[english_date], [bangla_day], [bangla_date], [hijri_date], [bangla_time]
সর্বশেষ সংবাদ



বোতলের পানি থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ, হামিদুলের চমক! (ভিডিও)


প্রকাশিত: January 23, 2015 , 12:35 pm | বিভাগ: আপডেট,এক্সক্লুসিভ,রিসার্চ


Gas_From_Water_Abdul_Hamid2

আতিকুর রহমান: বোতলের পানি থেকে গ্যাস। গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ। চলছে চুলা, জেনারেটর। পৃথিবীর কেউ পারেননি এমন কাজটি করে দেখাতে। পেরেছেন আমাদের দেশের স্বল্প শিক্ষিত আব্দুল হামিদ। ছোট ছোট বোতলের পানি থেকে গ্যাস-বিদ্যুৎ উৎপাদন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন তিনি। এতে কোন জ্বালানি খরচ হচ্ছে না।

কোন প্রকার জ্বালানি ছাড়া বোতলের পানি থেকে গ্যাস তৈরির এ পদ্ধতি আব্দুল হামিদই প্রথম আবিষ্কার করলেন।

কিভাবে তার মাথায় এমন চিন্তা আসল এবং কিভাবে তিনি সফলতার পথে এগিয়ে এগিয়ে গেলেন এইসব কিছু নিয়েই ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম এর সরেজমিন প্রতিবেদটি তৈরি করা হয়েছে।

স্বল্পশিক্ষিত আব্দুল হামিদ মাত্র এসএসসি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। কিন্তু এটা তার উদ্ভাবনী শক্তির কোন প্রতিবন্ধক হতে পারেনি। তার মনের বিশ্বাসকে তিনি শক্তিতে পরিনত করেছেন।

Gas_From_Water_Abdul_Hamid1

যেভাবে শুরু :  একজন গবেষক হওয়ার মত তিনি তেমন কিছুই জানতেন না। জানতেন শুধু পানিতে বিদ্যুৎ প্রবাহ দিলে পানির হাইড্রোজেন এবং অক্সজেন অনুবন্ধন ভেঙে আলাদা হয়ে যায়। আর এই সূত্রকে কাজে লাগিয়েই আব্দুল মালেক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা চালিয়ে গেলেন।

সেই ২০০৯ সাল থেকে বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। তারমধ্যে নানা প্রতিবন্ধকতা এসেছে। কিন্তু সব প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করে তিনি আলোর পথ দেখেন ২০১৪। তিনি কোনপ্রকার জ্বালানি ছাড়াই গ্যাস তৈরি করতে সক্ষম হলেন।

Gas_From_Water_Abdul_Hamid6

যেভাবে এগিয়ে গেলেন তিনি : আব্দুল হামিদের জন্ম খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার কালনা গ্রামে। কাজের সন্ধানে তিনি অনেক আগেই ঢাকা এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি একটি নবায়নযোগ্য শক্তি নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। তিনি প্রথম দিকে নিজের বাসায় কাজটি শুরু করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু বাড়িওয়ালার বাঁধায় তা আর সম্ভব হয়ে উঠেনি।

পরে তিনি তার কর্মস্থলের বিল্ডিং এর ছাদে গবেষণা কাজ শুরু করেন। এখানকার বাড়ির মালিককে বুঝিয়ে বললে তিনি সহায়তা করতে রাজি হলেন। বোতলের সাইজ বার বার পরিবর্তন করেছেন। গ্যাসের উৎপাদন বৃদ্ধিতে তিনি নানা টেকনোলজি ব্যাবহার করেছেন। ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছেন নিজের স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে।

Gas_From_Water_Abdul_Hamid5

গ্যাস উৎপাদনের কৌশল : এই পদ্ধতিতে গ্যাস উৎপাদনের জন্যে আব্দুল হামিদ চারটি সৌরপ্যানেল ব্যাবহার করেছেন যা থেকে উৎপন্ন বিদ্যুৎ করেন। উৎপন্ন বিদ্যুৎ ২০ টি অর্ধেক পানি ভর্তি বোতলের ভিতর বিদ্যুৎ প্রবাহ হিসেবে চালনা করেন। এই বিদ্যুৎ প্রবাহ পানিকে ভেঙ্গে হাইড্রোজেন এবং অক্সিজেন আয়নকে আলাদা করে দেয়। উৎপন্ন হাইড্রোজেন গ্যাস বায়ুপ্রুফ নলের মধ্য দিয়ে একত্রিত করেন। সাবধানতার বিষয় হচ্ছে হাইড্রোজেন গ্যাসে আগুন দিলে বিস্ফোরণ ঘটে।

আব্দুল হামিদ এই গ্যাসকে কার্বনের ভিতর দিয়ে পরিচালনা করেন। ফলে হাইড্রোজেন গ্যাস কার্বনের সাথে যুক্ত হয়ে মিথেন গ্যাস তৈরি করে, যা সাধারনত জ্বালানী হিসেবে ব্যাবহার করা হয়।

সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল আব্দুল হামিদ কার্বন হিসেবে কয়লা ব্যাবহার করেন না। তিনি বিশেষ কৌশলে চিনি থেকে কার্বনকে আলাদা করে ফেলেন যা অধিকতর বিশুদ্ধ কার্বন।

বর্তমানে তিনি প্রতিদিন যে গ্যাস উৎপাদন করেন তা দিয়ে টানা দুই ঘন্টা রান্না করা যায়। ধীরে ধীরে আরও ক্ষমতা সম্পন্ন করা সম্ভব। তাছাড়া ভাল মানের প্যানেল ব্যাবহারে করলে গ্যাস উৎপাদন আরও বেড়ে যাবে বলে জানান আব্দুল হামিদ। এই পদ্ধতিটিকে তিনি ধীরে ধীরে পরিবারের ব্যাবহারের উপযুক্ত করে তুলছেন।

এব্যাপারে আব্দুল হামিদ ক্যঅম্পাসলাইভ২৪.কম-কে বলেন, এই পদ্ধতি ব্যাবহার করে যেকোন সাইজের পরিবারই তিন বেলা রান্না করতে পারবে। এতে শুধু প্যানেল এবং বোতল সংখ্যা বৃদ্ধি করলেই উৎপাদন বেড়ে যাবে।

Gas_From_Water_Abdul_Hamid3

হাইড্রলিক প্রেস : উৎপন্ন গ্যাস ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়। এই গ্যাসকে বের করতে বর্তমানে আব্দুল হামিদ পানি প্রবাহ ব্যাবহার করেন। তিনি এই পদ্ধতির সাথে একটি হাইড্রলিক প্রেস ব্যাবহার করে কাজটিকে আরও সহজ করে তুলবেন।

উৎপাদন খরচ : এই পদ্ধতিটি স্থাপনের জন্যে প্রাথমিক ভাবে এককালীন ৩৫ হাজার টাকা খরচ করতে হবে। তারপরে আর কোন খরচ করার দরকার পড়বে না। চলবে টানা ২০ বছর। এর থেকে বেশি সময় টেকসই হতে পারে।

গ্যাস থেকে বিদ্যুৎ : জমাকৃত গ্যাস দিয়ে জেনারেটর চালিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বাতি জ্বালানো সম্ভব। তাছাড়া ক্ষেতের পানি সেচের মটর চালাতেও এই গ্যাস ব্যাবহার করা যাবে। এমনকি রাতের বেলায়ও জমানো গ্যাস দিয়ে মটর চালানো যাবে বলে জানান গবেষক আব্দুল হামিদ।

প্রতিবন্ধকতা : সেই প্রথম থেকেই নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছেন আব্দুল হামিদ। এখনো সব প্রতিবন্ধকতা দূর করতে পারেননি। তার এই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার থেকে অনুমতি নেয়া দরকার। তিনি নানা জায়গায় ছোটাছুটি করেও অনুমোদন নিতে পারেননি। তাছাড়া তিনি তার অবসর সময়ের পুরোটাই এই পদ্ধতির উন্নয়ন কাজে ব্যয় করছেন। এই নবায়ন যোগ্যশক্তিকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার অথবা কোন প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে আসা দরকার।

বিশেষজ্ঞের মতামত : বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ কৌশল অনুষদের ডীন প্রফেসর ড. আমিনুল হক বলেছেন, যদি পানি থেকে সৌর বিদ্যুতের সহায়তায় বোতল ব্যাবহার করে হাইড্রোজেন গ্যাস উৎপন্ন করে তার সাথে কার্বন মিশ্রণ করে যদি গ্যাস উৎপাদন করা যায় আমি বলব সেটা একটা বৈপ্লবিক আবিষ্কার। আর এটা যদি সত্যিকারেই বাস্তবায়ন করা যায় তাহলে দেশ এবং জনগণের অনেক উপকারে আসবে।

ভিডিও লিংক :

 

ঢাকা, ২৩ জানুয়ারি (ক্যাম্পাসলাইভ২৪.কম)//জেএন