের ফরমও কিনছে না কেউ। এদিকে ছাত্রলীগ তাদের ইচ্ছা মত কক্ষগুলোতে শিক্ষার্থী উঠাচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত সোমাবার হলটির সদ্য নির্মিত ব্লকটির দুই তলার ২০১ থেকে ২১৮ ছাত্রলীগের সেক্রেটারি গ্রুপের নেতাকর্মীরা দখল করে।

একই ভাবে তিন তলার ৩০১ থেকে ৩১৮ পর্যন্ত মোট ৩৬টি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে সভাপতি গ্রুপের নেতাকর্মী। এদের দেখাদেখি সাধারণ শিক্ষার্থীরাও চতুর্থ তলায় তালা ঝুলিয়ে দেয়।

হল প্রশাসন রাতেই বিষয়টি অবগত হলেও কোন ধরনের পদক্ষেপ গ্রহন না করেই পরের দিন (মঙ্গলবার) নামে মাত্র একটা নোটিশ প্রদান করা হয়। নোটিশে কক্ষ গুলো ছেড়ে দেওয়ার আদেশ দেওয়া হলেও ছাত্রলীগ তা ছেড়ে দেয়নি।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এখনোও বহল তবিয়াতে দখলকৃত কক্ষগুলোতে আছেন। এছাড়া চতুর্থ তলায় যে কক্ষ গুলোকে সাধারণ শিক্ষার্থীরা তালা লাগিয়েছিল, গত বুধবার ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তালা ভেঙ্গে সেগুলোও নিজেদের দখলে নেয়।

ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, দখলকৃত ওই সব কক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদেরকে রাখা হচ্ছে। এছাড়া অবৈধ ভাবে প্রথম এবং দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্ররা দুই সিট বিশিষ্ট কক্ষে থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এমনকি বহিরাগত ছাত্রলীগের নেতারা ও ভর্তি প্রার্থী এমন শিক্ষার্থীকেও হলে অবস্থান করছেন। অনেকের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে ওই সমস্ত কক্ষ বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা দুই সিট বিশিষ্ট কক্ষগুলো দখল করে রাখলেও হল প্রশাসন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকরি ব্যবস্থা গ্রহন করছে না। অন্যদিকে চতুর্থ বর্ষ এবং মাস্টার্সের শিক্ষার্থীদের কাছে ওই সব কক্ষগুলোর আবাসিকতার ফরম বিক্রয় করা হচ্ছে। এতে কিছু শিক্ষার্থী আবাসিকতার ফরম কিনলেও তাদের ভিতরে এক ধরণের হতাশা কাজ করছে।

এটা আবাসিকতার ফরম বিক্রয়ের নামে প্রশাসন লুকোচুরি করছেন বলে মনে করছেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া এই হল প্রশাসনের বিরুদ্ধে মেধার মূল্যয়ন না করে ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষকতায় হলের আবাসিকতা দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গত ১৫ জুলাই হলের আবাসিকতার জন্য মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ওই মৌখিক পরীক্ষার স্থলে ছাত্রলীগের নেতারা স্বয়ং উপস্থিত থেকে নিজেদের পছন্দের শিক্ষার্থীদের আবাসিকতার সুপারিশ করে। তবে ছাত্রলীগের এ ধরণের কর্মকাণ্ড করলেও হল প্রশাসনের নীরব থাকাকে, ছাত্রলীগের সমস্ত অপকর্মের পরোক্ষ সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন হলের একাধিক শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানা ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, বিষয়টি ঠিক ভাবে আমার জানা নেই। তবে তিনি নিজেদের একক অধিপত্যের কথা অস্বীকার করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই হলে মাস্টার্সের এক শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, হল প্রভোষ্টের পরোক্ষ সহায়তার কারণে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হলে সিট বানিজ্য থেকে শুরু করে সকল প্রকার অনৈতিক কর্মকাণ্ড করছে।

তিনি বলেন, আমার পড়া-লেখা শেষের দিকে। বারবার দুই সিটের জন্য দরখাস্ত করা সত্ত্বেও সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের সিট দখলের কারণে আমাদের সিট দেওয়া হচ্ছে না।

এ বিষয়ে শহীদ হবিবুর রহমান হল প্রভোষ্ট ড. এস এম একরাম উল্যাহ ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কমকে বলেন, শুধু ছাত্রলীগ নয়, অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মীরাও হলের কক্ষগুলো দখল করে রেখেছে। আমি নোটিশের মাধ্যমে তাদেরকে কক্ষ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছি। হলে সিট বরাদ্দের নোটিশ দিয়েছি, যারা যোগ্য তাদেরকেই সিট বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে তিনি ছাত্রলীগের প্রধান্য দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

রাবি//এমএন, ১৭ আগষ্ট(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//আরজে