[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



নতুন কমিটিতেও গতি পায়নি ছাত্রদল


প্রকাশিত: December 30, 2014 , 7:22 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ


ঢাবি লাইভ: সরকারবিরোধী আন্দোলনে ভূমিকা রাখতে আকাশচুম্বী আশা নিয়ে নতুন কমিটি ঘোষণা হলেও দৈন্যদশা কাটেনি বিএনপির ভ্যানগার্ড ছাত্রদলে। ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে তুলনামূলক তরুণদের নিয়ে দু’মাস আগে গঠিত ওই কমিটি। ধোঁয়াশা রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ সুপার ইউনিট খ্যাত কমিটি নিয়েও। শুধু তাই নয়, শহীদ জিয়ার মাজারে শ্রদ্ধাঞ্জলী দেয়া ও ঢাবি ভিসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করাসহ শিডিউল কাজগুলোও করতে পারেনি নব গঠিত ওই কমিটি।

দলীয় সূত্র বলছে, ১৪ অক্টোবর রাজিব আহসানকে সভাপতি ও আকরামুল হাসানকে সাধারণ সম্পাদক করে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ১৫৩ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি ঘোষণা করা হয়। তুলনামূলক তরুণদের নিয়ে গঠিত ওই কমিটি ঘোষণার পর পরই পদবঞ্চিতদের তোপের মুখে পড়েন বিএনপিতে পদ পাওয়া নেতারা। এ বিদ্রোহ ঠেকাতে বিএনপিসহ সংগঠনটির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনে স্থান দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় পদবঞ্চিতদের। এসময় নতুন কমিটিকে প্রথমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি হিসেবে ঘোষণা দেয়া হলেও পরে কমিটির আকার আরও বাড়ানো হতে পারে বলে জানান বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী। এতে কিছুটা শান্ত হয় পদবঞ্চিতরা।

তথ্যানুসন্ধানে জানা গেছে, পদবঞ্চিতের বিদ্রোহের পাশাপাশি শীর্ষ দুই ও সাবেক নেতাদের স্ট্যান্ডবাজি ছাত্রদলের দৈন্যদশার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কমিটি গঠনের দুই মাস পরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, মহানগর উত্তর ও দক্ষিণসহ সুপার ইউনিটগুলোর কমিটি দিতে পারেনি।

সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি রাজিব আহসানের প্রত্যাশা বর্তমান কমিটির আহবায়ক মামুন বিল্লাহকে আহবায়ক করা। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসানের প্রত্যাশা বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক নুরুল হূদা বাবুকে সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক করা। অপরদিকে ছাত্র বিষয়ক সহ-সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বর্তমান কমিটির যুগ্ম সম্পাদক করিম সরকারকে আনতে চান।

অথচ শীর্ষ নেতাদের পছন্দের ওইসব প্রার্থীদের সবাই নানাভাবে বিতর্কিত। মামুন বিল্লাহ ও করিম সরকার বিবাহিত। নুরুল হূদা বাবু একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে চাকুরিত এবং মাঠ রাজনীতিতে অপরিচিত। এর বাইরেও ছাত্রদলের সাবেক বেশ কয়েকজন নেতার পছন্দ-অপছন্দের প্রার্থীতার মূল্য দিতে আটকে আছে মূল শাখার কমিটিগুলো।

কেন্দ্রিয় কমিটিতে পদ পাওয়া এবং না পাওয়া বেশ কয়েকজন নেতা জানান, বর্তমান কমিটি গঠনের আগে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বয়সের ব্যাপারে শিথিলতা দেখালেও অবিবাহিতদের নেতৃত্বে আনতে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সে কারণেই ত্যাগী ও দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও ছিটকে পড়েন অর্ধশতাধিক ছাত্রনেতা। কিন্তু দলীয় প্রধানের নির্দেশনা ভুলে গিয়ে শীর্ষ দুই নেতা বিবাহিত ও মাদকাসক্তদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে আনার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে পদ প্রত্যাশী এক নেতা জানান, শুরু থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটি নিয়মিত কিংবা অনিয়মিত ছাত্রদের নিয়ে গঠনের কথা ছিল। পাশাপাশি যোগ করা হয়েছিল অবিবাহিত শর্তও। কিন্তু সে দিকে না গিয়ে বর্তমান কমিটির নেতারা উল্টো দিকে মোড় নিচ্ছেন। তাদের (সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক) সমবয়সী বন্ধুদেরকেই আনতে চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয় কমিটিতে। যা ক্যাম্পাস রাজনীতিতে ভয়াবহ প্রভাব ফেলবে। বিবাহিত ও মাঠ রাজনীতিতে নিষ্ক্রীয়দের ঢাবি কমিটিতে আনা হলে ত্যাগী কর্মীরা হারিয়ে যাবেন। অস্তিত্ব সংকটে পড়বে ঢাবি ছাত্রদল।

এদিকে দলীয় হাইকমান্ডের নির্দেশনা ও আহবান সত্ত্বেও আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশে বারবার ব্যর্থ হয়েছে বিএনপির এই সহযোগী সংগঠনটি। শুধু তাই নয়, বর্তমান অবস্থা পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের অস্তিত্ব অনেকটাই হুমকির মুখে পড়েছে। বর্তমান কমিটি ঘোষণার আগে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন স্থানে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান সংগঠনের নেতাকর্মীদের দুই একটি ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করলেও সেটাও এখন হারিয়ে গেছে।

হল শাখার কমিটিতে পদ প্রত্যাশী কর্মীরা ছাত্রদলের এই নিষ্ক্রীয় অবস্থার জন্য দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ও হলগুলোতে কমিটি না হওয়াকে দায়ি করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর অতীত রেকর্ড ঘেঁটে দেখা গেছে, ছাত্র সংগঠনগুলো নতুন কমিটি গঠনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। কিন্তু বর্তমান কমিটি এখনও এ ধরনের কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।

তবে শীর্ষ নেতাদের দাবি, নিষ্ক্রীয় অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রম বৃদ্ধির লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও এর হলসমূহের কমিটি ঘোষণা করতে যাচ্ছে তারা। আর কমিটি ঘোষণার মধ্য দিয়ে ঢাবি ক্যাম্পাসে সহাবস্থান নিশ্চিত এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার ব্যবস্থার দাবিতে ১৮ দলীয় জোটের চলমান আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন তারা।

দলের ঘনিষ্ট এক সূত্র জানায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নতুন কমিটির প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে কমিটিতে পদ পেতে যারা যোগ্য ও দক্ষ তাদের নানাভাবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সঙ্গে হল কমিটিগুলো গঠনের জন্য খসড়া একটি তালিকাও প্রায় চূড়ান্ত বলে জানায় সূত্রটি।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান বলেন, তরুণদের নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ মূল শাখার কমিটিগুলো ঘোষণার চিন্তা করা হচ্ছে। শিগগিরই এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শাখায় দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না হওয়ায় ছাত্রদল কর্মীরা পরিচয় হারিয়ে ফেলেছে। এতে অনেক সময় ছাত্রদল কর্মীকে আটক করলেও অতি উৎসাহী পুলিশ কিংবা সরকারি দলের কর্মীরা শিবির বলে চালিয়ে দিচ্ছেন। এসব বিষয় থেকে বেরিয়ে আসতে সবার আগে কমিটি দেয়া প্রয়োজন। সেটাই বর্তমান কমিটির প্রধান চিন্তা বলে জানান তিনি।

ঢাবি// এমএইচ, ৩০ ডিসেম্বর (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// এআর