[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের আশ্চর্য্য চশমা, অন্ধরা হাঁটবেন স্বাভাবিকভাবে!


প্রকাশিত: January 14, 2015 , 12:00 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,রিসার্চ,স্কুল


blind-2

রাফসান জানি/আমিমুল এহসান জয়: ভেবে দেখুনতো আপনি বিছানায় শুয়ে আছেন। আর চোখে ইশারা করছেন, বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ঘরের ফ্যান কিংবা লাইট। আবার ইশারা করার সঙ্গে সঙ্গেই তা চালু হয়ে যাচ্ছে। জাদুর মতই মনে হচ্ছে তাই না? আবার যদি দেখেন আপনার সামনে দিয়ে দিব্যি স্বাভাবিক মানুষের মতো হেঁটে যাচ্ছেন অন্ধ ব্যাক্তি। অবাক হবেন নিশ্চই।

জাদুমন্ত্র কিংবা স্বপ্ন নয় ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা এমন এক চশমা তৈরি করেছেন যা দিয়ে অন্ধরাও এখন থেকে হাঁটবেন স্বাভাবিকভাবে। শুধু তাই নয় বিছানায় শুয়ে চোখের ইশারায় রুমের লাইট বা ফ্যান অফ অন করতে পারবেন তারা। হলি ফ্লাওয়ার মডেল কলেজের ৩জন ক্ষুদে বিজ্ঞানী মো: নাজমুস সাকিব, মো: ওমর ফারুক ও মো: সালমান ইবনে সেলিম ওই চশমা তৈরি করেছেন। তাদের উদ্ভাবিত ওই চশমা বলে দেবে সামনে কি আছে বা কোন পথে চলতে হবে। তারা এই চশমার নাম দিয়েছেন Smart Controller Glass.

এমন উদ্ভাবন করে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞান ও শিল্প প্রযু্ক্তি মেলায় ‘ক’ গ্রুপ থেকে ১ম স্থান অর্জন করেছে ওই তিন ক্ষুদে বিজ্ঞানী। মেলায় অংশগ্রহন করা ৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোট ৫৫টি প্রকল্পের মধ্যে তাদের Smart Controller Glass প্রকল্পটি প্রথম হয়।

নিজেদের উদ্ভাবিত চশমাটি সম্পর্কে নাজমুস সাকিব বলেন, অন্ধরা এটি ব্যবহার করে রাস্তায় কোন সমস্যা ছাড়াই চলতে পারবে। লাঠি ব্যবহার করে তারা রাস্তা পারাপার করতে পারেননা। কিন্তু এই চশমা ব্যবহার করে অনায়াসে রাস্তা পার হতে পারবে।
blind-3
এই চশমাটি পরে রাস্তায় চলার সময় সামনে যদি কোন বাঁধা আসে তাহলে তা সিগন্যাল দেবে। উদ্ভাবিত ওই চশমাতে এমনভাবে প্রোগ্রাম সেট করা হয়েছে যে সামনে চলতে হলে ডানে যেতে হবে না বামে যেতে হবে তা বিভিন্ন টিউনের মাধ্যমে অন্ধ ব্যক্তিকে জানিয়ে দেয়া। যা তার চলার পথকে সহজ ও স্বাভাবিক করবে।

শুধুমাত্র অন্ধদের পথ দেখানো ছাড়াও এই চশমা ব্যবহার করে উপকৃত হবেন প্যারলাইজড ব্যক্তি বা চলতে ফিরতে অক্ষম একজন মানুষ। তারা বিচানায় শুয়ে চোখের ইশারায় রুমে ব্যবহৃত লাইট বা ফ্যান অফ অন করতে পারবে।

অন্ধদের পথ চলতে সহায়ক ও অসুস্থদের সাহায্য করতে সক্ষম ওই চশমা তৈরির আইডিয়া কিভাবে আসল জানতে চাইলে তারা জানান, সমাজে অনেক অন্ধ মানুষ রয়েছেন। যারা প্রতিনিয়ত লাঠি বা ছড়ি ব্যবহার করে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাদের চলাচল করতে অনেক কষ্ট হচ্ছে। উন্নত বিশ্বে অন্ধদের জন্য যে সকল প্রযু্ক্তি রয়েছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল ‘বায়োনিক আই’। এটি দিয়ে অনেকটা দেখতে সক্ষম হয়। এগুলো ব্যবহার করেতে গেলে অনেক টাকা খরচ হয়। আমাদের বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তা অনেকটা অসম্ভব। তাই সবকিছু বিবেচনা করে খুব কম খরচে অন্ধরা যাতে প্রযুক্তিটি  ব্যবহার করে উপকৃত হয়। আর এ ধরনের ওই গ্লাস বা চশমা তৈরির আইডিয়াটি এসেছে বাদুরের কাছ থেকে। বাদুর দেখতে পায় না। তারা চলাচলের ক্ষেত্রে সামনের দিকে শব্দ ছুড়ে দেয়। শব্দটি বাধাপ্রাপ্ত হয় এবং বাদুর বুঝতে পারে কোন দিকে চলতে হবে।

নিজেদের প্রযুক্তি সম্পর্কে তারা জানান, এক্ষেত্রে বাদুরের ব্যবহৃত পদ্ধতি ও আমাদের প্রযুক্তির মধ্যে পার্থক্য হল আমারা এতে একটি সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করছি। যা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বলে দিবে কোন পথে চলতে হবে।

নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে কারও সাহায্য নেন কিনা এমন প্রশ্নে ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা জানান, এ কাজে আমরা কারও সাহায্য নেইনি। নিজেদের মতো করে রিসার্চ করতে আমরা পছন্দ করি। রিসার্চের কাজগুলো খুব গোপনীয়তা রক্ষা করা হয়। যতক্ষণ আমরা সফল না হই ততক্ষণ কাউকে জানাই না।

blind-4
শুধুমাত্র বিসিএসআইআর নয় রাজধানীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্তৃক আয়োজিত মেলায় বিজয়ী হয়েছেন তারা। এসব প্রতিযোগিতামূলক মেলায় অংশগ্রহণ করে পুরষ্কার হিসেবে যে টাকা পান তা ব্যয় করেন পরবর্তী রিসার্চের কাজে। ব্যক্তিগত কোন কাজে তারা প্রাইজমানি হিসেবে প্রাপ্ত টাকা ব্যবহার করেন না বলে জানান ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা।

চশমাটি তৈরি করতে কত ব্যয় হয়েছে জানতে চাইলে তারা বলেন, এটি তৈরিতে খরচ হয়েছে মাত্র ৫০০ টাকা, যা একটি ভাল লাঠি বা ছড়ির দাম। আর এটি যদি বৃহৎ আকারে তৈরি করা হয় তাহলে এর ব্যয় আরও অনেক কমে যাবে। কারণ আমরা যখন চশমাটি তৈরির জন্য বিভিন্ন যন্ত্রাংশ বাজার থেকে কিনতে গিয়েছি তখন সেগুলো খুচরা দামে কিনতে হয়েছে। ফলে এর ব্যয়টা বেড়ে গেছে।

ঢাকা//আরজে/এএজে, ১৪ জানুয়ারি-২০১৫ //(ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন