[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



দুর্নীতি, কলঙ্কের পর ভিসিহীন নোবিপ্রবিতে অঙ্কুরিত হয়েছে প্রত্যাশা…


প্রকাশিত: January 7, 2015 , 4:29 pm | বিভাগ: এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,খবর,চট্টগ্রামের ক্যাম্পাস,পাবলিক ইউনিভার্সিটি


NSTU_2014এম এন করিম, নোবিপ্রবি: নানা ঘটনা, দুর্ঘটনার কারণে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ২০১৪ ছিল আলোচিত একটি বছর। ভিসির দুর্নীতি, ভুলে ভরা সমাবর্তনে ত্রুটিপূর্ণ সনদপত্র ছাড়াও ছোটখাট নানা অন্দোলনে কেটেছে নোবিপ্রবি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের বছর। বছরের অনেকটা সময় কটেছে ভিসিবিহীন। এখনও ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়টিতে। প্রোভিসি নিয়োগ দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে।

এছাড়া শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য, ভর্তি পরীক্ষার টাকা ভাগ-ভাটোয়ারা নিয়ে দ্বন্দ্বের বিষয়টি নিয়ে বছরের অধিকাংশ সময়ই আলোচনার রসদ যুগিয়েছে।

এদিকে নানা আন্দোলন ও অস্থিতিশীল অবস্থার কারণে গত বছর দুই মাস বন্ধ ছিল নোবিপ্রবি। এতে সেশনজটের শঙ্কাও ভর করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মাঝে। এরই মাঝে আশার খবরও রয়েছে। গত বছরে নোবিপ্রবিতে বেশ কয়েকটি আলোচিত উন্নয়নমুলক কাজ হয়েছে।

প্রথম সমাবর্তন: ২২ সেপ্টেম্বর নোবিপ্রবির ইতিহাসে প্রথম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সমাবর্তনে মূল সার্টিফিকেট দেয়া সম্ভব হয়নি। কারণ তাদের জন্য তৈরি করা সনদপত্রে ব্যাচেলর বানান ভুল  ছিল, যা নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত সনদপত্র পায়নি শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে তৈরী হয়েছে শিক্ষক কর্মকর্তাদের মাঝে দীর্ঘ বিরোধ। সবাই সমাবর্তন পেলেও সমাবর্তন পায়নি ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের ৪র্থ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। যার জন্য তারা তাদের শিক্ষকদের আন্তরিকতার অভাবকে দায়ি করছে।

ভর্তি পরীক্ষা: প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভর্তি পরীক্ষা একটি স্মরণীয় দিন। নোবিপ্রবিতে ভর্তি পরীক্ষা হয়েছে দু’বার। দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার জন্য ২০১৩ সালের ভর্তি পরীক্ষা হয় ২০১৪ সালের জানুয়ারিতে। আর ২০১৪-১৫ সেশনের ভর্তি পরীক্ষা শেষ হয় ২৭ ডিসেম্বর। তবে ভর্তি পরীক্ষার টাকা ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। বিষয়টি নানা সমালোচনার জন্ম দেয়।

ভিসিহীন নোবিপ্রবি: ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে অদ্যবধি নোবিপ্রবি চলছে ভারপ্রাপ্ত ভিসি দিয়ে।

প্রথম প্রোভিসি নিয়োগ: অনেকদিন পরে হলেও এবার নোবিপ্রবির প্রথম প্রোভিসি হিসেবে প্রফেসর ডঃ আবুল হোসেনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যিনি ভারপ্রাপ্ত ভিসি হিসেবে সুন্দরভাবে দায়িত্ত পালন করে যাচ্ছে।

আলোচিত দুর্নীতি: নোবিপ্রবিতে বেশ কয়েকটি দুর্নীতির ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকা বাজেটের সমাবর্তনে ৫০ লাখ টাকা খরচ হয়েছে কিনা এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। শিক্ষক-কর্মকর্তা কর্মচারী নিয়োগে কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

২০১৩-১৪ সেশনের ভর্তি পরীক্ষার টাকা বণ্টন নিয়ে শুরু হয় কেলেঙ্কারী। অভিযোগের তীর ওঠে নোবিপ্রবির সাবেক ভিসি প্রফেসর একে এম সাইদুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে।

আন্দোলন সংগ্রাম: বছরের মাঝামাঝি সময়ে রাস্তা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সমাবর্তন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মকর্তারা আন্দোলন করেছে। এদিকে পরীক্ষা পদ্ধতি পরিবর্তনের দাবিতে নভেম্বরে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করেছে।

সেশন জট: দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা, নানা আন্দোলন সংগ্রামের কারণে নোবিপ্রবিতে সেশনজটের শঙ্কা বিরাজ করছে।

ক্যাম্পাস বন্ধ: বছরের প্রথম দিকে দেশের রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার কারণ ছাড়াও  প্রায় ২ মাস বন্ধ ছিল নোবিপ্রবি। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে পরীক্ষার মাঝখানে বন্ধ ছিল সমাবর্তনের প্রস্তুতির জন্য। পরে ২৪  সেপ্টেম্বর থেকে বন্ধ ছিল শিক্ষক কর্মকর্তাদের আন্দোলনের জন্য।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শোক: ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে এক শিক্ষার্থীর মৃত্যুতে নোবিপ্রবিতে শোকাবস্থা বিরাজ করেছে। এছাড়া বছরের শেষে ডিসেম্বরে মারা যায় ফার্মাসিস্ট বর্ণা দে। তবে কেউ বলছে এটি আত্মহত্যা আবার অনেকে বলছে হত্যা।

দুর্নীতিতে অভিযুক্ত ভিসির বিদায়: ২০১০ সাল থেকে বিভিন্ন দুর্নীতি করে অধরা হয়ে গিয়েছিলেন নোবিপ্রবির সাবেক ভিসি প্রফেসর একে এম সাইদুল হক চৌধুরী। দুর্নীতি করা যেন তার নেশা ছিল। অবশেষে তোপের মুখে ২৪ সেপ্টেম্বর ভোরে তিনি নোবিপ্রবি ত্যাগ করেন।

উন্নয়ন: ২০১৪ সালে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পেয়েছে নতুন ‘ফাউন্টেনপেন’ শহীদ মিনার, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ, গেস্ট হাউস ও ৪ তলা বিশিষ্ট একাডেমিক ভবন-২। খুব দ্রুত নিমার্ণ কাজ শেষ হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসির। এ ছাড়াও নিমার্ণ কাজ চলছে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ভবন, বঙ্গবন্ধু হল, বঙ্গমাতা হলসহ ছোট-বড় বেশ কয়েকটি উন্নয়নমূলক কাজের।

সহ-শিক্ষা কার্যক্রম: নোবিপ্রবির সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ২০১৪ অন্যান্য বছরের তুলনায় ছিল সমৃদ্ধ। সাহিত্য, সংস্কৃতি কিংবা বিজ্ঞান চর্চায় নোবিপ্রবি পেয়েছে অসংখ্য নতুন প্ল্যাটফর্ম। সমাকলনের ‘ক্যাম্পাস প্রচ্ছদ’ কিংবা মশালের ‘আমাদের চিঠি’ ও ‘বিজয়’৭১ উভয়ই নোবিপ্রবিতে নতুন লেখক ও পাঠক সৃষ্টিতে রেখে চলছে অনবদ্য ভূমিকা। এছাড়া এবছরই নোবিপ্রবিতে অঙ্কুরিত হয়েছে ইংলিশ সোসাইটি, ক্যারিয়ার ক্লাব, প্রোগ্রামিং ক্লাব, স্তবক, সাইন্স ম্যানিয়া, শীতবস্ত্র সংগ্রহ আন্দোলনসহ নতুন অনেকগুলো সংগঠনের বীজ।

প্রত্যাশা: সবার চাওয়া, আগামী সাল হবে নোবিপ্রবির জন্য হতাশার নয় আশার, বিভক্তি নয় ঐক্যের, হারানোর নয় পাওয়ার, ঘৃণার নয় ভালোবাসার।

নোবিপ্রবি// এমএনকে, ৭ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)// জেএন// এআর