[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের জৈব কীটনাশক, বাঁচবে ৩শ’ কোটি টাকা!


প্রকাশিত: January 23, 2015 , 3:29 am | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,ক্যাম্পাস,রিসার্চ,স্কুল


ywca-science

রাফসান জানি: সাবরিনা সাদমিন সুনন্দা, ফারিহা আলম রাহা ও ফারিয়া তানহা। পড়াশোনা করেন রাজধানীর ওয়াইডব্লিউসিএ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে। স্কুলে থাকা অবস্থাতেই ওই ৩ ক্ষুদে বিজ্ঞানী এমন এক জৈব কীটনাশক উদ্ভাবন করেছেন যা দিয়ে হতে পারে কৃষি বিপ্লব। যা বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদনের মাধ্যমে অন্তত ৩শ’ কোটি টাকা বাঁচানো সম্ভব।

তাদের ওই জৈব কীটনাশক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মেলায় তাক লাগিয়ে দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ আয়োজিত ৩ দিনব্যাপী ক্ষুদে বিজ্ঞানীদের বিজ্ঞান ও শিল্প প্রযু্ক্তি মেলায় ‘খ’ গ্রুপ থেকে ১ম স্থান অর্জন করেছে ওই তিন ক্ষুদে বিজ্ঞানীর প্রজেক্ট।
YWCA5
বাংলাদেশ কৃষি প্রধান একটি দেশ। আর কৃষি কাজে সবচেয়ে বড় বাধা হল ফসলে কীট বা পোকার আক্রমণ। এ ধরনের পোকার হাত থেকে ফসলকে রক্ষা করার জন্য ব্যবহার করা হয় বিভিন্ন ক্ষতিকর কীটনাশক। যা পরবর্তীতে ফসলে থেকে যায়। ফলে বৃষ্টি বা বন্যার পানির সাথে মিশে এগুলো নদী বা জলাশয়ে গিয়ে পড়ে। এতে করে পানি ও মৎস্য সম্পদ নষ্ট হচ্ছে। যা পরবর্তীতে মানুষ গ্রহণ করায় বিভিন্ন ধরনের রোগের সৃষ্টি করে। এছাড়া এসব কীটনাশক ব্যবহার করা যথেষ্ট ব্যয় সাপেক্ষ ব্যাপার। ফলে ফসল উৎপাদনে কৃষকের ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
YWCA2
তাই কৃষি কাজে এসব সমস্যা ছাড়াই কীট বা পোকা দমন করার সহজ ও প্রাকৃতিক সমাধান উদ্ভাবন করেছেন রাজধানীর ওই ৩ ক্ষুদে বিজ্ঞানী।

ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম-কে জানিয়েছেন তাদের উদ্ভাবিত প্রকল্পের কথা। তারা ওই জৈব কীটনাশকটি তৈরি করেছেন বিভিন্ন গাছের পাতা। যেমন আতা গাছ, জাম গাছ, টমেটো ও নিম গাছের পাতার নির্যাস থেকে। আর এটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হলে প্রতিবছর প্রায় ৩’শ কোটি টাকা কীটনাশক ব্যবহারের ব্যয় কমে যাবে। যা পরবর্তীতে অন্য কাজে ব্যয় করা হলে দেশের উন্নয়ন সাধন হবে বলে জানান তারা।
YWCA3
যেভাবে তৈরি হবে জৈব কীটনাশক: সাবরিন সাদমিন সুনন্দা, ফারিহা আলম রাহা ও ফারিয়া তানহা ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম-কে বলেন, আতা গাছের পাতায় অ্যালক্যালয়েড ৩০%, ফ্যাভোনয়েড ৩৫% এবং ট্যানিন রয়েছে ৩৫%। আতা গাছের পাতাকে ৭ দিনের জন্য লবণাক্ত পানিতে আলো-বাতস শূণ্য রাখতে হবে। ৭ দিন পর এই তরলকে তাপ দিতে হবে। তাপ দেয়ার ফলে যে তরলটি পাওয়া যাবে তা গাছের বালাই ধ্বংস করতে সক্ষম হবে। ওই বালাইনাশক মাজরা, বিছা, ল্যাদা ইত্যাদি পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করে।

জাম পাতার রস দিয়ে বীজ শোধন করা যায়। পাতাকে পিশে তা পানির সাথে মিশাতে হবে। প্রয়োজনীয় বীজগুলোকে ওই তরলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এভাবে বীজকে কিছু সময় ভিজিয়ে রাখার পর সূর্যের আলোতে শুকাতে হবে। আর এভাবেই জাম পাতার রস থেকে শোধন হবে বীজ।
YWCA4
ফারিয়া তানহা বলেন, জামের রসে জামিবিসিদিন নামক একধরনের উপাদান আছে যা ওই বীজ শোধনে সাহায্য করে। ওই জাম পাতার রসে থাকা জামিবিসিত্তিন ব্যবহার করে প্রতিবছর সারা দেশে অন্তত ৩০০ কোটি টাকা মূল্যের রাসায়নিক ব্যবহার না করেই বীজ শোধন করা যাবে।

ফারিহা আলম রাহা বলেন, টমেটো গাছের পাতায় আছে ক্ষতিকর অ্যালকালয়েড। ওই উপাদান ছিট পোকা দমন করতে সক্ষম। আর ওই ছিট পোকার আক্রমণে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। টমেটো পাতাকে পানিতে ৭ দিন আলো বাতাসশূণ্য স্থানে রাখলে পাতাগুলো পচে যাবে। এই পচা অংশটি গাছে ব্যবহার করলেই দমন করা যাবে ছিট পোকা।

এছাড়া নিমের তেল, ডিটারজেন্ট ও গরম পানির দ্রবণও কীটনাশক হিসেবে কাজ করে। পাশাপাশি ওই দ্রবণটি মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতেও সাহায্য করে।

উপরোক্ত সবকটি দ্রবণ থেকে যে অবশিষ্ট পাতা পাওয়া যাবে তা জৈব সার হিসেবে জমিতে ব্যবহার করা যাবে।

আতা, জাম, টমোটো ও নিমের পাতা থেকে তৈরি দ্রবণ একসাথে মিশিয়ে যদি দ্রবণ তৈরি করা হয় তাহলে এ তরলটি সবগুলো কাজ একসাথে করতে সক্ষম হবে বলে জানান সাবরিনা সাদমিন সুনন্দা।

 

ঢাকা//আরজে, ২৩ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন